২১ আগস্ট ২০১৮

প্রি য় জ ন পং ক্তি মা লা

-

মো: ওবায়দুল হক
তিন বসন্ত

হাতের তালুতে ঘুরতে থাকা
লাঠিমের সুড়সুড়িতে
বিকেলের ঠোঁটে মৃদু হাসি...
অধর চূড়ায় হারিয়ে দিশা
থেমে গেছে বাতাসের গতি;
কাশফুলের নিরবতা খুলে
দেয় প্রেম দ্বার!
গোধূলির সোনালি রোদ
রাতের হাতছানিতে বিলীন
হতে দেখি রোজ;
কিন্তু দেখি না তোমায় ছাদে আর
নরম আলোয় খোলা এলোচুলে
বিকেল প্রেমী করেছিলে আমায়!
আশায় থাকি শাড়ি চুড়ি পরে
বাসন্তি হয়ে আসবে!
চৈতালি রায়,
তিন বসন্ত খেয়ে ফেলেছ
আজো কথা রাখোনি।

আবদুল কাদের আরাফাত
সেই কৃষ্ণচূড়া

গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে
রিকশায় চড়ে বাসায় ফিরছিলাম,
ভার্সিটির ক্লাস শেষে দু’জনই ক্লান্ত শ্রান্ত
দু’ধারে কৃষ্ণচূড়া দেখে হাসছিলে মিটিমিটি
আনমনা হয়ে তাকিয়ে ছিলে অনেকক্ষণ,
সম্বিৎ ফিরে পেয়ে বললে-
এত ক্লান্তির মাঝেও ফুলের সৌরভ
নিমিষেই মন রাঙিয়ে দিলো।
আচ্ছা, আমি যদি
তোমার জীবনে এমন সৌরভ ছড়িয়ে দেই,
বলেছিলাম-যাহ, কী করে সম্ভব!
দেখতো- রক্তিম ফুলের মাঝে
কোনো বেদনা নেই
সর্বাঙ্গে কেবল উচ্ছ্বাস, উজ্জ্ল
মানব জীবন কী করে এমন হবে?
অভিমানে বলেছিলে- কেন হবে না!
আমার সর্বস্ব দিয়ে সুরভি ছড়াব
যেখানে অস্তিত্বহীন সকল স্বার্থপরতা।
দেখতে দেখতে পাঁচটি বছর কেটে গেল
তুমি গতিপথ পরিবর্তন করেছ,
সোনালি ফ্রেমের মানানসই চশমা
চোখের নিচে কালি পড়েছে কিছুটা।
আজ আবার তোমার সাথে দেখা
সেই কৃষ্ণচূড়া গাছের ধারে,
আজো আগুন ছড়াচ্ছিল লাল ফুল
ইশারায় বললাম-
ফুলগুলো খুব সুন্দর, তাই না?
তুমি কথা দিয়েছিলে -
এমন সুরভি ছড়াবে,
চোখ কুঁচকিয়ে বললে-
সেটা ছিল বালিকাসূলভ চপলতা,
আর এখন যা সেটাই বাস্তবতা।
জবাব দেয়ার প্রয়োজনবোধ করিনি
নির্বাক তাকিয়ে আছি
সেই কৃষ্ণচূড়ার দিকে।

আল ফাতাহ মামুন
বিমান

বিমান,
কষ্ট পেলাম
বিশাল আকাশ
সমান!

বিমান,
ক্রাশের পরেও
দেখা গেলো
ভালোবাসার
প্রমাণ।

দিনতো মাত্র
তেরো
মরার পরই
ভালোবাসা
হলো আরো
গাঢ়ো।


শাহ আলম শেখ শান্ত
কবিতার কান্না

কত যে ধুলোর আচ্ছাদন জমেছে
কবিতার গায়ে
সম্পাদকের মেইলবক্সে ভাইরাস
গিলে খায় ;
হেলায় থাকে পড়ে ময়লার ঝুড়ি ভরে
অনাথ কবিতা
গুনগুন করে কেঁদে চিত্তে যায় এঁকে
কষ্টের সবইতা।
গ্রীষ্মে ঘেমে ছলছল কবিতা
বর্ষায় ভেসে যায়
শীতের দাপটে থরথর কাঁপে
প্রচণ্ড জ্বর ছন্দ মাত্রায়।
ডায়েরি থেকে ভেসে আসে
করুণ কান্নারোল
কবিও স্নান করে অশ্রুজলে,
কী দারুণ ব্যথা পদ্যের জন্মদাতার
কারো ঠাঁই যোগাতে পারে না বলে,
কবিকে কলঙ্ক দহনে পোড়ায়
ঘুরে বেড়ায় পথে পথে।
যদি কোনো পত্রিকা কিংবা
বইয়ের পাতায়
ঠাঁই পায় কোনো লেখা।


রুমান হাফিজ
সুখ ডানা

দ্রুততার সাথে তুমি কাছাকাছি এসেছ
খুব কাছে বসে তুমি প্রাণ খুলে হেসেছ
সুখ, দুঃখ, রাগ ক্ষোভ সবটাই বলেছ
আনমনা হলে পরে কানটাকে মলেছ!
স্বাধীনতা ছিল তাই ইচ্ছাতে চলেছ
আঁধারে ঢাকা মনে আলো হয়ে জ্বলেছ।
মান অভিমান করে দূরে কভু ঠেলেছ
পড়ে যাই ভয়ে তাই সুখ ডানা মেলেছ।

ওয়ালীউল্লাহ
শব্দের ফেরিওয়ালা

শব্দের ফেরিওয়ালা আমি,
কালের প্রবাহের উল্টোদিকে
করি শব্দের ফেরি।
বাহারি শব্দের সমাহার
আছে আমার, কোনোটা
বর্শার চৌকো ফলার মতো,
কোনোটা রুপালি ইলিশের মতো
চকচকে আর তীক্ষè।
আর কিছুু শব্দেরা কেবল
সৌরভ ছড়িয়ে লোকান্তরে
ভালোবাসার পসরা সাজায়।
বছরের পর বছর
যতœ করে চলেছি তাদের
মানুষের কাছে ভালোবাসার
পয়গাম পৌঁছে দেয়ার জন্য।
কলমের ময়দানে এই শব্দেরা
আমার বিশস্ত সঙ্গী।

নবাব আব্দুর রহিম
এক টুকরো বাঁকা চাঁদ

মেয়ে, তোমাকে অতি আধুনিকা
করে চাইব না আমি!
শহুরে উচ্ছৃঙ্খল সমাজের মতো নয়,
চাইবো গাঁয়ের ঢেউ খেলানো
ধানক্ষেতের আল বেয়ে
হেঁটে চলা কিশোরীর ন্যায়।
তোমার মুখের সীমানাজুড়ে
ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির আস্তরণ
চাইব না আমি!
চাইব না কৃত্রিম রঙে ঠোঁট রাঙাও।
গাঢ় অন্ধকার আকাশের মাঝে
এক টুকরো বাঁকা চাঁদ
হলেই আমার চলবে!
তোমাকে নাম না জানা
তারকার মত চাইব না!
চাইব সন্ধ্যেতারার মতোই
উজ্জ্বল - জ্বলবে,
হবে না সবার মতো গতানুগতিক।


আরো সংবাদ