২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

যতেœ থাকুক দাড়ি গোঁফ

-

দাড়িগোঁফ সুন্দর করে বড় করা ও সুন্দর শেপে রাখা কখনোই সহজ কাজ ছিল না পুরুষজাতির জন্য। কারো কারো জন্য তো এসব মেইন্টেইন করা প্রচণ্ড ঝামেলার ব্যাপার। দাড়িগোঁফ বড় করতে গেলে কখনো খুব এলোমেলো দেখায়, কখনো এর শেপ নষ্ট হয়ে যায়। তাই আজ থাকছে কিছু ট্রিপস অ্যান্ড ট্রিক্স দাড়িগোঁফ সামলানোর। লিখেছেন হাসান জয়
প্রথমত, ধৈর্য ধরুন
সুন্দর শেপের দারুণ দাড়িগোঁফের প্রথম রহস্য হলো ধৈর্য। কারণ, দাড়ি সুন্দর শেপ দেয়ার জন্য প্রয়োজন পড়ে দাড়ি বড় করার। প্রথম প্রথম খুব ইচ্ছা হয় খোঁচা খোঁচা দাড়ি একটু ট্রিম করতে বা কোনো একটা শেপে কাটতে। এই ইচ্ছাটাকে হার মানাতেই হবে। দাড়ি বড় করার জন্য ৪-৬ সপ্তাহ সময় দিতে হয়। এই সময়টা দিতে হয় যাতে মুখের সব দাড়িগোঁফ মোটামুটি একটা সমান শেপে আসে, ফলে একটা পছন্দমতো স্টাইল অনুযায়ী দাড়িতে একটা কাট দেয়া যায়। হেলদি লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্যকর ডায়েট দাড়ি তাড়াতাড়ি বড় হতে সাহায্য করে।
জানুন কিভাবে এবং কতদিন পরপর ট্রিম করতে হবে
ভালো একটি ট্রিমার কিনুন। ট্রিম করার টেকনিক শিখে নিয়ে তারপরই ট্রিম করার কাজে হাত দিন। কতদিন পরপর ট্রিম করলে দাড়ির শেপ সুন্দর হবে সেটাও আপনাকেই বের করতে হবে। কারণ সেটা নির্ভর করবে আপনার দাড়ির গ্রোথের ওপর।
দাড়ি পরিষ্কার রাখুন
দাড়ি বেড়ে ওঠার প্রথম ধাপে দাড়ি নিয়মিত ধোয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যা খাবার খাচ্ছেন তার গুঁড়ো দাড়িতে গিয়ে ঢোকে। এ ছাড়াও দাড়ি তার আশপাশের ত্বকের ময়েশ্চার শোষণ করে নেয়, শুষ্ক ত্বকের পাশাপাশি খাবারের কণা আর বাইরের ধুলোময়লা তো আছেই। ফলাফল হিসেবে আপনার দাড়িতে খুশকির জন্ম হয়। এসব কারণে দাড়িতে চুলকানি শুরু হয়। দাড়ি পরিষ্কার করা শুধু দাড়ির জন্যই নয়, দাড়ির নিচের ত্বক সুস্থ রাখার জন্যও দরকার। প্রতিদিন দুইবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে হবে। সপ্তাহে দু’বার দাড়ির নিচের ত্বক স্ক্রাব করাও প্রয়োজন। এতে যেমন ময়লা দূর হয়, ত্বক ভালো থাকে, চামড়ার নিচে লুকিয়ে থাকা দাড়িও বের হয়ে এসে আপনার দাড়ি আরো ঘন হতে সাহায্য করে।
শ্যাম্পু করুন নিয়মিত
দাড়িতে নিয়মিত শ্যাম্পু করা দরকার। আপনাদের সাবধান করে দিতে হচ্ছে যে চুলের জন্য যে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন, দাড়ির জন্য সেই শ্যাম্পু চলবে না কারণ দাড়ি কিন্তু চুলের চেয়ে অনেক বেশি ঘন ও মোটা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও চুলের শ্যাম্পুতে এমন কিছু উপাদান থাকে যা প্রতিদিন দাড়িতে ব্যবহার করলে দাড়ি রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। তাই এমন একটি শ্যাম্পু বেছে নিন যাতে আছে এসেনশিয়াল অয়েল এবং বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, যা আপনার দাড়ির ক্ষতি করবে না।
কন্ডিশনিং করুন
হ্যাঁ। ঠিকই ভাবছেন। দাড়ি কন্ডিশনিং করার কথাই বলছি। শ্যাম্পুর পর যেমনি চুলের কন্ডিশনিং দরকার, দাড়িরও প্রয়োজন কন্ডিশনিং। শক্ত ও অমসৃণ দাড়ি অস্বস্তিদায়ক অনুভূতি দেয়, যার ফলে দীর্ঘদিন দাড়ি রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দাড়ি কন্ডিশনিং করার ফলে তা নরম ও মসৃণ হয়। ফলে আপনার অস্বস্তি কমে যায়, বারবার দাড়ি কামিয়ে ফেলার ইচ্ছা জাগে না। এ ছাড়াও দাড়ির কন্ডিশনার মোটামুটি স্টাইলিং জেলের মতোই কাজ করে, ফলে আপনাকে দেখায় আরো আকর্ষণীয়।
তেল দিন
বেশির ভাগ পুরুষ জীবন কাটিয়ে দেয় মুখমণ্ডল থেকে তেল মুছতে মুছতে। এটা কেমন কথা যে সেই পুরুষদেরই বলা হচ্ছে দাড়িতে তেল দিতে? এটা বলা হচ্ছে কারণ আপনার দাড়ি ও দাড়ির নিচের ত্বকের জন্য তেল প্রয়োজন। দাড়ির জন্য বিভিন্ন ধরনের তেল পাওয়া যায় যাকে বেয়ারড অয়েল বলে। কোনো বেয়ারড অয়েল বেশি ঘন, কোনোটা বেশি পাতলা, কোনোটি আবার বেশি চকচকে। ব্যবহার না করে বোঝা যাবে না কোনটি আপনার জন্য ভালো হবে। তাই আপনাকেই পরীক্ষা করে বের করতে হবে কোন বেয়ারড অয়েলটি আপনার জন্য কার্যকর। বেয়ারড অয়েল দাড়ি এবং দাড়ির নিচের ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে। মনে রাখবেন, বেয়ারড অয়েল এবং বেয়ারড বাম মোটেও এক জিনিস নয়। দুটোকে মিলিয়ে ফেলবেন না। বেয়ারড বাম ব্যবহার হয় দাড়িকে বিভিন্নভাবে স্টাইল করার জন্য। অন্য দিকে, বেয়ারড অয়েল ব্যবহার করা হয় দাড়ির সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য।
ময়েশ্চারাইজ করুন
দাড়ি ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছে ময়েশ্চারাইজ করাও দরকার, তা না হলে চুলের যেমন আগা ফাটে, দাড়িরও আগা ফেটে যায় এবং রুক্ষ হয়ে যায়। একটি অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার আপনার ত্বককে রাখবে সজীব, পাশাপাশি দাড়ির ঘনত্ব ও স্বাস্থ্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
আপনার দাড়িকে ট্রেইনিং দিন
নিয়মিত ট্রিম করে দাড়ি পছন্দসই আকারে রাখা যায়, কিন্তু সেটাই একমাত্র উপায় নয়। প্রতিদিন চিরুনি বা চুলের ব্রাশ দিয়ে নিচের দিকে স্ট্রোক দিয়ে আঁচড়ালেও অবাধ্য দাড়ি সুন্দর শেপে আসে, ডানে, বামে, সামনের দিকে বাড়তে থাকা দাড়ি বাধ্য ছেলের মতো নিচের দিকে বাড়তে শুরু করে। তাই আপনার দাড়ি ট্রেইনিং দিন যেন সে বুঝতে পারে তাকে কোন দিকে বাড়তে হবে।
গোঁফ অবহেলা নয়
দাড়ি আদর যতœ দিয়ে বড় করতে গিয়ে গোঁফের কথা ভুলে যাবেন না। আপনার দাড়ির সাথে গোঁফেও ট্রেইনিং দেয়া জরুরি। নয়তো আপনার মনমতো আকার দিতে গেলে বেয়াড়া গোঁফ আপনার কথা মানবে না। দাড়ির সাথে গোঁফও নিয়মিত ট্রিম করুন। সাধারণত প্রতি ৩-৪ দিনে একবার গোঁফ ট্রিম করা দরকার হয়। নাকের ঠিক নিচের অংশের গোঁফ ঠিকঠাক রাখার জন্য একটি ছোট্ট কাঁচির সাহায্য নিন।
বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হন
যদি খুব বেশি অভিজ্ঞ না হয়ে থাকেন, তাহলে নিজে নিজে বেশি ট্রিমিং করার ভুল করবেন না, এতে হয়তো সাধের দাড়ির সৌন্দর্যই নষ্ট করে ফেলতে পারেন। তাই ভালো হয় যদি মাঝে মধ্যে একজন প্রফেশনাল হেয়ার স্টাইলিস্টের কাছে গিয়ে দাড়ির একটু যতœ করিয়ে আসতে পারেন। এতে করে দাড়ি সঠিক আকারে থাকবে।
ঘন দাড়ি পেতে সঠিক খাবার
আমাদের শরীর দাড়ি তৈরি করে প্রোটিন এবং ফ্যাট দ্বারা। এ ছাড়াও দাড়ির স্বাস্থ্য বহুলাংশে নির্ভর করে ভিটামিন বি৩, বি৫, এবং বি৯ এর ওপর। তার মানে হলো গোশত, বাদাম, ডিমের কুসুম, দুধ এবং সবুজ শাকসবজি খেতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে। এতে করে ঘন ও সুন্দর দাড়ি পাওয়া যাবে। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, আপনার মুখের যে যে অংশে কোনদিন দাড়ি গজায়নি, সেই অংশে দাড়ি গজানো সম্ভব নয়।
দাড়ি ধূসর হয়ে যাওয়া
বিভিন্ন কারণে দাড়ি ধূসর হতে শুরু করে। বয়সের কারণে দাড়ি ধূসর হয়। তাই এটা চিন্তার কোনো কারণ নয়, এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ২০ থেকে ৩০ বছরের পুরুষদের দাড়ি ধুসর হতে শুরু করলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। এ ছাড়াও জেনেটিক কারণে, থাইরয়েডের সমস্যার কারণে, ভিটিলিগো রোগ, ভিটামিনের অভাব, রক্তশূন্যতা ও দুশ্চিন্তার কারণেও চুল দাড়ি ধূসর হয়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই দাড়ি ধূসর হওয়া প্রতিরোধ করার চেষ্টা করতে হবে।
ধূসর হয়ে যাওয়া রোধে যা যা করতে হবে :
হ নিয়মিত সুষম খাবার খেতে হবে। খাবারের স্বাদ নয়, পুষ্টিগুণকে গুরুত্ব দিতে হবে।
হ শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে, এটা দুশ্চিন্তা দূর করতে সহায়ক। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন। সম্ভব হলে অন্যান্য ব্যায়াম করুন।
হ সব অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে।

 


আরো সংবাদ