১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মেয়েরা বাবার বেশি প্রিয়

ফিচার
-

অনেকে বলেন, মেয়েরা নাকি বাবার বেশি প্রিয় হয়, আর বাবারাও নাকি মেয়েদের কাছ থেকেই বেশি আদর পান। কথাটায় যুক্তি হয়তো নেই; কিন্তু খুব একটা ভুলও বোধহয় নেই। এমন মেয়ে খুব কমই আছে, বাবার জন্য যার মনে বিশেষ দুর্বলতা নেই। বাবা যেন তার এক ছোট্ট ছেলে। যাকে সে ভালোবাসে, আবার শাসনও করে। যতœ নেয়, আবার বকুিনও দেয়। আর বাবারা? মেয়ের জন্য জান-জীবন। মেয়ের সুখই যেন বাবার সুখ।
মেয়েটা সারা দিন মহা আনন্দে আছে। অপেক্ষা করছে বাবার জন্য। পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে, বাবাকে দেখিয়ে তবেই তার শান্তি। বাবা ফিরলেন সন্ধ্যার পর। মেয়ে অসীম আগ্রহে বাবার হাতে ধরিয়ে দিলো রিপোর্ট কার্ড। বাবা মনোযোগ দিয়ে দেখে গম্ভীর গলায় বললেন, আরো ভালো করতে পারতে মা।
ছেলেটা ক্রিকেট খেলায় পর পর দুই বলে দু’টি ছক্কা মেরে মহা উত্তেজিত! বাবাকে এলো সে সংবাদ দিতে। বাবা তাচ্ছিল্যের সাথে বললেন, এই তো সেদিন যুবরাজ সিং এক ওভারে ছয়টা ছয় মেরেছে। তুমিও ওভারে ছয়টা ছয় মেরে তারপর আমার সাথে কথা বলতে এসো।
মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্কটা জন্মের আগে থেকেই। সন্তান যখন গর্ভে বেড়ে উঠছে, তখনই মায়ের শরীরে ও অনুভবে সন্তানের অস্তিত্ব। তবে বাবা ধীরে ধীরে সন্তানের কাছাকাছি হন। একটা সময় শিশুও প্রকৃতির নিয়মে বাবার কাছাকাছি হয়। বিশেষ করে বেড়ে ওঠা, কাজ বেছে নেয়ার সময়টাতে বাবার সঙ্গ, বাবার পরামর্শ সন্তানের জীবনের ইতিবাচক গুণাবলিকে প্রগাঢ় করে।
সন্তান যদি মেয়ে হয়, তাহলে তার প্রতি বাবার আচরণ ভিন্ন হয়। মেয়ের বেলায় বাবার ভাষার ব্যবহারও হয় ভিন্ন ধরনের। ছেলে ও মেয়েসন্তানের প্রতি বাবার মনোযোগ ও সতর্কতা ভিন্ন ধরনের। ছেলেসন্তানের বাবারা ছেলের প্রতি যতটুকু মনোযোগী ও যতœবান, তার চেয়ে বেশি মনোযোগী ও যতœবান মেয়েসন্তানের বাবারা মেয়ের ক্ষেত্রে। বাবারা মেয়েদের বেশি গান শোনান, আবেগ নিয়ে বেশি কথা বলেন।
বাবার কাছে সন্তান চায় নির্ভরতা। সন্তানদের দিকে বাবার একটু নজর, তাদের কথাবার্তার বন্ধু হয়ে মিশে যাওয়া, তাদের কাজের ক্ষেত্রে পরামর্শ দেয়া সন্তানের মনে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয়। আর যদি উল্টো হয়, অর্থাৎ বাবার তিরস্কারে যদি বেড়ে ওঠে সন্তান, তাহলে সে আর আত্মবিশ্বাসী হতে পারে না। ফলে ব্যক্তিত্বও গড়ে ওঠে না ।
সন্তান আগ্রহ নিয়ে কিছু বলল, বাবা একেবারেই পাত্তা দিলেন না। বাবা বুঝতেও পারলেন না, এই একটু অবহেলা সন্তানের মনকে করে তুলছে বিষণœ, কাজকে করে তুলছে স্থবির। তার উৎসাহে ভাটা পড়ছে । সন্তানের জন্য বাবা কতটা দরকারি, তা বাবা নিজেই বোঝেন না। যখন বুঝতে পারেন, তখন হয়তো দেরি হয়ে যায়, মনের বন্ধন শিথিল হয়ে যায় সন্তানদের সাথে।
তাই বাবাকে অবশ্যই বন্ধুর মতো হতে হবে। সন্তানের জীবনযাপনে পাশ থেকে বন্ধুর মতো বুদ্ধি-পরামর্শ দিতে হবে। এখনকার বাবারা অনেক বেশি কর্মব্যস্ত সময় কাটান। সারাদিন অফিস করে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরেন কিংবা বাসায় এসেও অফিসের কাজ করেন। সন্তানকে দেয়ার মতো তার কাছে কোনো সময়ই আর থাকে না। ফলে বাবার সাথে সন্তানদের দূরত্ব তৈরি হয়। আর ছোটবেলায় সম্পর্কের যে দূরত্ব সে দূরত্ব পরে পরিণত বয়সেও দূর হয় না। তাই আদর্শ বাবা মাত্রই সন্তানদের সাথে বন্ধুভাবাপন্ন হবেন সেটাই কাম্য।

 


আরো সংবাদ