১৭ নভেম্বর ২০১৮

পোশাকে ঈদুল আজহা রঙের ঝলক

-

ফ্যাশনে নারীরা সব সময় এগিয়ে থাকলেও বর্তমানে ছেলেরাও কিন্তু পিছিয়ে নেই। নানা রঙের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাকের বৈচিত্র্য ফ্যাশনেবল ছেলেমেয়েদের মন কাড়ে সব সময়। আর তাই আমাদের দেশী পোশাক হাউজগুলো কোরবানির ঈদ ঘিরে পসরা সাজিয়েছে বাহারি পোশাকের। ঈদের আনন্দ আর পোশাক-ভাবনা মাথায় এলেই চিন্তা করতে হয় ফ্যাশন, ব্যক্তিত্ব, পোশাকের মান, দাম এবং সর্বোপরি আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি। এবারের কোরবানির ঈদ যেহেতু বর্ষা ও গরমের মধ্যে পড়েছে, তাই ফ্যাশন হাউজগুলো ক্রেতাদের জন্য প্রস্তুত করেছে আবহাওয়া উপযোগী আরামদায়ক পোশাক।
মেয়েদের পোশাক
মেয়েদের পোশাকে রয়েছে সালোয়ার-কামিজ, টপস, শাড়ি, থ্রিপিস, টুপিস, সিঙ্গেল কুর্তি, লং ফ্রক, গাউন, সিঙ্গেল ওড়না, সিঙ্গেল ব্লাউজ, টপস, প্লাজো বা প্যান্ট কাটিং, আনস্টিচ থ্রিপিসসহ নানা ধরনের পোশাক। মেয়েদের পোশাকে রঙের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল রঙগুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। তবে ঋতুর সাথে মিল রেখে কেউ কেউ নীল রঙকে বেছে নিয়েছেন মূল রঙ হিসেবে। এ ছাড়া সাদা, নীল, বেগুনি, অ্যাশ, ডিপ কমলা, অফ-হোয়াইট, মেজেন্ডাসহ বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। পোশাকে কাটিং ও লেন্থে থাকছে নানা বৈচিত্র্য। লং কামিজ ও একটু ঢিলেঢালা ধরনের পোশাক এ বছরে বেশ প্রাধান্য পেয়েছে। ঝুলে থাকছে বিভিন্ন কাট। কামিজের নেক ডিজাইনে হাইনেক, হাফ-হাইনেক, রাউন্ড, স্কয়ার এমন নানা ডিজাইন থাকছে। কামিজের ডিজাইন প্যাটার্নেও থাকছে নানা বৈচিত্র্য। কামিজের সাথে সাথে কুচি দেয়া ফ্রক ডিজাইনও বেশ দেখা গেছে। সালোয়ারের ক্ষেত্রেও একইভাবে রয়েছে বৈচিত্র্যের সমাহার। পালাজ্জো প্রাধান্য পেয়েছে তবে পাশাপাশি চুড়িদার, প্যান্ট ডিজাইন, সালোয়ার, লং স্কার্টও থাকছে কামিজ ও টপসের সাথে। সালোয়ার-কামিজের সাথে সাথে পাশ্চাত্য ডিজাইনের প্রচুর পোশাকও রয়েছে এবারের ঈদ ফ্যাশনে। কখনো কখনো দেশী ও পাশ্চাত্যের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে নারীদের পোশাক।
ছেলেদের পোশাক
ঈদুল আজহায় ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, পায়জামা, শার্ট, কুর্তা, প্যান্ট, টিশার্ট, ফতুয়াসহ নানা ধরনের পোশাক। এবারের কোরবানির ঈদে ছেলেদের পোশাকের প্যাটার্নে খুব একটা পরিবর্তন না এলেও কার্টিংয়ে কিন্তু বেশ পরিবর্তন এসেছে। আর মোটিফের ক্ষেত্রে ফ্লোরাল মোটিফকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কাপড়ের ম্যাটেরিয়াল হিসেবে সুতি, লিলেন, তাঁত প্রভৃতি কাপড়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বর্ষা ও গরমের কথা মাথায় রেখে। ছেলেদের পোশাক তৈরি হয়েছে ইউনিক ফর্ম এবং ওয়েস্টার্ন প্যাটার্নে। শার্টের কাটিংয়েও কিছুটা বৈচিত্র্য রয়েছে। ছেলেদের শার্টের সামনে খাটো এবং পেছনে লং কাট দেখা যাবে। একই সাথে শার্টের ওপর আউটার ওয়ার স্টাইল যুক্ত হয়েছে, যা কোটির মতো দেখা যাবে। প্রয়োজনে কোটিটি খুলেও রাখা যাবে আবার পরাও যাবে। ছেলেদের পোশাকেও মোটিফ হিসেবে ফ্লোরাল মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে। রঙের ক্ষেত্রে ছেলেদের পোশাকেও উজ্জ্বল রঙকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নীল, বেগুনি, হালকা কমলা অফ-হোয়াইট, মেজেন্ডাসহ বেশ কয়েকটি কালার; যা আবহাওয়া উপযোগী। রঙ আর আকর্ষণীয় ডিজাইনে এবারের ঈদে ছেলেদের পোশাকে রয়েছে মনকাড়া বৈচিত্র্যের ছোঁয়া।
দেশের খ্যাতিমান ফ্যাশন হাউজ নিপুণের কর্ণধার আশরাফুর রহমান ফারুখ ঈদ ফ্যাশন সম্পর্কে বলেন, এবারে মেয়েদের ঈদ পোশাকের প্যাটার্নে খুব একটা পরিবর্তন হচ্ছে না। ওয়েস্টার্ন ধাঁচেই পোশাক তৈরি করা হয়েছে। তবে কাটিং ও ডিজাইনে ভিন্নতা থাকছে। বিশেষ করে আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হচ্ছে ঈদের পোশাক। মেয়েদের ঈদের পোশাক হিসেবে থাকছে সালোয়ার-কামিজ, টপস, কুর্তি, সিঙ্গেল কামিজসহ নানা ধরনের পোশাক। ঈদের পোশাকে প্রাধান্য পেয়েছে উজ্জ্বল রঙগুলো। একই সাথে কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কটন, লিলেন, ভয়েল, কটন ও তাঁত। প্যাটার্নে নেক লাইন, স্লিপ ডিজাইন, কামিজের ঘের এগুলোতে কিছুটা পরিবর্তন থাকবে। পোশাকে মোটিফ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ফ্লোরাল। এমব্রয়ডারি, ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, হাতের কাজ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে এবারের পোশাকে ডিজাইন ফুটিয়ে তুলতে। কামিজে কোটি ও কুচি রয়েছে। বিশেষ করে হাতায় নানা পরিবর্তন করা হয়েছে। ফুলস্লিভ বা শর্ট হাতায় বিভিন্ন স্টাইল রয়েছে। এ ছাড়া, হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, মেশিন এমব্রয়ডারি, টাইডাই, স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লকপ্রিন্ট ও হাতের বৈচিত্র্য ডিজাইন সবার নজর কাড়বে।
ফ্যাশন হাউজ অ্যাম্ব্রেলার উপদেষ্টা এমদাদ সুমন বলেন, ঈদে ছেলেদের ক্ষেত্রে পাঞ্জাবির চল সব সময়ই থাকে। তবে এবার ভিন্নধর্মী কিছু পাঞ্জাবি ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটা যেহেতু কোরবানির ঈদ, তাই পাঞ্জাবির পাশাপাশি ছেলেদের ক্যাজুয়াল পোশাকের দিকে বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে শার্টের কাটিং ও কাপড়ে বেশ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কেননা, বর্ষা আর গরমের কথা মাথায় রেখেই এবারের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। তাই বলা যায়, ছেলেদের পোশাকে কিছুটা বৈচিত্র্য এসেছে। পোশাকে রঙের ক্ষেত্রে এক কালার ও গাঢ় রঙের প্রাধান্য পেয়েছে। তবে এক কালারের পাশাপাশি স্ট্রাইপ ও ছোট ছোট চেকের প্রাধান্য থাকবে ক্যাজুয়াল পোশাকে। এ ছাড়া বৈচিত্র্য এসেছে কলারের শেডে। আর গরমে কাপড়কে আরামদায়ক রাখতে নরমাল বা গার্মেন্ট ওয়াশ করা হচ্ছে।
দরদাম : মেয়েদের সিঙ্গেল কামিজ এক হাজার ৫০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা এবং থ্রিপিস পাবেন এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে চার হাজার ৫০০ টাকায়। ছেলেদের সব ধরনের পাঞ্জাবি ৯৯০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। আর শার্ট ও প্যান্টের ক্ষেত্রে এক হাজার ২০০ টাকা থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায় পাওয়া যাবে।
কোথায় পাবেন : নিপুণ, অঞ্জন’স, অ্যাম্ব্রেলা, লা’রিভ, রঙ বাংলাদেশ, গ্রামীণ মেলা, কাপড়-ই-বাংলাসহ যেকোনো ফ্যাশন হাউজের শোরুমে। এ ছাড়াও শাহাবাগ আজিজ সুপার মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, গুলিস্তান, নিউমার্কেটসহ রাজধানীর যেকোনো মার্কেটে।

 


আরো সংবাদ