১৬ নভেম্বর ২০১৮

ঘরে বসে খেলা

  রঙের ফিচার
-


কিশোর বয়সী সন্তানদের নিয়ে মা-বাবাদের এমনিতেই চিন্তা বেশি থাকে। কারণ এই বয়সীদের মধ্যে আবেগ একটু বেশি থাকে। ভালো-মন্দ তেমন বুঝতে পারে না। ফলে সহজেই চাকচিক্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
আজকাল কিশোর বয়সীরা মোবাইল ফোনে অতিমাত্রায় আসক্ত থাকে আর এ নিয়ে চিন্তিত থাকেন অভিভাবকেরা। অতিমাত্রায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করাটা একজন পরিপূর্ণ মানুষের জন্য যতটা ক্ষতিকর তার থেকে অনেক বেশি ক্ষতিকর হচ্ছে শিশু-কিশোরদের জন্য। কম বয়সের মানুষ এক মিনিট ফোনে কথা বললে মস্তিষ্কে যে কম্পন সৃষ্টি হয় সেটা স্থির হতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। তাই মোবাইল ফোন থেকে যতটা দূরে রাখা যায় শিশু কিশোরদের ততই মঙ্গল।
মার্কিন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১১ বছরের শিশুদের প্রত্যেক ১০০ জনের মধ্যে ৭০ জনই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। বাংলাদেশে এটা নিয়ে গবেষণা না করলেও সংখ্যাটা একেবারে কম হবে না নিশ্চয়ই। আমাদের দেশে বেশির ভাগ কিশোর বয়সী ছেলেমেয়েরা মোবাইল ফোন নিয়ে নাড়াচাড়া করে অর্থাৎ কেউ ইন্টারনেটে থাকে আবার কেউ মোবাইলে গেমস খেলে। এতে তারা শারীরিক-মানসিক দিক দিয়ে প্রতিনিয়ত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এ ব্যাপারে তারা প্রায় উদাসীন। বিশেষজ্ঞদের মতে শিশু-কিশোরদের হাতে আসলে মোবাইল দেয়া একেবারেই উচিত নয়। মোবাইল ফোন শিশুদের জন্য অসম্ভব ক্ষতির কারণ হতে পারে এতে কোনো সন্দেহ নেই। শিশু-কিশোরদের এ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে অভিভাবকদের ভাবতে হবে সবার আগে, আর এ থেকে পরিত্রাণের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ব্লু হোয়েল গেমস সম্পর্কে সবাই কমবেশি জানি। ব্লু হোয়েল গেমসে আসক্ত হয়ে কয়েকজন কিশোর আত্মহননের পথ পর্যন্ত বেছে নিয়েছে। অথচ বাবা-মাকে অতি যতেœ গড়া সেই আদরের সন্তানের এমন করুন পরিণতি চোখের সামনে দেখতে হয়েছে। অনেকে মোবাইলের অন্য গেমসগুলোতে আসক্তি হয়ে লেখাপড়া বাদ দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় পার করছে। এ নিয়ে সন্তানের সাথে অভিভাবকদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েনের সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ সন্তানের হাতে একটি অত্যাধুনিক মোবাইল ফোন দেয়ার আগে এর কুফল সম্পর্কে একটু সচেতনেতা থাকলে অবশ্যই মোবাইল ফোনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতো।
ইনডোর ও আউটডোরে আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই নানা ধরনের খেলার প্রচলন রয়েছে। যেগুলো যুগ যুগ ধরে টিকে রয়েছে আমাদের দেশে। এসব খেলা সহপাঠীদের কিংবা বন্ধুদের নিয়ে খেলা যায় আবার কিছু খেলা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেলা যায়। ফুটবল ও ক্রিকেটের জন্য আউট ডোরের প্রয়োজন। প্রতিটি এলাকায় কমবেশি খেলার মাঠ রয়েছে। রুটিনমাফিক ও শৃঙ্খলার সাথে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা গেলে শারীরিক গঠনে ভূমিকা রাখবে, তেমনি মানসিকভাবেও বুদ্ধিবৃত্তি ঘটবে। তা ছাড়া, কিশোর বয়সে সন্তানকে ঘরের মধ্যে বন্দী না রেখে বাইরের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে শেখালে পরবর্তীতে তার জন্য সহজ হয়।
ইনডোরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেলা যায় দাবা, লুডু, ব্যাটমিন্টন ক্যারম ইত্যাদি। এসব খেলাও মেধা বিকাশে সহায়তা করে। কিশোর বয়সী সন্তানের সাথে অবসর সময়ে এ ধরনের খেলায় অংশ নিলে অবসর সময়ও কাটে, অন্য দিকে নিজের ঘরে এ ধরনের খেলার চর্চার মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার ও আচরণ শিখতে পারবে। তাদের জন্য পরিবারই হচ্ছে ভালো কিছু শেখার ভালো মাধ্যম। সন্তানের আচার-আচরণ ঠিকমতো হচ্ছে কি না এ বিষয়ে বাবা মাকে রাখতে হবে নজরদারি। তাই আপনার সন্তানের জন্য যা কিছু ভালো তা আপনাকে সবার আগে বুঝতে হবে এবং সে অনুযায়ী শিক্ষা দিতে হবে আবার যা কিছু মন্দ তা আপনার মাধ্যমেই পরিহার করাতে হবে।

 


আরো সংবাদ