২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শনির আরো পাঁচ চাঁদ!

শনির বলয়ে লুকিয়ে ছিল এ পাঁচ চাঁদ - ছবি : সংগৃহীত

নাসার মহাকাশযান ‘ক্যাসিনি’ শনি গ্রহের আরো পাঁচটি চাঁদের খোঁজ দিয়েছে। নাসা জানিয়েছে, চাঁদগুলো শনির একটি বলয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকায় সেগুলো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

দুই বছর আগে শনির বলয়ে ঢুকে পড়েছিল নাসার মহাকাশযান ‘ক্যাসিনি’। সেখানে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুঘণ্টা বাজে তার। কিন্তু তার এ মৃত্যু একেবারে বৃথা যায়নি। মৃত্যুর আগে শনিবর বরফ মোড়া বলয়গুলোতে চিরুনি অভিযান চালিয়েছিল ক্যাসিনি। এ সময়ের তার নজরে পড়ে শনির কয়েকটি বলয়ের তলায় লুকিয়ে রয়েছে পাঁচটি চাঁদ। যেগুলি পুরোপুরি বরফে মোড়া।

ক্যাসিনি তখন সেগুলোর ছবি ও তথ্য পাঠিয়েছিল। সম্প্রতি সেগুলো খতিয়ে দেখে নাসার বিজ্ঞানীরা সুনিশ্চিত হয়েছেন শনির বলয়গুলির আড়ালো থাকা ওই মহাজাগতিক বস্তুগুলি আসলে শনির চাঁদই। তাদের এ বিষয়ক গবেষণাপত্রটি গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ।

প্রতিবেদনে গবেষকরা জানান, ক্যাসিনির পাঠানো ছবিতে পাঁচটি চাঁদ স্পষ্ট হয়েছে। তাদের নাম দেয়া হয়েছে- ‘প্যান’, ‘অ্যাটলাস’, ‘ড্যাফনিস’, ‘প্রমিথিউস’ ও ‘প্যান্ডোরা’।

পাঁচটির মধ্যে যে দুটি চাঁদ শনির বলয়ের খুব কাছাকাছি, সেগুলোর পিঠ বেশি এবড়োখেবড়ো আর আকারে অনেকটা ডিম বা লম্বাটে আলুর মতো। ওই দুটি চাঁদের নাম ড্যাফনিস ও প্যান। অন্যগুলো বরফে ঢাকা। বাকি তিন চাঁদ- ‘অ্যাটলাস’, ‘প্রমেথিউস’ ও ‘প্যান্ডোরা’ রয়েছে শনির বলয়গুলো থেকে কিছুটা দূরে শনির একটি বড় চাঁদ এনসেলাডাসের কাছাকাছি, সেগুলির শরীর আবার গড়ে উঠেছে একেবারেই অন্যভাবে।

গবেষকরা আরো বলেন, শনির ‘এ’ ও ‘এফ’ বলয়ের মধ্যে থাকা বলয় বা এলাকাগুলোতে লুকিয়ে থাকা যে দু’টি চাঁদ (ড্যাফনিস ও প্যান) এত দিন আমাদের চোখে ধরা দেয়নি, তাদের রং লালচে। অনেকটাই তাদের কাছাকাছি থাকা শনির বলয়গুলির রঙের মতো। আর দূরে থাকা তিনটি চাঁদ- ‘অ্যাটলাস’, ‘প্রমেথিউস’ ও ‘প্যান্ডোরা’ নীলাভ। এনসেলাডাস থেকে বেরিয়ে আসছে বরফের যে ধোঁয়া, তার রংও নীলাভ!

 

আরো পড়ুন : একটা নয়, পৃথিবীর চারপাশে রয়েছে তিনটি চাঁদ
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:৫৮

একটা নয়। তিন তিনটে চাঁদ রয়েছে পৃথিবীর। একটি চাঁদ আমাদের চোখে দৃশ্যমান। বাকি দু’টি চাঁদের অস্তিত্ব নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। গত ৫০ বছর ধরে তা চললেও অবসান হয়নি বিতর্কের। চাঁদের সংখ্যা ও তাদের অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সম্প্রতি এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি। তা থেকে জানা গেছে, হাঙ্গেরির মহাকাশচারী ও পদার্থবিদরা অপর দুই চাঁদের অস্তিত্বের স্বপক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ পেশ করেছেন। এই দু’টি চাঁদই সম্পূর্ণ ধূলিকণা দিয়ে তৈরি বলে জানিয়েছেন হাঙ্গেরির মহাকাশচারী ও পদার্থবিদরা। মান্থলি নোটিসেস অফ দি রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটিতে এই রিপোর্ট প্রকাশিতও হয়েছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন আগেই এই ‘ডাস্ট মুন’ বা ‘কোর্দিলিউস্কি ক্লাউড’-এর অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছিলেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। ১৯৬১ সালে প্রথম এই ‘ডাস্ট মুন’ নজরে আসে পোল্যান্ডের মহাকাশচারী কাজিমিয়ের্জ কোর্দিলিউস্কির। তার নামেই এর নামকরণ করা হয়। সাম্প্রতিক তথ্য থেকে জানা গেছে, প্রত্যেকটি কোর্দিলিউস্কি ক্লাউড ১৫/১০ ডিগ্রি চওড়া। রাতের আকাশে তা ৩০/২০ লুনার ডিস্কের সমান।

পৃথিবীর মাপের প্রায় ৯ গুণ বিস্তৃতি নিয়ে মহাকাশের বুকে অবস্থান করছে এক একটি ডাস্ট মুন। আকারে বিরাট হলেও ডাস্ট মুনদু’টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধূলিকণা দিয়ে তৈরি বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। যখন সূর্যের আলো এই দুই চাঁদের উপর পড়ে, তা খুব হালকাভাবে প্রতিফলিত হয়। পৃথিবীর এই দুই উপগ্রহ থেকে প্রতিফলিত হওয়া আলো এতটাই দুর্বল যে অন্য নক্ষত্রদের আলোয় তা হারিয়ে যায়।

সাম্প্রতিক তথ্য থেকে আরো জানা গেছে, এই দুই ডাস্ট মুনের অস্তিত্ব বুঝতে ক্যামেরার উপর বিশেষ পোলারাইজড ফিল্টার লাগানো হয়েছিল।


আরো সংবাদ