film izle
esans aroma Umraniye evden eve nakliyat gebze evden eve nakliyat Ezhel Şarkıları indirEzhel mp3 indir, Ezhel albüm şarkı indir mobilhttps://guncelmp3indir.com Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব

মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব - ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব জগতের দু’টি সত্তা- স্র্রষ্টা ও সৃষ্টি। যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তিনি স্রষ্টা। আর বাকি সব তাঁর সৃষ্টি। যিনি সৃষ্টি করেন, তিনিই নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিপালন করেন। সব সৃষ্টি স্র্রষ্টার নিয়ন্ত্রণাধীন। একটি নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে স্রষ্টা সব সৃষ্টিকে সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। এ নিয়মকে প্রাকৃতিক নিয়ম (খধি ড়ভ ঘধঃঁৎব) বলা হয়। কোনো সৃষ্টিই এ প্রাকৃতিক নিয়মের বাইরে নয়। সব সৃষ্টিকে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় এ নিয়ম মেনে চলতে হয়। এটিই স্র্রষ্টার বিধান।

মানুষ স্রষ্টার সেরা সৃষ্টি। মানুষের জন্যও স্র্রষ্টার নিয়ম রয়েছে। তবে এ নিয়ম মানার ক্ষেত্রে মানুষের একটি স্বাধীনতা রয়েছে। মানুষ ইচ্ছা করলে এ নিয়ম মেনে চলতে পারে, ইচ্ছা করলে অমান্য করতে পারে। তবে স্র্রষ্টার নিয়ম মানা আর না মানার পরিণাম কখনো এক নয়। নিয়ম মানলে যেমন পুরস্কার রয়েছে, না মানলে তেমনি শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এটিই স্র্রষ্টার বিধান। যেকোনো বিবেচনায় এটা একান্ত ন্যায় ও যুক্তিসঙ্গত।

অন্য সব সৃষ্টির নিয়ন্ত্রণের জন্য যে বিধান রয়েছে, সেটাকে বলা হয় প্রাকৃতিক নিয়ম বা বিধান। মানুষের জন্য যে বিধান প্রদত্ত হয়েছে, স্রষ্টার দেয়া পরিভাষা অনুযায়ী তার নাম ইসলাম। ইসলাম অর্থ শান্তি। এর অন্য অর্থ স্রষ্টার প্রতি অনুগত বা নিঃসংশয় আত্মসমর্পণ। স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মনের মধ্যে এক ধরনের প্রশান্তি আসে। স্র্রষ্টার আনুগত্য বা নির্দেশানুযায়ী জীবনযাপন করলে ব্যক্তিগত জীবনে যেমন শান্তি-শৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তেমনি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তথা এ বিচরণশীল পৃথিবীতে সর্বত্র শান্তিশৃঙ্খলা স্থাপিত হয়। জীবনে, সমাজে তথা সমগ্র পৃথিবীতে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই মহান স্র্রষ্টা মানুষের জন্য ইসলামের এ শ্বাশত বিধান নাজিল করেছেন।

ইসলামকে বলা হয় ফিতরাতের ধর্ম। ‘ফিতরাত’ অর্থ স্বভাব বা সহজাত। অর্থাৎ মহান স্র্রষ্টা, যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তিনিই মানুষের স্বভাব বা সহজাত প্রবণতা সম্পর্কে সম্যক অবহিত। এ কারণে তিনি মানুষের স্বভাব ও সাধ্য অনুযায়ী বিধান তৈরি করেছেন। আল্লাহ্ কারো প্রতি জুলুম করেন না, মানুষকে সাধ্যাতীত কোনো ভার বহন করতে বলেন না। এ সম্পর্কে আল্লাহর ঘোষণা- ‘আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত ভার অর্পণ করি না। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই জান্নাতবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে’ (সূরা আরাফ, আয়াত-৪২)।

আল্লাহ মানুষের জন্য যে বিধান তৈরি করেছেন, তা প্রত্যেক মানুষের পক্ষে পালন করা যেমন সহজ, তেমনি তা পালন করলে তাতে মানুষেরই কল্যাণ। পালন না করলে মানুষের অকল্যাণ। মানুষ সে বিধান পালন করে কল্যাণপ্রাপ্ত হলে অথবা বিধান অমান্য করে অকল্যাণ ডেকে আনলে, স্র্রষ্টার তাতে কোনো লাভ বা ক্ষতি নেই। তবে স্রষ্টা অবশ্যই সৃষ্টির কল্যাণ কামনা করেন, যেমন মা তার সন্তানের কল্যাণে আনন্দবোধ করেন। সৃষ্টির প্রতি স্র্রষ্টার মহব্বত আরো বেশি। সে জন্য সৃষ্টির কল্যাণ কামনায় তিনি প্রত্যেক সৃষ্টির জন্য নিজ নিজ বিধান তৈরি করেছেন।

স্রষ্টা মানুষের জন্য তৈরি তাঁর বিধানকে ‘সরল পথ’ বলে উল্লেখ করেছেন। পৃথিবীতে অনেক পথ আছে। তার মধ্যে সরল পথ একটাই। সরল পথ সবাই পছন্দ করে। কারণ সহজে ও স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে সরল পথ অবলম্বন করার বিকল্প নেই। পৃথিবীতে অসংখ্য মত-পথ ও বিধান রয়েছে, তার মধ্যে একমাত্র ইসলাম হলো সরল পথ। কারণ এটা স্বয়ং স্র্রষ্টা প্রদত্ত। আল্লাহ বলেন- ‘এ পথই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করবে এবং বিভিন্ন পথ অনুসরণ করবে না, করলে তা তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা সাবধান হও’ (সূরা আনআম, আয়াত-১৫৩)।

এ সরল পথ মহান স্রষ্টা অতি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এভাবে- ‘বলো, ‘আসো, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তোমাদেরকে তা পড়ে শোনাই। তা এই যেÑ ‘তোমরা তাঁর কোনো শরিক করবে না, মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে, দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, আমি তোমাদের ও তাদের রিজিক দিয়ে থাকি। প্রকাশ্যে অথবা গোপনে অশ্লীল কাজের কাছেও যাবে না। আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতীত তোমরা তাকে হত্যা করবে না।’ তোমাদেরকে তিনি এ নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা অনুধাবন করো। ইয়াতিম বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উত্তম ব্যবস্থা ব্যতীত তোমরা তার সম্পত্তির নিকটবর্তী হবে না এবং পরিমাণ ও ওজন ন্যায্যভাবে পুরাপুরি দেবে। আমি কাউকে তার সাধ্যাতিত ভার অর্পণ করি না। যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ন্যায্য বলবে- স্বজনের সম্পর্কে হলেও এবং আল্লাহকে প্রদত্ত অঙ্গীকার পূর্ণ করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো’ (সূরা আনআম, আয়াত- ১৫১-১৫২)।

উপরোক্ত দু’টি আয়াতে মহান স্র্রষ্টা অতি সংক্ষেপে মানুষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন- ১. আল্লাহর সাথে কারো শরিক না করা, ২. মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করা, ৩. দারিদ্র্যের ভয়ে সন্তানকে হত্যা না করা, কারণ সব সৃষ্টির রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ, ৪. প্রকাশ্যে অথবা গোপনে অশ্লীল কাজের নিকটবর্তীও না হওয়া, ৫. পরিমাণ ও ওজনে কমবেশি না করা, ৬. স্বজনদের বিরুদ্ধে গেলেও সর্বদা ন্যায্য কথা বলা, ৭. অঙ্গীকার পূর্ণ করা।

মানুষের প্রতি মহান স্র্রষ্টা উপরোক্ত নির্দেশগুলো প্রদানের পর বলেন, ‘আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত ভার অর্পণ করি না’। একটু চিন্তা করলেই সহজে উপলব্ধি করা যায় যে, স্র্রষ্টার উপরোক্ত নির্দেশগুলো পালন করা কোনো মানুষের জন্যই কঠিন কাজ নয়। বরং উপরোক্ত নির্দেশগুলো পালনের ফলে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক প্রভৃতি সব ক্ষেত্রে ন্যায্যতা, শান্তিশৃঙ্খলা স্থাপিত হতে বাধ্য। জীবনে ও সমাজে এরূপ ন্যায্যতা-শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাই ইসলামের মূল লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে স্বয়ং স্রষ্টার পক্ষ থেকে। তাই এটা যে নির্ভুল, তাতে সন্দেহ নেই।
উপরোক্ত নির্দেশাবলির ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আল্লাহ নিম্নোক্ত কয়েকটি আয়াত নাজিল করেছেন : বলো, ‘আমার প্রতিপালক তো আমাকে সৎপথে পরিচালিত করেছেন। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, ইবরাহিমের ধর্মাদর্শ, সে ছিল একনিষ্ঠ এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না’ বলো, ‘আমার সালাত, আমার ‘ইবাদত’ আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম’। বলো, ‘আমি কি আল্লাহকে ছেড়ে অন্য প্রতিপালককে খুঁজব? অথচ তিনিই সব কিছুর প্রতিপালক। প্রত্যেকে স্বীয় কৃতকর্মের জন্য দায়ী এবং কেউ অন্য কারো ভার গ্রহণ করবে না। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন তোমাদের প্রতিপালকের নিকটেই, তৎপর যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করতে তা তিনি তোমাদের অবহিত করবেন’ (সূরা আনআম, আয়াত-১৬১-১৬৪)।

উপরোক্ত আয়াতগুলো মহান স্র্রষ্টা তাঁর একত্ববাদের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ব্যতীত অন্য কোনো স্র্রষ্টা ও প্রতিপালক নেই। অতএব, ইবাদত-বন্দেগি একমাত্র তাঁর উদ্দেশ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয়। জীবনে শান্তি লাভ ইবাদতের অভীষ্ট লক্ষ্য। আল্লাহর নির্দেশ পালন অর্থাৎ সরল পথ অবলম্বন করে ইহ ও পরকালীন জীবনে শান্তি লাভ সম্ভব। আল্লাহ বলেন- ‘আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন’ (সূরা ইউনুস, আয়াত-২৫)।

আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনকারীকে বলা হয় মুসলিম। ‘মুসলিম’ শব্দের অর্থ অনুগত। আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনকারীকে মুসলিম বলা হয়। প্রত্যেকের স্রষ্টা আল্লাহ এবং সবাইকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছেই ফিরে যেতে হবে। সেদিন যে যার কর্মফল ভোগ করবে। জীবনের এ সহজ পরিণতির কথা আমরা সবাই অবগত। তবু মানুষ নিজেদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করে সমাজে অনর্থ ঘটায়। ইসলামের সরল পথ অনুসরণ করে মানুষ এ সব অনর্থ ও বিশৃঙ্খলা থেকে সহজেই মুক্ত থাকতে পারে। আর সব অন্যায়, অসত্য, অকল্যাণ ও বিশৃঙ্খলা দূর করে জীবন ও সমাজকে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল করার দায়িত্ব মানুষের। এ জন্য মানুষকে আল্লাহ পৃথিবীতে স্রষ্টার খলিফা বা প্রতিনিধি রূপে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ বলেন- ‘তিনিই তোমাদের দুনিয়ায় প্রতিনিধি করেছেন এবং যা তিনি তোমাদের দিয়েছেন সে সম্বন্ধে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে তোমাদের কতককে কতকের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। তোমার প্রতিপালক তো শাস্তি প্রদানে দ্রুত আর তিনি অবশ্যই ক্ষমাশীল, দয়াময়’ (সূরা আনআম, আয়াত-১৬৫)।

প্রতিনিধির দায়িত্ব তার নিয়োগকর্তার নির্দেশ হুবহু পালন করা। মানুষকে আল্লাহ জমিনে তাঁর প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছেন, পৃথিবীতে তাঁর হুকুম-নির্দেশ বা বিধান অনুযায়ী চলে পৃথিবীকে সুন্দর ও বাসোপযোগী করে তোলার জন্য। শুধু মানুষের জন্য নয়, পৃথিবীর সব সৃষ্টি, পরিবেশ, প্রকৃতি ইত্যাদি সব কিছুর জন্যই পৃথিবীকে শান্তিপূর্ণ আবাসস্থলে পরিণত করা মানুষের দায়িত্ব। এ জন্য মানুষকে আল্লাহ উপযুক্ত জ্ঞান-বিবেক-বুদ্ধি-প্রজ্ঞা ও যোগ্যতা দান করেছেন, যা অন্য কোনো সৃষ্টিকে দেয়া হয়নি। অন্য সব সৃষ্টির উপরে এখানেই মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব।
লেখক : শিক্ষাবিদ ও গবেষক


আরো সংবাদ

চীনে এবার কারাগারে করোনাভাইরাসের হানা তালেবানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি ২৯ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে শনিবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ সিনেটর গ্রাসলির মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস ঢামেক কর্মচারীদের বিক্ষোভ সরকারি হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধের দাবি খালেদা জিয়ার সাথে স্বজনদের সাক্ষাৎ গাজীপুরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গার্মেন্টস কর্মী খুন বনশ্রীতে ভাড়াটিয়ার বাসায় চুরি কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় জাতীয় হ্যান্ডবল দলের খেলোয়ার নিহত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকে বাধ্য করতে হবে সবুজ আন্দোলন অমর একুশে উপলক্ষে জাতিসঙ্ঘের বাংলা ফন্ট উদ্বোধন

সকল