১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

হজযাত্রীদের ৪০ শতাংশ ষাটোর্ধ্ব

হজযাত্রী
হজযাত্রীদের ৪০ শতাংশ ষাটোর্ধ্ব - ছবি : নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশী হজযাত্রীদের প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ষাটোর্ধ্ব। অর্ধেকের বেশি হজযাত্রীর বয়স ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। অতি বয়স্ক হওয়ার কারণে বাংলাদেশী হজযাত্রীদের অনেকেই হজে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন কিংবা হজের কার্যাদি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হন। একই কারণে প্রতি বছরই হজের সময় গড়ে ১০০ জনের হজে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ৯৪ জন হজযাত্রী মারা গেছেন। যাদের প্রায় সবাই ষাটোর্ধ্ব। 

ধর্ম মন্ত্রণালয় নিয়োজিত আইটি প্রতিষ্ঠান বিজনেস অটোমেশন সূত্রে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বছর হজযাত্রীদের মধ্যে ৩৪ ভাগ হজযাত্রীর বয়স ষাটোর্ধ্ব। অন্য দিকে ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হজযাত্রীর সংখ্যা ৫৩ শতাংশ। আর ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী হাজী ১২ ভাগ। ১৮ বছরের নিচে রয়েছে ১ শতাংশ। আবার হজযাত্রীদের মধ্যে পুরুষ হজযাত্রী ৬৩ শতাংশ এবং মহিলা ৩৭ শতাংশ।

এ বছর বাংলাদেশী হজযাত্রীর সংখ্যা সর্বমোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, হজযাত্রীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের হজযাত্রীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ২৩ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগের ১৫ শতাংশ, খুলনা বিভাগের ৮ শতাংশ, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৭ শতাংশ করে, বরিশাল বিভাগের ৫ শতাংশ এবং সিলেট বিভাগের ২ শতাংশ। এবার যারা হজে গেছেন তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী ৪০ শতাংশ, গৃহিণী ৩৪ শতাংশ, চাকারজীবী ৯ শতাংশ, কৃষক ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য পেশার ১১ শতাংশ। 

হজসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিসংখ্যানে পাসপোর্টে ব্যবহৃত বয়সসীমা ধরা হয়েছে। এটি অনেকের প্রকৃত বয়স নয়। প্রকৃত বয়স তার চেয়েও বেশি। সেই হিসাবে ৪১ থেকে ৬০ পর্যন্ত যাদের বয়সসীমা তাদেরও বড় একটি অংশের বয়স ষাটের ওপরে। ফলে ষাটোর্ধ্ব হজযাত্রীর সংখ্যা ৪০ ভাগেরও বেশি হতে পারে।
হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের হজযাত্রীদের ক্ষেত্রেই বেশি বয়সে হজ করার প্রবণতা বেশি। অন্য দিকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের হজযাত্রীদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব হজযাত্রীর সংখ্যা অনেক কম। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৭ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশী হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ জন করে। ২০১৬ সালে ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন, ২০১৫ সালে ১ লাখ ৬ হাজার ২৩৮, ২০১৪ সালে ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন, ২০১৩ সালে ৮৯ হাজার ১৯০ জন, ২০১২ সালে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬০ জন, ২০১১ সালে ১ লাখ ৭ হাজার ৩৭২ জন। তার আগের বছরগুলোতে হজযাত্রীর সংখ্যা এক লাখের কম করে ছিল। ২০০১ সালে ছিল ৪৩ হাজার ৩৫৮ জন। ২০০৯ সাল পর্যন্ত সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি ছিল। তবে ২০১০ সালে হজযাত্রী আগের বছরের ৫৮ হাজার ৬৭৮ জন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯১ হাজার ৩৮৪ জন হয়। ইতঃপূর্বে অনলাইন ডাটা না থাকার কারণে হজযাত্রীদের বয়সসহ অন্যান্য পরিসংখ্যানের ডাটা সংরক্ষিত নেই। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশী হজযাত্রীদের বয়সের পরিসংখ্যান অতীতেও এমই ছিল। 

বাংলাদেশ বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত হজ এজেন্সিগুলোর মালিকদের অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে হজ করার প্রবণতা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। অনেকে চাকরি জীবন থেকে অবসর নেয়ার পরই হজ করে থাকেন। আবার অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবেই বিলম্বে হজ করেন। 
এ ব্যাপারে হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, হজের সাথে আর্থিক সামর্থ্যরে শর্তটি প্রধান শর্ত হলেও হজ কিন্তু একটি শারীরিক ইবাদাতও। কারণ হজের প্রতিটি কাজেই শ্রমের বিষয় আছে। যাদের শারীরিক সামর্থ্য কমে আসে তাদের পক্ষে হজের দিনগুলোতে যে ধকল যায় তা সহ্য করা অনেক কঠিন হয়। তিনি বলেন, অনেক সময় বয়স্ক হাজীদের নিয়ে এজেন্সিগুলোকেও বিপাকে পড়তে হয়। 

ইসলামী বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, আর্থিক সামর্থ্য হওয়ার পর শারীরিক সামর্থ্য থাকা অবস্থায় হজ পালন করা উচিত। জীবনে শেষ পর্যায়ে এসে হজ পালনের ক্ষেত্রে হজের কার্যাদি যথাযথ সম্পন্ন করা অনেকের পক্ষে সম্ভবপর হয়ে ওঠে না।

এ দিকে গতকাল পর্যন্ত সৌদি আরবে মোট ৯৪ জন হজযাত্রী হজের আগে ও পরে মারা গেছেন। তাদের প্রায় সবার বয়সই ষাটোর্ধ্ব। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে মারা যান নজরুল হায়দার (৬৮) নামে এক প্রকৌশলী হাজী। একই দিন আব্দুল রাজ্জাক (৬৫) নামে আরো এক হাজী পবিত্র মক্কা আলমোকাররমায় ইন্তেকাল করেন।
গতকাল পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার হাজী দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার রাত ৩টা পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে ফেরা হজযাত্রীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৭০ জন। এরপর আজ ভোর পর্যন্ত আরো ১১টি ফ্লাইটে তিন হাজারের বেশি হজযাত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। গত ১০ আগস্ট পবিত্র হজ পালিত হয়। গত ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়ে ৬ আগস্ট পর্যন্ত চলে। হজ শেষে ১৭ আগস্ট থেকে ফিরতি ফ্লাইটে হজযাত্রীরা দেশে ফিরছেন।


আরো সংবাদ