১৮ আগস্ট ২০১৯

কোরবানির পশুর দাম সহনীয় থাকতে পারে

কোরবানির পশুর হাট - ছবি : সংগৃহীত

দেশে বর্তমানে কোরবানির পশু চাহিদার চেয়ে প্রায় আট লাখ বেশি রয়েছে। ফলে চাহিদার বিপরীতে জোগান বেশি হওয়ায় বাজারে এবার পশুর দাম কম হতে পারে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর বলছে, দেশে এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা এক কোটি ১৮ লাখ। এর মধ্যে রয়েছে কোরবানিযোগ্য গরু ও মহিষ ৪৫ লাখ ৮২ হাজার, ছাগল-ভেড়া ৭২ লাখ এবং ছয় হাজার ৫৬৩টি অন্যান্য পশু রয়েছে। 

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. হিরেশ রঞ্জন ভৌমিক জানান, গত বছর কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল এক কোটি ১৫ লাখ আর কোরবানি হয়েছিল এক কোটি পাঁচ লাখের মতো। এবার কোরবানিযোগ্য পশু আছে এক কোটি ১৮ লাখ। তার মধ্যে সর্বোচ্চ এক কোটি ১০ লাখ কোরবানি হতে পারে। অর্থাৎ কোরবানি শেষেও আট লাখের মতো পশু বাড়তি থাকবে। কোরবানিতে পশুর দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের ধারণা পশুর দাম সহনীয় থাকবে। 

বিভিন্ন খামারি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশে গত কয়েক বছরে খামার বেড়ে উঠায় এখন দেশীয় পশুতেই মেটানো হচ্ছে কোরবানির চাহিদা। 
অন্য দিকে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক জানান, ২০১৫ সালের পর থেকেই দেশে খামারিদের সংখ্যা বাড়ার সাথে পশুর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। শুধু তাই নয় গত কয়েক বছরে কমে এসেছে বৈধ পথে ভারতীয় গরু আনার সংখ্যাও। 

তিনি জানান, এবার প্রতিটি হাটে ভ্যাটেরিনারি টিম থাকবে। সীমান্তপথ দিয়ে যেন কোনো অবৈধ গরু ঢুকতে না পারে সে বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক রয়েছে। প্রতিটি হাটে মোবাইল কোর্ট থাকবে। রাস্তায় চাঁদাবাজির ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 
তিনি বলেন, যদিও ঈদের আগের দিন হঠাৎ করেই দু-একটি বাজারে পশুর সঙ্কট দেখা যায় আর হঠাৎ করেই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়। এবার এ ধরনের সঙ্কট যেন কোনো অসাধু সিন্ডিকেট করতে না পারে সে ব্যবস্থাও থাকছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহ ইমরান সরকারি এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে জানান, চাহিদার চেয়ে কোরবানির পশুর জোগান বেশি এটা সত্য হলেও আবার কোথাও সঙ্কটও দেখা দেয়। এর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, গত বছর রাস্তায় তীব্র যানজট ছিল। ঢাকা পর্যন্ত গরু নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। আবার কোনো কোনো হাটে বেপারীদের আটকে জোর করে গরু ঢোকানো হয়। রাস্তায় চাঁদাবাজিও হয়। এতে গত বছর বেপারীরা ক্ষতির মুখে পড়েন। এ বিষয়গুলো সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। নয়তো ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে এক সময় খামারিরা গরু পালন ছেড়ে দেবে। 

অন্য দিকে খামারিরা জানান, বর্তমানে গোখাদ্য, শ্রমিক, আনুষঙ্গিক খরচসহ অনেক বড় অংশই খরচ হয় লালন-পালনে। তাই খুব বেশি মুনাফা হয় না। তাই দেশীয় গোখাদ্যের মূল্য কমে গেলে গরুর মূল্যও কমে আসবে।

চোরাই পথে ভারতীয় গরু আসা কমায় বাংলাদেশে খামারের সংখ্যা বাড়ছে জানিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে দেশে খামারের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯৯১টি। এসব খামারে কোরবানিযোগ্য হৃষ্টপুষ্ট গরুর সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ ১৪ হাজার ২৪৮টি। এ বছর এ সংখ্যা ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ১৪২। ফলে এক বছরেই ৭০ হাজার ৮৯৪টি গরু বেড়েছে। 
অন্য দিকে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে বর্ডার দিয়ে বৈধপথে দেশে গবাদিপশু এসেছে ২৩ লাখ; যা ২০১৪ সালে কমে আসে ২০ লাখে। ২০১৫ সালে বৈধ পথে গবাদিপশু আসা আরো কমে যায়। সেবার আট লাখ পশু আসে সীমান্ত দিয়ে। এ ছাড়া ২০১৬ সালে ১১ লাখ, ২০১৭ সালে ৯ লাখ, ২০১৮ সালে ৭ লাখ এবং চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এসেছে মাত্র ৯২ হাজার। এটা দেশের খামারিদের জন্য খুবই ইতিবাচক। 

প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগেও দেশের কোরবানির হাটগুলো ভারতীয় গরুর ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে এই নির্ভরতা কমে এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। গরু আমদানি কমে যাওয়ায় দেশি জাতের গরুর খামার বেড়ে গেছে। প্রতি বছর দেশে ২৫ শতাংশ হারে গবাদিপশুর খামার বাড়ছে। বর্তমানে খামারের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৬টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খামার রয়েছে চট্টগ্রামে। এ ছাড়া কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গবাদিপশুর খামার গড়ে উঠেছে।


আরো সংবাদ




bedava internet