২০ আগস্ট ২০১৯

হজক্যাম্পের সামনে জমজমাট ‘হজের বাজার’

ঢাকার আশকোনায় হাজযাত্রীদের আনাগোনায় একদিকে যেমন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, তেমনি হজক্যাম্পের সামনে রাস্তার পাশে জমে উঠেছে হজের জন্য অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্রের জমজমাট বাজার। দেশের দূরদরান্ত থেকে যেসব হজযাত্রীরা আশকোনার হজক্যাম্পে এসে জড়ো হচ্ছেন তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে অনায়াসে কিনে নিচ্ছেন হজের জন্য প্রয়োজনীয় এসব জিনিসপত্র ।

হজক্যাম্পের সামনের রাস্তার উত্তর পাশে মুক্তিযোদ্ধা শপিং কমপ্লেক্স এর নিচতলা আর দ্বিতীয় তলায় এখন হজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে ঠাসা। দোকানিরা জানালেন, হজের এই মওসুমটাতে বেচাবিক্রিও হচ্ছে ভাল। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন একমাস দোকানীদের জন্য যেন মধুমাস। কেননা বছরের বাকি ১১ মাসে যে বেচাবিক্রি হয় শুধু হজের মওসুমের এই এক মাসেই তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বিক্রি হয়। হাতের নাগালে হওয়াতে কোনো প্রকার ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই হজযাত্রীরাও সাশ্রয়ী দামে স্বল্প সময়ে কিনতে পারছেন তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

আশকোনার এই এলাকায় হজের জিনিসপত্রের জন্য একমাত্র পাইকারি দোকান হচ্ছে মেসার্স কিশোরগঞ্জ ষ্টোর। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় তাদের প্রধান বিক্রয় কেন্দ্র। তবে একই ভবনের নিচতলায় রয়েছে তাদের দুটি খুচরা বিক্রির দোকান। পাইকারি ও খুচরা দুটি দোকানেই বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। খুচরা দোকানের বিক্রয়কর্মী আতাউর রহমান নয়া দিগন্তকে জানান, অন্যন্য সময়ে খুব একটা বিক্রি হয় না। তবে হজের এই মওসুমটাতে যে বিক্রি হয় তাতে সারা বছরের ইনকাম হয়ে যায়। বছরের অন্য সময়ে দোকান বন্ধ রাখেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এই দোকানি আরো জানালেন,কোনো সময়েই দোকান বন্ধ রাখি না। তবে অন্য সময়ে শুধু ওমরার কিছু যাত্রী যারা হজ ক্যাম্পে আসেন তারা এখান থেকেই কেনাকাটা করেন।

কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা গেলো প্রতিটি দোকানেই হজের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। ইহরামের কাপড়, ইহরামের টাওয়াল সেট, ইহরাম সেট, মিনা ব্যাগ, হাজীদের বুকের সাথে ঝোলানো ব্যাগ, জুতার ব্যাগ, মিনায় পাথর রাখার ব্যাগ, সফরের জন্য উপযোগী হাওয়ার বালিশ, বিছানার চাদর, জায়নামাজ, গামছা, হাজী রুমাল, জুব্বা, ছাতা, মাস্ক, গেঞ্জি, দড়ি, তালা, তায়াম্মুমের মাটি, নেইল কাটার, কাঁচি, মেসওয়াক, ট্রলি ব্যাগ, স্পঞ্জের স্যান্ডেল, মহিলাদের হিজাব, বোরকা, হাত মোজা, মহিলাদের টুপি, প্লেট, মগ, গ্লাস ইত্যাদি চাহিদা ও প্রয়োজনমতো হজযাত্রীর কিনে নিচ্ছেন অনায়াসে।

রেজাউল মোল্লা নামের এক হজযাত্রী জানান, সময়ের অভাবে আমি আগে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারি নাই। আমার এক পরিচিত হাজি জানিয়েছেন এই বাজারের কথা। তাই আমি এখান থেকেই পছন্দমতো জিনিসপত্র কিনতে পারছি। এখানে আমি সব জিনিস কিনতে পেরেছি তবে লাগেজ চিহ্নিত করার মতো কোন ফিতা এখানে পেলাম না। তাই অন্য জায়গা থেকেই এই ফিতা কিনতে হবে।

ফ্লাইটের অপেক্ষায় হজক্যাম্পে থাকা অন্যান্য হজযাত্রীরাও অনেকে আসছেন এখানে তাদের জন্য প্রয়োজানীয় জিনিসপত্র কিনতে। অনেকে ভুলে কোনো জিনিস কিনতে পারেননি তারাও হাতের কাছে পেয়ে কিনে নিচ্ছেন জিনিসটি। সকাল থেকে রাত অবধি এখানে চলছে বেচাকেনা। হজযাত্রীদের নিরাপত্তার সুবিধার্থে রয়েছে পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি।


আরো সংবাদ




bedava internet