২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
‘রুট টু মক্কা ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় বিশেষ সেবা

হাজীদের লাগেজ পৌঁছে যাবে মক্কা-মদিনার হোটেলে

হাজীদের লাগেজ পৌঁছে যাবে মক্কা-মদিনার হোটেলে - সংগৃহীত

রুট টু মক্কা ইনিশিয়েটিভের আওতায় এ বছর থেকে বিশেষ দু’টি সুবিধা পাচ্ছেন বাংলাদেশী হজযাত্রীরা। যেসব ফ্লাইটে শুধু হজযাত্রী বহন করা হবে কেবল তারাই এ সুবিধা লাভ করবেন। 

জানা গেছে, এ বছর সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের জন্য দু’টি সুবিধা চালু করছে। এর একটি হচ্ছে হজযাত্রীদের লাগেজ বিমান বন্দর থেকে সরাসরি মক্কা-মদিনার হোটেলে পৌঁছে দেয়া এবং অপরটি হচ্ছে প্রি-ডিপার্টচার ইমিগ্রেশন। অর্থাৎ সৌদি আরবে পৌঁছার পর যে ইমিগ্রেশন হয় সেটা বিমানে ওঠার আগে ঢাকাতেই হয়ে যাবে। দু’টি সুবিধাই পাবেন কেবল ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট অর্থাৎ যেই ফ্লাইটে শুধু হজযাত্রী পরিবহন করা হবে সেই ফ্লাইটের যাত্রীরা। এ ব্যাপারে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বিষয়টি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। 

ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হাবের কর্মকর্তারা জানান, এ সুবিধাগুলো এখন বাধ্যতামূলক নয়। যারা চাইবেন তারাই পাবেন। বিশেষ করে শুধু হজযাত্রীদের জন্য যেসব ফ্লাইট হবে তাদের জন্যই এই সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে। এ জন্য অবশ্য কর্তৃপক্ষকে একটি নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। 

ধর্মসচিব মো: আনিছুর রহমান হজ এজেন্সিগুলোকে নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, হজ এজেন্সিগুলোকে এ সুবিধাগুলো পেতে হলে ৩০ রমজানের মধ্যে তাদের বাড়ি ভাড়ার কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি বিমানের টিকিটও নিশ্চিত করতে হবে। 

হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেছেন, হজযাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে এই বছর থেকেই লাগেজ হোটেলে পৌঁছে দেয়া এবং ঢাকায় হজযাত্রীদের সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার ব্যাপার সম্মত হয়। 
ইউনাইটেড এজেন্টস অফিস, জেদ্দা ‘রুট টু মক্কা ইনিশিয়েটিভ’ এর আওতায় হজযাত্রীদের মালামাল হোটেল পৌঁছে দেয়ার কাজটি করবে। একটি ফ্লাইটে একাধিক হোটেল বা আবাসনের হজযাত্রী গেলে সে ক্ষেত্রে হজযাত্রীর লাগেজ প্রথমে মক্কায় একটি নির্ধারিত গুদামে জমা করা হবে। পরবর্তীতে লাগেজে লাগানো স্টিকার অনুযায়ী নির্দিষ্ট হোটেলে প্রেরণ করা হবে। 

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগ্রহী হজযাত্রীদের জন্যই এ ব্যবস্থা থাকছে। এ মালামাল পরিবহনের জন্য ইউনাইটেড এজেন্টস অফিস কর্তৃক ঘোষিত তিনটি প্যাকেজের যেকোনো একটি গ্রহণ করতে হবে এবং এ জন্য ওই অফিসের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। আবার ওই ফ্লাইটেও তিনটির বেশি বাড়ির হজযাত্রী পরিবহন করা যাবে না। সৌদি সিস্টেমে প্রদত্ত ঠিকানা অনুযায়ী মক্কা-মদিনার বাড়িতে বা হোটেলে হজযাত্রী ও তাদের লাগেজ পৌঁছানো হবে। এ জন্য হজ এজেন্সিগুলোকে একই সাথে যৌথভাবে বড় বাড়ি বা হোটেল ভাড়া করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। হজযাত্রীদের পাসপোর্টের পেছনে মক্কা-মদিনার হোটেলের ঠিকানাসংবলিত স্টিকার লাগানোসহ হাজীদের সাথে বাড়িভিত্তিক নির্দিষ্ট রঙের আইডি কার্ড ঝুলানো এবং তাদের লাগেজে পৃথক রঙের স্টিকার লাগানো নিশ্চিত করতে হবে। 

ভুল বা ভুয়া ঠিকানা দেয়া হলে সেগুলো হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ভাড়া করা একটি নির্দিষ্ট স্থানে নামিয়ে দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কাছ থেকে ভাড়ার অর্থ আদায়সহ বেআইনি কাজের জন্য সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। 
নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, এজেন্সি মালিক বা মোনাজ্জেমকে হজ ভিসায় আবশ্যিকভাবে তাদের ব্যবস্থাধীন হাজীদের সাথে একই ফ্লাইটে গমন এবং হজ শেষে একই ফ্লাইটে দেশ ফিরতে হবে। 

এরই আগেও বাংলাদেশী হজযাত্রীদের জন্য পরিবহনকারী বিমানের তত্ত্বাবধানে হজযাত্রীদের লাগেজ মক্কা-মদিনায় নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেয়া ও ফেরার সময় নির্ধারিত স্থান থেকে গ্রহণ করে বিমানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে অনিয়মের অভিযোগ ও কিছু ভোগান্তির কারণে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর থেকে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় নির্ধারিত এজেন্টের মাধ্যমেই হজযাত্রীদের মালামাল পরিবহনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি অনলাইনে আধুনিক প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে করা হবে বলে বলা হচ্ছে।

এ দিকে প্রি-ডিপার্টচার ইমিগ্রেশনের কাজও এ বছর থেকে স্বল্প পরিসরে চালু করা সম্ভব হবে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বাংলাদেশে এ সুবিধাটি কেবল ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই প্রদান করা হবে। বিমানবন্দরের একটি নির্ধারিত জোন থেকে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পর হাজীদের সরাসরি বিমানে তোলা হবে। এরপর জেদ্দা বা মদিনায় গিয়ে এই হাজীদের আর কোনো ইমিগ্রেশন করা হবে না। ফলে হাজীদের ইমিগ্রেশনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হবে না। 

জানা গেছে, সর্বশেষ প্রস্তুতির জন্য সৌদি আরবের আরো একটি কারিগরি দল বাংলাদেশ সফরে আসবেন। এর আগে কারিগরি দলসহ দু’টি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে গেছেন।


আরো সংবাদ