১৮ আগস্ট ২০১৯

পানিও দেয়া হয় না বন্দি ফিলিস্তিনি শিশুদের

ইসরাইলের হাতে আটক ছয় হাজার ফিলিস্তিনি শিশু নির্যাতনের শিকার - ছবি : সংগ্রহ

২০১৫ সাল থেকে কমপক্ষে ৬ হাজার ইসরাইলি শিশুকে আটক করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থা এই তথ্য জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি শিশু দিবস উপলক্ষে শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, আটককৃত শিশুদের ৯৮ শতাংশই বন্দী অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, প্রথমে গুলি করে আহত করার পর শত শত ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

রামাল্লাহভিত্তিক কারাবন্দী বিষয়ক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কমিটির তথ্য অনুযায়ী বর্মানে ইসরাইলের কারাগারে বন্দী রয়েছে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি। এদের মধ্যে ৪৮ নারী ও ২৫৯ জন শিশু রয়েছে। বেসরকারি সংস্থা ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি অনুযায়ী দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ইসরাইলি বাহিনীর হামলা-নিপীড়নের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে এখানকার শত শত শিশু প্রতি মাসে অন্তত একবার গ্রেফতারের ঝুঁকিতে থাকে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাতের বেলা চালানো অভিযানে শিশুদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের খাবার ও পানি বঞ্চিত করে রাখা হয়। শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন অভিভাবকের উপস্থিতির অধিকার প্রায়ই লঙ্ঘন করা হয়। এসব শিশুদের প্রায়ই হিব্রু ভাষায় লেখা বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়- যদিও ওই ভাষা তারা বোঝে না।

আটক শিশুদের মুক্তি দেয়া হলেও প্রায়ই তারা দুঃস্বপ্ন দেখে, নিদ্রাহীনতায় ভোগে, স্কুলে অমনোযোগী হয়ে যায় আর পরিবার ও সমাজের পরিবেশের যেকোনো ঘটনাতেই অল্পতেই রেগে যায়। ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে ফিলিস্তিনি শিশুদের অধিকার রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সূত্র : ডেইলি সাবাহ

মুরসিকে সরাতে তেলাআবিবের ভূমিকা ছিল : ইসরাইলি জেনারেল
মিডলইস্ট মনিটর
মিসরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে ইসরাইলের জোরালো ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের একজন সামরিক কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, মুহাম্মদ মুরসির ক্ষমতায় থাকার সাথে ইসরাইলের নিরাপত্তা প্রশ্ন জড়িয়ে যাওয়ায় এই কাজ করা হয়েছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরয়িহ ইলদাদ স্থানীয় এক পত্রিকা ‘ম্যারিভ’-এ প্রকাশিত নিবন্ধে এই তথ্য প্রকাশ করেন। ‘দ্য আউটব্রেক অব দ্য জানুয়ারি রেভুল্যুশন’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি বলেন, মিসরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ইসরাইল মুসলিম ব্রাদারহুডের মানুষ হিসেবেই মূল্যায়ন করত। কারণ, তিনি ইসরাইলের সাথে সম্পাদিত শান্তিচুক্তি বাতিল এবং সিনাই উপত্যকায় সেনা উপস্থিতি বাড়িয়েছিলেন, যা ইসরাইলকে ভীত করে তোলে। ফলে ইসরাইল দ্রুত ও সক্রীয়ভাবে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং আবদুল ফাত্তাহ সিসিকে ক্ষমতায় আনার ব্যবস্থা নেয়। এই ক্ষেত্রে ওবামার মার্কিন সরকার কোনো আপত্তি করেনি।

ইলদাদ বলেন, ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি-যা চল্লিশ বছর আগে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং দীর্ঘদিন টিকে আছে- তা ভেঙে দেয়া হলে তা হতো সব ইসরাইলির প্রত্যাশার বিপরীত। এটা এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিকেও বিঘিœত করত। আমরা আরব ও ফিলিস্তিনিদের সাথে আরেকটি ধর্মযুদ্ধে জড়াতে চাই না।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭৯ সালে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির চল্লিশ বছরপূর্তিতে জার্মানির কাছ থেকে মিসরের সাবমেরিন কেনার চুক্তিকেও বিশেষ বার্তা হিসেবে গ্রহণ করে ইসরাইল। ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির চল্লিশ বছর পর বলতে হচ্ছে, ইসরাইলিরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছেন। ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে ইলদাদ বলেন, শত্রুভাবাপন্ন আরব রাষ্ট্রের সাথে এমন চুক্তি এটাই প্রথম। যে দেশটি ছিল সবচেয়ে বড় ও ভয়ঙ্কর।

এলদাদ লেখেন, ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মিসরকে একটি সাবমেরিন উপহার দেয় ইসরাইল। এটা প্রমাণ করে ইসরাইল এ অঞ্চলে সৌহার্দ্য বজায় রাখতে কতখানি আগ্রহী। উল্লেখ্য, আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে জর্দান ও মিসরই প্রকাশ্যে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। ইসরাইলের সাথে মিসরের রয়েছে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও। 


আরো সংবাদ




bedava internet