২৩ এপ্রিল ২০১৯

কোরবানির পশু কেনার আগে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে

কোরবানির পশু কেনার আগে কিছু বিষয় অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে - ছবি : নয়া দিগন্ত

আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই ঈদের প্রধান একটি কাজ কোরবানির জন্য পশু কেনা ও কোরবানি করা। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি দেয়ার জন্য পশু কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণত সুস্থ্য, স্বাভাবিক, সবল পশু কোরবানি করার নিয়ম।

কোরবানি করার জন্য শরিয়তে কয়েক ধরনের পশু নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দিয়ে কোরবানির করা জায়েজ। অন্য কোন পশু দিয়ে কোরবানি করার বিধান নেই।

আর বয়সের ক্ষেত্রে ছাগল, ভেড়া, দুম্বা অন্তত এক বছর । গরু, মহিষ অন্তত দুই বছর ও উট অন্তত ৫ বছর হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে ছয় মাসেরটি দেখতে এক বছরের মতো লাগে, তাহলে সেটি দিয়ে কোরবানি হবে।

কোরবানির পশু কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে-
এমন দুর্বল পশু কেনা যাবে না যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে বা কোরবানির স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারবে না। এরকম পশু দিয়ে কোরবানি জায়েজ হবে না। আর মোটা-তাজা পশু দিয়ে কোরবানি করা মুস্তাহাব।

কোন পশুর একটি পা যদি এমন ভাবে নষ্ট হয়ে যায় যে, চলার সময় সেটি দিয়ে কোন সাহায্য নিতে পারে না তবে ওই পশু দিয়ে কোরবানি হবে না।

এছাড়া আরো যেসব পশু দিয়ে কোরবানি হবে না-

শিং গোড়া থেকে ভেঙে গেলে সেই ক্ষত যদি মগজ পর্যন্ত পৌছায়।

দাঁত মোটেও না উঠলে বা যদি অর্ধেক দাড় পড়ে যায়।

দৃষ্টি শক্তি তিন ভাগের এক ভাগ কমে বা নষ্ট হয়ে গেলে।

লেজের অন্তত তিন ভাগের এক ভাগ কাটা গেলে।

কান একেবারে না উঠলে(অবশ্য খুব ছোট কান থাকলেও হবে)।

তবে শিং মোটেও না উঠলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি হবে।

গাভীন বলে জানা গেলে সেটা দিয়ে কোরবানি হবে। তবে পেটে বাচ্চা জীবিত পাওয়া গেলে সেটিকেও আল্লাহর নামে জবেহ করতে হবে।

 

আরো পড়ুন : পাবনা-সিরাজগঞ্জের খামারিরা সরবরাহ করছে দুই লাখ কোরবানির পশু
গবাদিপশু সমৃদ্ধ পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের খামারি ও চাষিরা প্রায় দুই লাখ কোরবানির পশু দেশের বিভিন্ন হাটে সরবরাহ করছেন। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে এসব গরু-মহিষ মোটাতাজা করা হয়েছে। 
এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত পথে ভারত থেকে গরু মহিষ আসছে। প্রতিদিনই বাড়ছে ভারতীয় গরু, মহিষের আমদানি। এতে দেশি গরু-মহিষের দাম কমে যেতে পারে বলে খামারি ও চাষিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, দু’টি জেলায় প্রায় ২২ হাজার গোখামার গড়ে উঠেছে। গ্রামগুলোর প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে গবাদিপশু পালন কার হয়। এ অঞ্চলে গোখামারের পাশাপাশি ১০ সহ¯্রাধিক ব্যবসায়ী ও কৃষকের গোয়ালে প্রায় দুই লাখ গরু-মহিষ প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা হয়েছে।


গত মঙ্গলবার বেড়া সিঅ্যান্ডবি চতুরহাট ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ৫০-৬০ হাজার গবাদিপশু আমদানি হয়েছে। মুল হাট ছেড়ে প্রাণ ডেইরির বিশাল চত্বর ইছামতি নদী বণ্যানিয়ন্ত্রন বাঁধের উভয় পাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাব্যাপী ছোট, মাঝারি, বড় আকারের গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া আমদানি হয়েছে। হাটের সাথে সড়ক ও নৌপথে সহজ যোগাযোগের ব্যবস্থার কারণে টাংগাইল, ঢাকা, কুমিল্লা, চট্রগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারিরা গরু কেনার জন্য এ হাটে এসেছেন। তারা গবাদিপশু কিনে ঈদের বাজার ধরার জন্য সড়ক ও নৌপথে নিজ নিজ গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সুযোগে ট্রাক ও নৌকার মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ব্যাপারিরা জানিয়েছেন।

ওমরপুর চরের গরুর ব্যাপারী আমজাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু মহিষ আসছে। যারা বৈধ ব্যবসায়ী তারা সরকারকে রাজস্ব দিয়ে করিডোরের মাধ্যমে পশু আমদানি করছেন। চোরা পথেও প্রচুর ভারতীয় গরু, মহিষ দেশে ঢুকছে। এতে দেশি গরুর দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাবনার সদর, বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর, সুজানগর, ঈশ্বরদী, চাটমোহর, আটঘড়িয়া, ভাঙ্গুড়া সিরাজগঞ্জের সদর, শাহাজাদপুর, উল্লাপাড়া, তারাশ, বেলকুচি, চৌহালীসহ এ অঞ্চলের খামারি ও চাষিরা জানান, প্রাকৃতিক নিয়মে মোটাতাজা গরুর মধ্যে রয়েছে পাবনা ব্রিড, অষ্ট্রেলিয়ান-ফ্রিজিয়ান ব্রিড, ইন্ডিয়ান হরিয়ান ব্রিড, পাকিস্তানি সাহিয়াল ব্রিড। তবে এর পাশাপাশি রয়েছে স্থানীয় ব্রিডিং পদ্ধতি যা লোকাল ক্রস ব্রিড নামে পরিচিত। এসব ব্রান্ডের সব গরুই মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ায় বড় করে বাজারে তোলা হয়। গরু মোটাতাজাকরণ একটি নিয়মিত ও প্রচলিত পদ্ধতি। বিশেষ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত ইউরিয়া, লালিগুড় ও খড়ের একটি বিশেষ মিকচার আট দিন কোন পাত্রে বন্ধ করে রেখে তা রোদে শুকিয়ে গরু-মহিষকে খাওয়াতে হয়। তিন মাস এটা খাওয়ালে গরু-মহিষ খুব দ্রুত মোটাতাজা হয়ে ওঠে। এই গরুর মাংস মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।

খামারীরা ও চাষিরা জানান, সাধারণত গরুকে প্রাকৃতিক পন্থায় মোটাতাজা ও সুস্থ রাখতে খড়, লালি গুর, ভাতের মার, তাজা ঘাস, খৈল, গম, ছোলা, খোসারী, মাসকালাই, মটরেরভূসিসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেয়া হয়। গরুর জন্য এটা বিজ্ঞনসম্মত। এ নিয়মে গরু মোটাতাজা করা হলে ক্রেতা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন না। এ ধরনের গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা গরু-মহিষের চাহিদা বেশি, দাম ভাল পাওযা যায়।

খামারীরা জানান, কোরবানির ঈদ সামনে এ অঞ্চলের কিছু কিছু অসাধু মওসুমি ব্যবসায়ী গরুকে মোটাতাজা করতে ব্যবহার করছে নানা ওষুধ। তারা রোগাক্রান্ত গরু অল্প টাকায় কিনে মোটাতাজা করে বেশি লাভে বিক্রি করে। অধিক লাভের আশায় গরু মোটাতাজা করতে ব্যবহার করা হয় ষ্টেরয়েড ও হরমোন জাতীয় ওষুধ। এসব ওষুধ বিভিন্ন ফার্মেসি গবাদিপশু চিকিৎসালয়ে পাওয়া যায়। ফার্মেসি ব্যসায়ীরা সহজেই এসব ওষুধ গরু ব্যসায়ীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এসব ওষুধ গরুকে খাওয়ালে কয়েক মাসের মধ্যে গরুর শরীর ফুলে মোটা হয়ে যায়। এই গরু দেখতে সুন্দর হয়। এ বছর কৃত্রিম পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের হার অনেক কমে গেছে। এ বছর পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের শতকরা ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ খামারী ও চাষি প্রাকৃতিক নিয়মে গরু-মহিষ মোটাতাজা করছেন বলে তারা এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।

সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামের খামারী আব্দুল মান্নান জানান, তিনি গত বছর ১২টি গরু বিক্রি ৭৫ হাজার টাকা লাভ করেন। এবার তিনি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ১৮টি গরু মোটাতাজা করেছেন। এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বৈধ ও অবৈধ পথে ভারতীয় গরু, মহিষ আমদানি হওয়ায় এ অঞ্চলের গোখামারি ও চাষিরা লোকসানের মুখে পড়তে পারেন বলে তিনি আশঙ্ক প্রকাশ করেছেন।


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat