২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শহীদ মিনার ভাংচুর নিয়ে আ’লীগের দুইগ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

ভাংচুর করা শহীদ মিনার - ছবি : নয়া দিগন্ত

রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দের ভাজের মোড়ে শনিবার বিকেলে শহীদ মিনার ভাংচুরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বকুল ও সাইফুল গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সেখানে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের তকেয়া কেশবপুর ভাঁজের মোড়ে একটি অস্থায়ী শহীদ মিনার ভাংচুরের ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের এমপি আশিকুর রহমান গ্রুপের ১নং ওয়ার্ড সভাপতি গোলাম মওলা বকুল বাদী হয়ে একই এলাকার আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন গ্রুপের নেতা সাইফুল ইসলামের নামে গত ৪ এপ্রিল থানায় অভিযোগ করেন।

অভিযোগটি জিডি হিসেবে (নং ২০৫/তাং-৪-০৪-১৯) গ্রহণ করে এসআই মিজানুর রহমানকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। এসআই মিজানুর রহমান বিষয়টি অধরতব্য অপরাধ হিসেবে তদন্তের অনুমতি চেয়ে রংপুর সিনিয়র ম্যাজিরস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি সমঝোতার জন্য শনিবার দুপুরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের অফিসে বৈঠকের জন্য নির্ধারিত ছিল। সাইফুল গ্রুপ সেখানে উপস্থিত না হওয়ায় গোলাম মওলা বকুল তার লোকজন নিয়ে ভাজের মোড়ে অবস্থান নেয়। এসময় সাইফুল গ্রুপের সাথে বকুল গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার পর সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে এ নিয়ে সেখানে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করেছেন এলাকাবাসী।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম রব্বানীর অভিযোগ, ভাজের মোড়ে এলাকাবাসী একটি শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা করেছে। স্থানীয় লোকজন আমাকে শহীদ মিনার কমিটির সভাপতি বানিয়েছেন। সেখানে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ সকল স্তরের মানুষ বিভিন্ন দিবসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। কিন্তু স্থানীয় সাইফুল ইসলাম মঞ্জু জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি শহীদ মিনারটি স্থায়ীভাবে নির্মাণের পর থেকেই ওখানে হতে দিচ্ছে না। গত ৩ এপ্রিল তিনি শহীদ মিনারটি ভাংচুর করেন। বিষয়টি জানিয়ে আমি থানায় অভিযোগ করি। শনিবার বিষয়টি নিয়ে মিমাংসার বৈঠক থাকলেও সাইফুল আসেনি। আমরা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শহীদ মিনার এলাকায় গেলে সাইফুল ইসলাম, ফারুকসহ তাদের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে শফিকুল, মানিক ও শাহিনুর নামের তিনজন আহত হন। বিষয়টি আমরা থানায় জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ ব্যপারে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, আমিই ইউপি চেয়ারম্যানেরকে প্রস্তাব দিয়ে ওই জায়গায় শহীদ মিনারটি স্থাপন করেছি। আমার পরিবার দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগ করে আসছে। আমি গত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির হোসেনের পক্ষে নৌকা মার্কার ভোট করে তাকে জিতিয়েছি। আর গোলাম রব্বানী বকুল আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মঞ্জুর মার্কা আনারসের পক্ষে কাজ করেছে। তারা এমপির লোক। সেকারণে তারা আমার বিরোধিতা করছে। বিষয়টি নিয়ে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছে।

মিঠাপুকুর থানার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, আমি অভিযোগটি বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট আদালতে তদন্তের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছি। আদালত যেভাবে তদন্তের আদেশ দিবে। আমি সেভাবে তদন্ত করবো।


আরো সংবাদ

প্রতিমন্ত্রী ও সচিব ঢাকায় ফিরলে সেই জামালপুর ডিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যুবলীগ নেতার স্ত্রী পিস্তল-গুলিসহ গ্রেফতার অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা, বিতর্কে মোদী পাকুন্দিয়া থেকে অপহৃত ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার ঝালকাঠিতে গৃহবধূ হত্যা মামলায় দু’জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ৩ সাঙ্গাকারা-ধোনি-গিলক্রিস্টরা ধারে কাছেও নেই কামরান আকমলের দেড় মাস পর কবর থেকে ৪ বছরের শিশুর লাশ উত্তোলন চার পেসার নাকি দুই স্পিনার? ছাত্রলীগ তো বটেই, আ’লীগও সন্ত্রাসী দল : মির্জা ফখরুল ইনজুরির ভাষা যাই হোক, রশিদের মনের ভাষা ফাইনালে খেলছে

সকল