২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯

রংপুর পুলিশ লাইন্স কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে

একাদশে ভর্তিতে নিজ কলেজের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ও পয়েন্ট কমানোর দাবি
-

একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী নিজ কলেজের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার এবং গ্রেড পয়েন্ট কমানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে তারা কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন বিক্ষোভ ছাড়াও গাড়ি আটকিয়ে রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ একাদশে ভর্তির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন জিপিএ ফাইভ উল্লেখ করে নোটিশ টাঙ্গিয়ে দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ ওই নোটিশে বলেছে, রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ-৫ ছাড়া (নিজ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও) অনলাইনে আবেদন না করার জন্য পরামর্শ দেয়া হলো। শিক্ষাবোর্ড আবেদনপত্র গ্রহণ করলেও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্র বিবেচনা করবে না।

কলেজ কর্তৃপক্ষের এধরনের নোটিশকে হটকারী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা নিজ প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার ও ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ কমানোর দাবিতে এই আন্দোলন শুরু করেছেন। সকাল ১০টা থেকে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে তারা বিক্ষোভ ও দাবি আদায়ের জন্য শ্লোগান দিচ্ছেন। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা চিড়িয়াখানা সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। সেকারণে ওই পথে চলাচলকারী সকল যানবাহন নগরীর মূল সড়ক দিয়ে চলাচলের কারণে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফয়সাল রেজা জানান, একাদশে ভর্তির ক্ষেত্রে নিজ কলেজের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভর্তির জন্য জিপিএ কমাতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। এই শিক্ষার্থী জানান, আমরা অনেকেই সামান্য পয়েন্টের কারণে জিপিএ-৫ পাইনি। কিন্তু আমাদের থেকে অনেক খারাপ ছাত্র আছে যারা জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাহলে তারা সুযোগ পেলে আমরা কেন ভর্তির সুযোগ পাবো না।

আন্দোলনকারী অপর শিক্ষার্থী রাশিদ জানান, রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞান শাখায় ভর্তির জন্য ন্যূনতম জিপিএ-৫ বেঁধে দিয়ে নোটিশ দিয়েছে। এটা আমরা মানবো না। নিজ কলেজের শিক্ষার্থীদেও ক্ষেত্রে জিপিএ কমাতে হবে। নইলে পরীক্ষা নিয়ে ভর্তি করা হবে। তা না হলে আন্দোলন থেকে সরবো না আমরা।

আন্দোলনকারী সুমাইয়া সুমি জানান, জিপিএ-৫ ছাড়া শিক্ষাবোর্ড আবেদন গ্রহণ করবে। কিন্তু আমাদের কলেজ সেই আবেদনপত্র বিবেচনা করবে না। এটা কোনো স্বাধীন দেশে হতে পারে না। নিয়ম থাকতে হবে একটা। আমরা যারা জিপিএ-৫ সামান্য কম পেয়েছি আমাদের আবেদন যদি শিক্ষাবোর্ড গ্রহণ করে তাহলে সেটা আমাদের কলেজ কর্তৃপক্ষ কেন বিবেচনায় আনবেন না বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা আমাদের কলেজ কর্তৃপক্ষের হটকারি সিদ্ধান্ত। একই দেশে দুই নিয়ম চলতে পারে না। আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা রংপুর অচল করে দেবো।

এ ব্যপারে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. কেএম জালাল উদ্দিন আকবর জানান, প্রতিষ্ঠার পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওই নোটিশ দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয় শুনেছি। সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হলে আবারো পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত লাগবে।


আরো সংবাদ




portugal golden visa
paykwik