২১ জুলাই ২০১৯

দুই বোনকে গণধর্ষণ : মূল হোতা গ্রেফতার

-

রংপুরের মিঠাপুকুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দুই তরুণীকে গণধর্ষণ এবং ধর্ষিতা এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনার মূল হোতা রতন মিনজি মাথার চুল ন্যাড়া করে ছদ্মবেশে বান্দরবানের জঙ্গলে লুকানোর পরিকল্পনা করছিল। তার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই রাজধানীর সাভার থেকে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

আজ শুক্রবার সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক। এসময় ধর্ষিত এক তরুণীর আত্মহত্যার কিছু সুইসাইডাল নোটও উদ্ধার করে র‌্যাব।

রংপুর মহানগরীর স্টেশন আলমননগর এলাকায় র‌্যাব-১৩ এর সদর দফতরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক জানান, মিঠাপুকুরের খোর্দনুরপুর এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী দুই তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনার মামলা দায়েরের পর র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে সাভার এলাকায় আত্মগোপনে থাকা ঘটনার প্রধান আসামি রতন মিনজিকে র‌্যাবের একটি বিশেষ আভিযানিক দল গ্রেফতার করে।

এ র‌্যাব কর্মকর্তা আরো জানান, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে রতন। গ্রেফতার এড়ানোর জন্য সে ছদ্মবেশ ধারনের উদ্দেশ্যে মাথার সমস্ত চুল কেটে ফেলে ও বান্দরবনের জঙ্গলে লুকানোর পরিকল্পনা করে। কিন্তু আমরা তার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছি।

মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের পীরগাছার সোমনারায়ন গ্রামের বুধু মিনজির পুত্র রতন মিনজির সাথে মিঠাপুকুরের খোর্দ নুরপুর গ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পল্লীর এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী এক স্কুলছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৮ এপ্রিল মোবাইল ফোনে দেখা করতে ওই ছাত্রীকে ডাকে রতন। ওই দিন বিকেলে ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া চাচাতো বোনকে সাথে নিয়ে ওই তরুণী ভগ্নিপতির বাড়ি পীরগাছায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। তারা রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জে পৌঁছলে সেখানে আগে থেকে থাকা রতন ও তার দুই বন্ধু হযরত এবং মামুন দুই বোনকে কৌশলে একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর তারা দুই তরুণীকে ধর্ষনের ঘটনা কাউকে বলতে নিষেধ করে দেয়। বললে জীবননাশের হুমকি দেয়। এতে ভীত হয়ে কাউকে কিছু না বলে ভগ্নিপতির বাড়ি যায়। সেখান থেকে পরের দিন তারা নিজ বাড়ি ফেরে।

এরপর ১৯ এপ্রিল লজ্জা এবং ক্ষোভে বিকেলে এসএসএসি ফলপ্রার্থী তরুণীটি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। বিষয়টি প্রথমে কেউ না জানলেও পরে ওই ছাত্রীর মুঠোফোনে প্রেমিক রতনের ছবি এবং তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা ক্ষুদে বার্তায় আত্মহত্যার নেপথ্যের কারণ বেরিয়ে আসে।

পুলিশ এ ঘটনায় প্রথমে মামলা নিতে না চাইলেও পাঁচ দিন পর ২৩ এপ্রিল ধর্ষিতা ১০ম শ্রেণীতে পড়ুয়া তরুণীর বোন বাদী হয়ে রতন মিনজি, হযরত ও মামুনের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, ওই তরুণী সুইসাইড নোট লিখে যায়। তাতে রতন মিনজির সাথে তার পূর্বপরিচয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। র‌্যাব ওই সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi