২১ জুলাই ২০১৯
রংপুর-২ আসন

মহাজোটে মহাজট

নির্বাচন
রংপুর-২ সংসদীয় আসনটি বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ দু’টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত। - ছবি : নয়া দিগন্ত

রংপুর-২ সংসদীয় আসনটি বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ দু’টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত। ১৭৯৩ সালে বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ এলাকা নিয়ে বদরগঞ্জ থানা হয়। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তা বদরগঞ্জ থানার অন্তর্গত ছিল। ১৯৮৩ সালে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা এবং পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা গঠিত হয়। এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে প্রার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করার মতো। তারা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে এরই মধ্যে প্রচারণা শুরু করেছেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে মহাজোটের একক প্রার্থী ছিলেন আমেরিকা প্রবাসী আনিছুল ইসলাম মণ্ডল। ওই নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট প্রার্থী জামায়াত নেতা এ টি এম আজাহারুল ইসলামকে পরাজিত করে তিনি বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন আবুল কালাম মো: আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হন আসাদুজ্জামান চৌধুরী সাবলু। তবে শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশে আসাদুজ্জামান চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে আবুল কালাম মো: আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে এমপির দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেও আসনে কে হচ্ছেন মহাজোটের প্রার্থী সেই হিসাব এখনো মেলাতে পারছেন না মহাজোটের কর্মী-সমর্থকরা।

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন তিনজন। এরা হলেন বর্তমান এমপি ও বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম মো: আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক তার আপন চাচাতো ভাই বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহসানুল হক চৌধুরী টুটুল ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ সরকার বিটু।

অন্য দিকে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টিতে (জাপা) রয়েছে দুইজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। তারা হলেন সাবেক এমপি আমেরিকান প্রবাসী আনিছুল ইসলাম মণ্ডল এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আসাদুজ্জামান চৌধুরী সাবলু। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী কমিটি গঠন ও সভা সমাবেশে নিজের পক্ষে ভোট চাইলেও জাতীয় পার্টির অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক এমপি আমেরিকান প্রবাসী আনিছুল ইসলাম মণ্ডল শুধু ব্যানার ফেস্টুনের মধ্যেই নির্বাচনী প্রচারণা সীমিত রেখেছেন।

এ ব্যাপারে আসাদুজ্জামান চৌধুরী সাবলু বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর পার্টির চেয়ারম্যান যতবারই রংপুরে এসেছেন প্রত্যেকবারই তিনি আমাকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে মাঠে কাজ করতে বলেছেন। সর্বশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বদরগঞ্জে এক কর্মী সমাবেশে আমাকে হাত ধরে জাতীয় পার্টি প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী গত পাঁচ বছর আমি বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জবাসীর পাশে আছি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

অন্য দিকে আওয়ামী লীগের তিন মনোনয়নপ্রত্যাশীই ভোটের মাঠে সক্রিয়। প্রত্যেকেই দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে নিজ অনুসারীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন। এ আসনের বর্তমান এমপি আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন বলে তার অনুসারী নেতাকর্মী ও তিনি দৃঢ় আশাবাদী। অবশ্য দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের সংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ সরকার বিটু। তিনি এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

তার অনুসারীদের দাবি, এলাকায় তার ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। বিগত ২০০৮ সালের উপজেলা নির্বাচনে তিনি বর্তমান এমপি আহসানুল হক চৌধুরী ডিউককে পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন পেতে তিনি একধাপ এগিয়ে আছেন বলে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা মনে করেন।

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহসানুল হক চৌধুর টুটুল। তিনি বর্তমান এমপি আবুল কালাম মো: আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের আপন চাচাতো ভাই। তিনিও এলাকায় গণসংযোগ ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী মরহুম আনিছুল চৌধুরীর ছেলে হওয়ায় তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে তিনি ও তার অনুসারীরা দৃঢ় আশাবাদী।

অবশ্য জোটের মনোনয়ন পেতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন মহাজোটের আরেক শরিক জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক-রংপুর জেলা ও তারাগঞ্জ উপজেলা জাসদ সভাপতি কুমারেশ রায়।

একটি সূত্র জানিয়েছে জোটগত নির্বাচন হলে রংপুর-২ আসনটি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম শরিকদল জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে আসা না আসার ওপর নির্ভর করছে।


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi