১৮ নভেম্বর ২০১৮

নর থেকে নারী : এক সন্তানের জনককে নিয়ে চাঞ্চল্য

নর থেকে নারী : এক সন্তানের জনককে নিয়ে চাঞ্চল্য - ছবি : সংগৃহীত

‘নর থেকে নারী’-এমন ঘটনায় তোলপাড় নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কাঁঠালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর দেশীবাই গ্রামে। এ গ্রামেরই মাজেদুল ইসলামের ছেলে রাজমিস্ত্রি জরিবুল ইসলাম (২১) রাতারাতি পুরুষ থেকে পরিণত হয়েছেন নারীতে। এমন ঘটনায় গোটা উপজেলায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, পেশায় রাজমিস্ত্রি জরিবুল আজ থেকে পাঁচ বছর আগে পাশের গ্রামের হোসনে আরার (১৯) সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। দেড় বছরের মাথায় জন্ম নেয় ফুটফুটে এক ছেলে সন্তান। জরিবুল বেশির ভাগ সময় ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। এরই মধ্যে গত ৪ সেপ্টেম্বর মেয়েলী পোশাকে হঠাৎ জরিবুল গ্রামের বাড়িতে এসে উপস্থিত হন। তার মেয়েলী চালচলন ও পোশাক দেখে এলাকায় শুরু হয় কানাঘুষা।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জরিবুলের বাড়িতে অসংখ্য মানুষের ভিড়। দলে-দলে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছেন কথিত ‘নর থেকে নারীতে’ রূপান্তরিত জরিবুলকে দেখতে।

জরিবুল ইসলামের বাবা-মা বলেন, কিশোর বয়স থেকে তার চালচলন মেয়েলী স্বভাবের ছিল। অনেকবার কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েছি কিন্তু তার স্বভাব পরিবর্তন হয়নি। মেয়েলী স্বভাব থাকলেও কোনো দিন সে মেয়েদের পোশাক পরেনি বলে তারা জানান। ওই এলাকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুনেছি জরিবুল ঢাকায় ইদানীং হিজরাদের সাথে মিশে ভিক্ষাবৃত্তির পেশা গ্রহণ করেছে। তাই এমনটি হতে পারে বলে তিনি জানান। জরিবুল ইসলাম জানান, আমি বর্তমানে যা-ই হই না কেন আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করব।

এ ব্যাপারে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: আসাদ আলম বলেন, হরমনের কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। আবার ইদানীং অনেক উন্নত দেশে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে লিঙ্গান্তর সম্ভব হচ্ছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে কিছু বলা যাবে না।

আরো পড়ুন :
একসাথে ৪ সন্তান প্রসব
রংপুর অফিস
রংপুর মহানগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গতকাল বিকেলে একসাথে চার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন গাইবান্ধার হাসিনা আখতার পপি (২৭)। এরমধ্যে দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। ডাক্তার জানিয়েছেন মা ও নবজাতকরা ভালো আছে। রংপুর প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক গাইনি বিষেশজ্ঞ লায়লা হাসনা বানু নয়া দিগন্তকে জানান, গাইবান্ধা সদর উপজেলার সিংহপুর গ্রামের মহসীন আলীর স্ত্রী হাসিনা আখতার পপি প্রসব বেদনা উঠলে তাকে প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর আড়াইটায় হাসপাতালের এনআইসি ওয়ার্ডে ওই গৃহবধূর অস্ত্রপচার করলে পরপর চার সন্তানের জন্ম দেয়া হয়। এরমধ্যে দুইজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে। বর্তমানে মা ও শিশুরা সুস্থ আছেন।

গৃহবধূ পপির বড় ভাই মোস্তাকিন রহমান শিশির জানান, ৮ বছর আগে আমার বোনের বিয়ে হয়। দুলাভাই ঢাকায় কোম্পানিতে চাকরি করেন। বিয়ের পর এই প্রথম তাদের এক সাথে চার সন্তানের জন্ম হলো। চার সন্তানের জন্ম হওয়ায় সবাই খুশি।
এদিকে এক সাথে চার সন্তানের জন্ম হওয়ার খবর শুনে হাসপাতালে মানুষ ভিড় করেছে।

আরো পড়ুন :
যৌতুকের বলি দুই সন্তানের জননী
বরিশাল ব্যুরো
যৌতুকের দাবিতে বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর জাগুয়া এলাকায় নুপুর বেগম নামের দুই সন্তানের জননীকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী মামুন হাওলাদার পলাতক রয়েছে। নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার দুপুরে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, উত্তর জাগুয়া এলাকার মামুন হাওলাদার ১১ বছর পূর্বে সামাজিকভাবে বিয়ে করেন ঝালকাঠীর সদর উপজেলার দক্ষিণ বালিঘোনা গ্রামের সাত্তার মল্লিকের কন্যা নুপুর আক্তারকে। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। নুপুরের ভাই ইলিয়াস মল্লিক জানান, সম্প্রতি সময়ে তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে মামুন। বোনের সুখের জন্য কিছু টাকা পরিশোধ করা হয়। পুরো টাকার জন্য মামুন তার বোন নুপুর আক্তারকে নির্যাতন করে আসছিলো। মামুন আরও জানান, অতিসম্প্রতি প্রতিবেশী এক তরুনীকে দ্বিতীয় বিয়ে করে মামুন। এরপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়া হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে অমানুষিক নির্যাতনের একপর্যায়ে নুপুর আক্তারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপন করেছে মামুন। কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই শাহজালাল জানান, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে নুপুরের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রির্পোটের পর বিস্তারিত জানা যাবে।


আরো সংবাদ