২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ওএমএসের চালের জন্য গৃহবধূকে হত্যা

-

নীলফামারীর সৈয়দপুরে খোলা বাজারের (ওএমএস) এর চাল নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক গৃহবধূকে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়েছে স্বামী ও সতীন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের বাউলের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার গৃহবধূ জাহেদা খাতুনের ভাই নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, আমার বোন জাহেদা খাতুন তার স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ায় স্বামীর বাড়ি আদানীমোড়ে না থেকে পৃথকভাবে কামারপুকুর ব্রীজ সংলগ্ন বাউলের ডাঙ্গাপাড়ায় বসবাস করেন।

বুধবার কামারপুকুর বাজার থেকে ওএমএস’র ৩০ কেজি চাল কিনে আমার বোন জাহেদা। ওই চাল থেকে অর্ধেক চাল দাবি করে জাহেদার স্বামী আতিয়ার রহমানের প্রথম স্ত্রী তহমিনা বেগম। চাল দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাহেদার সাথে তহমিনা ও আতিয়ার ঝগড়া বাঁধে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে গালাগালি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। সেসময় বিষয়টি ওই পর্যন্ত থেমে থাকে।

নজরুল ইসলাম আরো জানান, আতিয়ার রহমান ও তার প্রথম স্ত্রী তহমিনা নিজেদের বাড়ি আদানি মোড়ে না গিয়ে জাহেদার বাড়িতেই বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অবস্থান করেন। রাতের বেলা ঘুমের সময় জাহেদার হাত পা বেঁধে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করে। রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে জাহেদার ছেলে হাসু (৮) আমাদের বাড়িতে এসে তার মাকে মেরে ফেলার খবর দেয়। আমরা তাৎক্ষণিক ছুটে গিয়ে দেখতে পাই বাড়ির পাশে কামারপুকুর ব্রীজ সংলগ্ন বাকডোকরা খালের ধারে গাছের ডালে জাহেদার লাশ ঝোলানো রয়েছে।

জাহেদার ছেলে হাসু জানায়, আমার বাবা ও বড় মা তহমিনা আমার মাকে বালিশ চাপা দিয়ে মারছে। আমাকে ভয় দেখিয়েছে।

এ ঘটনার পর থেকে আতিয়ার ও তার প্রথম স্ত্রী তহমিনা পলাতক রয়েছে। পুলিশ খবর পেয়ে সকালে লাশ উদ্ধার করে নীলফামারী মর্গে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করেছে।

কামারপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান জানান, জাহেদার ভাই নজরুল জানায় যে তার স্বামী জাহেদাকে হত্যা করে লাশ গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। পরে পুলিশকে সংবাদ দিলে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পাশা জানান, মামলা হলে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

আরো পড়ুন: টাঙ্গাইলে নেশার টাকার জন্য খুন করা হয় নিকাহ রেজিস্ট্রার শামসুল হককে

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ১৩ জুন ২০১৮

টাঙ্গাইলের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) শামসুল হককে হত্যার এক সপ্তাহের মধ্যে এর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। দুই মাদকাসক্ত যুবক নেশার টাকার জন্যই কাজী শামসুল হককে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া শহরের কাগমারা এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে অমিত ওরফে সাব্বির হোসেন (১৯) এবং পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার জয়নাল আকন্দের ছেলে আকন্দ (১৯) টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। গত সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। গত ১ জুন সকালে শহরের দক্ষিণ কাগমারা এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে শামসুল হকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিন ইয়াবা সেবনের জন্য সাব্বির ও আকন্দ যোগসাজসে কাজী শামসুল হককে কাগমারা এলাকায় একটি নিকাহ রেজিস্ট্রি করার প্রলোভন দেখিয়ে অন্ধকার রাস্তায় নিয়ে যায়। প্রথমে তারা শামসুল হককে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং অমিত গলায় পেচানো হাজী রুমাল দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে। অপর আসামি আকন্দ গলায় ডান পাশে কেচি দিয়ে এবং মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়। তার মোবাইল ফোনও ছিনতাই করে নেয়। পরে তারা শহরের কলেজ পাড়ার এক ব্যক্তির কাছে ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধক রেখে সাত পিস ইয়াবা কেনে এবং সেখানে তিন পিস ইয়াবা সেবন করে। আর চার পিস ইয়াবা সেবনের জন্য বাসায় নিয়ে যায়। পরে তারা সেহেরি শেষে ভোরে ঘটনাস্থল যেয়ে লাশ দেখে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাদের নিজেদের ব্যবহৃত ফোনগুলো বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলার তদন্ত সহায়ক কমিটি গঠন করে। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত ৫ জুন ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে শহরের আকুর টাকুর পাড়া থেকে সাব্বির ও আকন্দকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আকন্দ জানায়, কাজী শামসুল হক তার পূর্বপরিচিত। কাজীর কাছ থেকে মাদক সেবনের জন্য ৫০০ টাকা চেয়ে না পাওয়ার জের ধরে আক্রোশমূলক তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে হত্যা করে।

কাজী শামসুল হকের লাশ গত ১ জুন সকালে শহরের দক্ষিণ কাগমারা এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। আগের রাতে তিনি একটি ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। লাশ উদ্ধারের পর শামসুল হকের মেয়ে বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা করেন।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme