২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কিশোরগঞ্জে প্রকল্পের নামে হরিলুট

-

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সংসদ সদস্য, ১৫-নীলফামারী-৪, শওকত চৌধুরী এমপি কর্তৃক প্রদত্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার টিআর, কাবিখা, কাবিটা, ভিজিএফ, কর্মসৃজন (প্রথম পর্যায়ের) প্রকল্পের প্রায় পুরো টাকাই আত্বসাৎ। টিআর, কাবিখা, কাবিটা, ভিজিএফ, কর্মসৃজন প্রকল্পের ১০ ভাগ ও বাস্তবায়ন হয়নি। এসব প্রকল্প সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও কিছু জানে না।
কিশোরগঞ্জে নামে- বেনামে ভূয়া প্রকল্প দিয়ে বরাদ্ধের টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। বাছ- বিচার না করেই লুটে নেয়া হয় রাস্তাঘাট ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন বরাদ্ধের অর্থ। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ লুটের এ চিত্র এখন সারা দেশের। বিভিন্ন নামের নানা প্রকল্পের খাদ্য ও টাকা রীতিমতো হরিলুট হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্প হয়, সে প্রকল্পের নামে অর্থ ও খাদ্যশস্য বরাদ্ধ হয়, কিন্তু প্রকল্প আর বাস্তবায়ন হয় না। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্ধ লুটপাটের মহোৎসব শুরু হয়েছে এই উপজেলায়।
জানা গেছে, এই উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই পুরো টাকাই উত্তেলন করে নেয়ার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। এ বিল উত্তোলনে সহযোগিতা করেছেন পিআইওসহ তার অফিসের অসাধু কর্মকর্তা- কর্মচারীরা। বিনিময়ে তারা পেয়েছেন প্রকল্পের মোট অর্থের বড় একটা কমিশন। অভিযোগে জানা যায়, প্রকল্পের অর্থের অর্ধেক গেছে জাতীয় পার্র্টির নেতা- কর্মীদের পকেটে। কাবিখার চাল, গম ও দেদারছে বিক্রি হয়েছে কালো বাজারে। অনেক সময় দলীয় নেতা- কমীদের মধ্যে ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দের ও সৃষ্টি হয়েছে। অত্র উপজেলা মানুষ জানেই না এসব প্রকল্পের খবর।গোপনেই লুটপাট করে নেয়া হচ্ছে বরাদ্ধের বিপুল অঙ্কের অর্থ। একইভাবে হতদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাগজে- কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে টাকা লোপাট করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় টিআর, কাবিখা, কাবিটা, ভিজিএফ, কর্মসৃজন প্রকল্প নিয়ে চলছে হরিলুট কারবার। প্রকল্পের টাকা, গম, চাল আর সোলার প্যানেলের টাকা অধিকাংশই গেছে এমপি সমর্থক ও দলীয় নেতা- কমূদের পকেটে। প্রকল্পের দেখভালের দায়িত্বে থাকা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ( ডিআরআরও) উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও মোঃ মোফাখখারুল ইসলাম বেসামাল।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসন এসব প্রকল্পের ভাগবাটোয়ারার অংশ পেয়েছেন। জেলার চার সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে এসব বরাদ্ধের একই অবস্থা বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। উপজেলার বাহাগিলি, নিতাই, চাঁদখানা, মাগুড়া, গাড়াগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, রণচন্ডী, পুটিমারী, বড়ভিটা ইউনিয় ঘুরে প্রকল্পগুলোর একটিতে ও তথ্য সংবলিত কোন সাইনবোর্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানান, প্রকল্প সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কিছুই জানে না। তারা শুনেছেন, এমপির সমর্থক, আত্বীয়- স^জন ও দলীয় লোকজন কিছু বরাদ্ধ পেয়েছেন। কিন্তু কিসের বরাদ্ধ তা’ তারা জানেনা। এ ক্ষেত্রে ও প্রকল্প সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে অবস্থা বুঝে ৫০/৬০ ভাগ পাসেন্ট ক্যাশ টাকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পিআইও তাদের চেক দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব প্রকল্পের পাঁচ ভাগ কাজ ও বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান। তারা কখনো সাংবাদিক ছাড়া প্রকল্প দেখভালের দায়িত্বে থাকা কোন কর্মকর্তা কে মাঠে দেখেন নি। সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অফিসে বসে পার্সেন্টেজ আদায় করে কোন রকম তদারকি ছাড়াই চেক ইস্যু করছেন পিআইও।
প্রামাণ স্বরুপ দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মোফাখখারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রকল্পের তালিকা অনুযায়ী সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শনকালে জানা যায়, প্রকল্প প্রতি ৫ লক্ষ টাকা করে বরাদ্ধের শতকরা ৯৫ ভাগ কাজ না করে প্রায় সব টাকা আত্বসাৎ করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো হলো, ১। গদা কেরামতিয়া মাদরাসা মাঠে মাটি ভরাট ও সংস্কার বরাদ্ধ ৫ লক্ষ টাকা। ২। ছাত্তার ডাঃ দিঘির পাকা রাস্তার মাথা হতে কেশবা গুচ্ছগ্রাম পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার বরাদ্ধ ৫ লক্ষ টাকা। ৩। নান্নুর বাজার হতে বিলাই মাহাতাবের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার বরাদ্ধ ৫ লক্ষ টাকা। ৪। উত্তর দুরাকোটি জয়নালের ত্রিপতি হতে পিপড়া কামরী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার বরাদ্ধ ৫ লক্ষ টাকা। ৫। মতিনের আম বাগান হতে ডাঙ্গার হাট বাজার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার বরাদ্ধ ৫ লক্ষ টাকা। ৬। দক্ষিণা মেম্বারের বাড়ী হতে আজিজারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার বরাদ্ধ ৫ লক্ষ টাকা।৭। গাড়াগ্রাম ধাইজান পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে দক্ষিণ দিকে ডালিম বাবুর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার বরাদ্ধ ৫ লক্ষ টাকা। ৮। নিতাই গুয়াপাড়া জেনাবুলের বাড়ীর ত্রিপুথি হতে মৌলভীর হাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার বরাদ্ধ ৫ লক্ষ টাকা। ৯। বাড়ী মধুপুর নামাফুল বাড়ী হতে নদীরপার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার বরাদ্ধ ৫ লক্ষ টাকা। আরো অনেক প্রকল্পের পুরো টাকাই আত্বসাৎ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের পুরো টাকা হরিলুটের বিষয় দেখা ও শোনার কেউ নেই। এ এক কঠিন দুঃসময়! এ দুঃসময়ে ভাল থাকবেন কি ভাবে? সবখানেই সরকারী মাল দরিয়ামে ঢাল। সব যগাখিচুরী অবস্থা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদ- এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিষয় টি তিনি দেখবেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম-এর মোবাইলে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।
উপজেলা নাগরিক কমিটি, কিশোরগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক,, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, আপোষহীন নেতা মোঃ মরিফুল ইসলাম সাজু জানান, অসংখ্য প্রকল্পের টাকা কাজ না করেই আত্বসাৎ করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে মানববন্ধনসহ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। আরো জানা যায়, লুতু নামের জাতীয় পার্টির এক নেতা এসব প্রকল্পের টাকায় আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে।


আরো সংবাদ