২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রংপুর সিটি মেয়রের বিলবোর্ড হাওয়া

-

রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ২১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ায় মেয়র কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে টাঙ্গানো বিল বোর্ড রাতের অন্ধকারে হাওয়া হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। শুধু তাই নয়, খোদ মুল ফটকে জাতীয় শোক দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলির ব্যানারটিও হাওয়া হয়ে গেছে। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন মেয়র।

রংপুর সিটি মেয়রের একান্ত সচিব জাহিদ হাসান লুসিড জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য ২১০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করায় মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে নগরীর লালবাগ, জাহাজ কোম্পানী মোড়, মেডিক্যাল মোড়, সিটি করপোরেশনের সামন, ডিসির মোড়, মডার্ন ও মেডিক্যাল মোড়ে বেশ কিছু বিল বোর্ড দেন। গত ঈদ-উল-আযহার ছুটিতে কে বা কারা রাতের অন্ধকারে এসব বিল বোর্ড সরিয়ে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩ তম শাহাদত্ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে খোদ সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটকেও একটি ব্যানার টাঙ্গানো হয়েছিল। কিন্তু সেটিও এই সময়ের মধ্যে কে বা কারা সরিয়ে ফেলেছে।

সিটি করপোরেশনের সূত্র জানায়, ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি ভালোভাবে নেয় নি একটি চিহ্নিত মহল। দায়িত্ব নেয়ার পরপরই মেয়র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দুই দফায় দেখা করে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি রংপুরের সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা পেতে সমর্থ হয়েছেন। সে কারনে দ্রুতই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো থেকে ২১০ কোটি টাকা রংপুর সিটি করোপরেশনের উন্নয়নে বরাদ্দ অনুমোদন করেছেন। এছাড়াও মেয়র পুরো নগরীকে চারটি জোনে ভাগ করে বর্জ্য, পানি ও বিদ্যুত্ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার মাধ্যমে নগরবাসির মধ্যে স্বস্থি এনে দিয়েছেন। এছাড়াও করপোরেশনের মধ্যকার সকল ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধ করে জবাবদিহতিা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছেন। অন্যদিকে বিগত সময়ে কাজ না করেও টাকা বেশী দেয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাস্তাঘাট, ব্রিজ. কালভার্ট নির্মান ও সংস্কারে যেসব ঠিকাদাররা গড়িমসি করছেন- তাদের ব্যপারে ব্যবস্থা নেয়া, যেসব ঠিকাদার কাজে গফিলতি, অনিয়ম করছেন-তাদের সাথে কন্ট্রাক্ট বাতিলসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের জন্য ৩৩ টি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড ভবন নির্মানের জন্য চলতি বাজেটে বরাদ্দ রেখেছেন। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরীরতদের চাকুরীচ্যুত করেছেন। এসব বিষয় কোনভাবেই মানতে পারছে না চিহ্নিত মহলটি এবং দুর্নীতি ও অনিয়মে আকণ্ঠ নিমজ্জিত কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঠিকাদারদের একটি অংশ। তারা রংপুর সিটি করপোরেশন ও মেয়রের সাথে সরকারের সম্পর্ক নস্ট করা এবং মেয়রের উন্নয়নমূলক কাজ এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহনে বাঁধা সৃষ্টি করার জন্য শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের পাঁয়তারা ও কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে টাঙ্গানো সিটি করপোরেশনের বিল বোর্ড ও এবং জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে মনে করছে সিটি কর্তৃপক্ষ।

কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ(দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোখতারুল আলম জানান, সিটি করপোরেশন কর্তৃক দেয়া প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে টাঙ্গানো বিল বোর্ড এবং জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার সরিয়ে ফেলার বিষয়ে সিটি করপোরেশন থেকে আজ (সোমবার) কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র। আমরা জিডির সূত্র ধরে কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত ও অভিযান শুরু করেছি।

এ ব্যপারে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুরের উন্নয়নের ব্যপারে গ্রীন সিগনাল দিয়ে আমাকে ২১০ কোটি বরাদ্দ দিয়েছেন। তিনি আরও উন্নয়ন বরাদ্দ দিবেন। আমরা করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিলবোর্ড দিয়েছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীর শোক ব্যানার দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছি। কিন্তু সেগুলো রাতের অন্ধকারে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এটি কোন দুর্বৃত্বদের কাজ নয়। এটি একটি চিহ্নিত মহল বিশেষের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের অংশ বলে আমি মনে করি। যতদ্রুত সম্ভব এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করে তাদের আইনের আওতায় এনে মুখোশ খুলে দেয়ার জন্য আমি আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।


আরো সংবাদ