১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রংপুরে স্ত্রীকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

-

রংপুর মহানগরীর ৮ নং ওয়ার্ডে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যা করে ওড়না দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধুর নাম আমেনা বেগম (২৫)। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ৮ নং ওয়ার্ডের সিট মহব্বত খাঁ বুদুকমলা এলাকার সামছুল হকের পুত্র লাবলু মিয়ার আড়াই বছর আগে প্রেম করে বিয়ে হয় ৪ নং ওয়ার্ডের বোল্লার চাক আমাশু এলাকার সাহেদ আলীর কন্যা আমেনা বেগমের(১৮)। তুলার মিলে কাজ করার সুবাধে তাদের পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে হয়।
আমেনা এবং লাবলু উভয়েরই আগে একবার করে বিয়ে হয়েছিল। আমেনার আগের সংসারে আকাশ নামে একটি পুত্র আছে। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মাছ ধরা শেষে ঘুমাতে যায়। এসময় তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হয়।
এক পর্যায়ে স্বামী লাবলু স্ত্রী আমেনাকে পিটুনি দিলে সাথে সাথেই তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে বাড়ির লোকজনের সহযোগিতায় লাবলু মিয়া ওড়না পেচিয়ে স্ত্রীর লাশ ঝুলিয়ে রাখে। সকালে খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় ময়না তদন্তের জন্য।
ঘটনার পরপরই বাড়ি থেকে সবাই পালিয়ে গেছে। লাবলুর বড় ভাই মোস্তফার অন্ত:স্বত্তা স্ত্রী জানান, রাত সাড়ে ১১ টায় তার দেবর বিল থেকে মাছ ধরে আনার পর সেই মাছ স্বামী স্ত্রী মিলে টিউবওয়েল পারে ধোয়ার পর শুতে যায়। কিন্তু ভোরে হঠাৎ করে দেবন বলে আমেনা গলায় ফাঁস দিয়েছে। আমরা উঠে গিয়ে দেখি গলায় ওড়া পেচানো। পরে এলাকাবাসি আসলে ওড়না কেটে তাকে ফাঁস থেকে নামানো হয়। তাকে মারপিট করা হয়েছে কিনা এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে চান নি।
এলাকাবাসি আনোয়ার হোসেন জানান, আমি সকাল ৬ টায় এসে দেখি গলায় ওড়না দিয়ে লাশ ঘরের খুটির সাথে টাঙ্গানো। তবে এসময় পা মাটিতে লেগেছিল।
এ ব্যপারে আমেনার পিতা সাহেদ আলী জানান, আমার মেয়েকে জামাই বিয়ের পর থেকেই নির্যাতন করতো। তাকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। এ ঘটনায় আমি হত্যা মামলা দায়ের করবো।
কোতয়ালী থানার এস আই মামুনুর রশিদ জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে আনা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসার পর বোঝা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। তবে সুরুতহাল রিপোর্টে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


আরো সংবাদ