২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রংপুরে ডাকাত সন্দেহে ছাত্রসমাজ নেতাদের আটকে তোলপাড়

-

ডাকাত সন্দেহে জাতীয় ছাত্র সমাজের ৩ নেতাকে আটকের ঘটনায় রোববার রংপুরের রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। জাতীয় পার্টি এবং এর সহযোগি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নগরীর প্রাণকেন্দ্র জাহাজ কোম্পানী মোড়ে দুই ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। সন্ধায় এ রিপোর্ট লেখার সময় রংপুর সিটি মেয়র ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে কোতয়ালী থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক চলছিল।
রংপুর মহানগর ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম (ছোট) জানান, গণেশপুর থেকে টার্মিনাল রাস্তায় সংস্কারের ঠিকাদারি কাজ পাওয়ার পর ওই রাস্তায় পিচ ঢালাইয়ের কাজ করি আমরা। সেকারনে ওই রাস্তায় বাঁশের বেরিকেড দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। আমিসহ জেলা মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু ও আরিফ হোসেন রোবরার ভোররাতে রাস্তার কাজ পরিদর্শন শেষে নগরীতে আসছিলাম। এমন সময় একটি ট্রাক নতুন পিচঢালা পথ দিয়ে বাঁশের বেরিকেড ভেঙ্গে চলে যেতে থাকে। আমরা ট্রাকটিকে থামাতে বললে ট্রাকটি না থামিয়ে পিচঢালা পথ দিয়েই চলে যায়।
পরে আমরাও পিছু নিয়ে মেডিক্যাল মোড়ে ট্রাকটিকে আটক করি এবং ড্রাইভারের সাথে আমাদের কথাকাটাকাটি হয়। কিন্তু ধাপ পুলিশ ফাঁড়ির এস আই আব্দুল হাই হঠাৎ করে সেখানে এসে আমাদেরকে ডাকাত বলে সম্বোধন করে মারধোরের পর টেনে হেচড়ে আটক করে কোতয়ালী থানায় নিয়ে যায়। তিনি বলেন, রাজপথ থেকে কোন ধরনের ইনভেস্টিগেশন এবং অভিযোগ ছাড়াই এভাবে ছাত্রনেতাদের মারধোর করে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। অবিলম্বে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। তারা সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর প্রাণকেন্দ্র জাহাজকোম্পানী মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় তারা গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি এবং দোষী পুলিশ সদস্যের গ্রেফতারের দাবি জানায়। এ ঘটনায় পুরো নগরীতে যানজটের সৃষ্টি হলে সেখানে ছুটে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলে এলাহি। তিনি এসআই আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে নেতাকর্মীরা অবরোধ তুলে নেয়।
দিনভর এনিয়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ থাকেন। বিকেলে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় পার্টির মহানগর সেক্রেটারী এসএম ইয়াসিরের নেতৃত্বে ডিআইজি অফিসে বৈঠক হয়। সন্ধায় এ রিপোর্ট লেখার সময় বিষয়টি নিয়ে কোতয়ালী থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে বৈঠকে বসেন পুলিশ এবং জাতীয় পার্টির নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত আছেন রংপুর সিটি মেয়র জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং রংপুর মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সেক্রেটারী এসএম ইয়াসির, জেলা যুগ্ম সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, মহানগর যুগ্ম সম্পাদক লোকমান হোসেন, মহানগর ছাত্র সমাজ সভাপতি ইয়াসির আরাফাত আসিফ, সাবেক জেলা সেক্রেটারী আমিনুল ইসলাম(বড়) প্রমুখ। পুলিশের মধ্যে উপস্থিত আছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সার্বিক) আবু হাসান মারুফ, কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোখতারুল আলমসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। তবে সন্ধায় ৭টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে তা জানা যায় নি।
তবে জাতীয় পার্টির মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা বৈঠকে বসেছি। দেখি কি হয়।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেছেন, ঘটনাটি ভুলবোঝাবোঝির কারনে হয়েছে। সমঝোতা করার চেষ্টা চলছে। তবে ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আসছে। সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় যেন রংপুরের আইনশৃংখলা পরিস্থিতির কোন অবনতি না হয়, সেটি গভীরভাবে আমলে রাখা হয়েছে।


আরো সংবাদ