১৪ নভেম্বর ২০১৮

সেই ওসি স্ট্যান্ড রিলিজ

পুলিশ
শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারে নেতৃত্ব দেয়া বাবুল মিঞাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। - ছবি : আর্কাইভ

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ছবির সূত্র ধরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দাবি মুখে অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারে নেতৃত্ব দেয়া ও অসদাচরণ করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি, গ্রেফতার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগে রংপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল মিঞাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।

কোতয়ালী থানার ওসি তদন্ত মোখতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্ট্যান্ড রিলিজ সংক্রান্ত চিঠি রাত ৮টায় থানায় এসেছে। তাকে ঢাকায় টুরিস্ট পুলিশে বদলী করা হয়েছে। সেখানেই তাকে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

এদিকে বুধবার দুপুরে রংপুর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি বশির আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, কোতয়ালী থানার ওসির বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ, অভিযোগের স্বপক্ষে কিছু ছবিসহ বিভিন্ন প্রমাণপত্র দিয়েছেন। আমি সাথে সাথেই এসপিকে সেই অভিযোগের সব কিছু দিয়ে নির্দেশ দেই ভেরিফাই করার জন্য। ভেরিফাই করার পর রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, এ ব্যপারে মহানগর আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি তুষারকান্তি মন্ডল সাংবাদিকদের জানান, এক এগারোর সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে অবৈধভাবে গ্রেফতারের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রংপুর কোতয়ালী থানার বর্তমান ওসি বাবুল মিঞা। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যার সাথে খারাপ আচরণ করেছেন। বুধবার দুপুরে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি ও তথ্য প্রমাণ আমরা ডিআইজিকে দিয়ে তাকে ১২ ঘন্টার মধ্যে রংপুর থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা না হওয়ায় আমরা বৃহস্পতিবার দুপুরে আবারও তার সাথে দেখা করে দাবি জানাই। সন্ধ্যায় তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে শুনে আমরা খুশি। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিজয় অর্জিত হয়েছে।

জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, এই ওসির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিময়, দুর্নীতি, ঘুষগ্রহণ, আসামিকে ধরে এনে ছেড়ে দিয়ে আর্থিক বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ আমরা করে আসছিলাম। এছাড়াও তিনি আমাদের নেত্রীকে গ্রেফতারে নেতৃত্ব দিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানোর পর প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নিয়ে তাকে প্রত্যাহার করেছে।

কি ছিল ফেসবুক পোস্টে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৫৪ মিনিটে খন্দকার মিলন (Khandokar Milon) নামের একটি আইডিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের দৃশ্যে রংপুর কোতয়ালী থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার (ওসি) ছবি সংবলিত একটি পোস্ট দেয়া হয়। ওই পোস্টে লেখা হয় ‘২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারে অংশগ্রহণ করা এই পুলিশ কর্মকর্তা এখন রংপুর কোতয়ালী থানার ওসি বাবুল আকতার। চেনা যায় কি!’ সূত্র : AHR ।

পোস্টটি ভাইরাল হবার সাথে সাথেই নানান মতের মানুষ বিভিন্ন মত প্রকাশ করতে থাকেন। বিষয়টি নজরে নিয়ে কোতয়ালী থানার ওসি বাবুল মিঞা (OC Kotowaly PS Rangpur) আইডিতে ওই পোস্টের বিপরীতে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। এ ঘটনার ১২ ঘন্টার পরই রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ ওসি বাবুল মিঞার প্রত্যাহারে ১২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিলেন।

ওসির বক্তব্য
এ ব্যপারে স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া রংপুর কোতয়ালী থানার ওসি বাবুল মিঞা জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ ২০০৭ সালে তৎকালীন সরকার কর্তৃক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার সময়ে আমাকে ঘিরে কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। ছবিটির সত্যতা থাকলেও যে ভাষায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে তা আদৌ সত্য তথ্যনির্ভর নয়।

ওসি জানান, আমি ১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ডিউটিতে তার দেহরক্ষী হিসেবে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০০৭ সালেও ঢাকা কোর্টে তার নিরাপত্তায় আমরা নিয়োজিত ছিলাম। সেই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল করা হয়েছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতারে নেতৃত্ব দেইনি। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয়।


আরো সংবাদ