১৩ নভেম্বর ২০১৮

উলিপুরে দুই শতাধিক বসতবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন

-

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর পানি কমলেও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। ১৫ দিনের অব্যাহত ভাঙ্গনে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক বসতবাড়িসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের মুখে ঘরবাড়ি সরাতে হিমশিম খাচ্ছেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো। ভাঙ্গনের কারনে গৃহহারা মানুষজন খাদ্য ও আবাসিক সংকটে পড়েছেন।
জানা গেছে, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদী বেষ্টিত উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ থেতরাই ই¦উনিয়নের হোকডাঙ্গা হিন্দু পাড়া, মাঝিপাড়া, মেম্বার পাড়া, ডাক্তার পাড়া, ফকির পাড়া গ্রামের ৫১টি পরিবার গুনাইগাছ ইউনিয়নের সন্তোষ অভিরাম, টিটমা, কাজির চক, শুকদেব কুন্ডর ২০টি পরিবার বজরা ইউনিয়নের সাতালস্কর, চর বজরার ৪৬টি পরিবার হাতিয়া ইউনিয়নের কামারটারি ও হাতিয়া গ্রামের ৮১ পরিবারসহ দুই শতাধিক বসতবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অবিরাম ভাঙ্গনের মুখে ঘরবাড়ী সরাতে হিমশিম খাচ্ছে ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষজন। ভাঙ্গনে গৃহহারা মানুষজন খাদ্য ও আবাসিক সংকটে পড়েছেন। ভাঙ্গনের হুমকিতে পড়েছে গুনাইগাছ ইউনিয়নে কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত নাগড়াকুড়া টি বাঁধ সহ ৫টি গ্রাম ও ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২টি মন্দির।
থেতরাই ইউনিয়নের হোকডাঙ্গা গ্রামের মহুবর রহমান (৫৫), আঞ্জুআরা বেগম (৫০), বিশোদা (৬০), নরেশ চন্দ্র বর্মন (৫৮), মোসলেম উদ্দিন (৪৫), গোপাল চন্দ্র বর্মন (৫০), লালমিয়া (৫৫), বিরেন্দ্র নাথ (৬০), আব্দুল মামুদ (৮৫) সহ নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ অনেকে জানান, গত বছর থেকে এ সব এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হলেও কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় চলতি বছর ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি তাদের। ওই ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য তারামনি বম্মণী বলেন, পার্শ্ববর্তি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দারচরে অপরিকল্পিতভাবে তিস্তা নদীর পশ্চিম পাড়ে মাটি ভরাট করে বৃহৎ সোলার প্যানেল প্রকল্প স্থাপনের কারনে নদীর গতি পরিবর্তন হওয়ায় ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে। তিনি আরও জানান, গত কয়েকদিনের ভাঙ্গনে তার বাড়ী সহ হিন্দু পাড়া ও ডাক্তার পাড়া গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
থেতরাই ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, ওই এলাকায় প্রতি বছর নদী ভাঙ্গছে ভাঙ্গনরোধে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে আবেদন করা হয়েছে। কার্যকর ব্যবস্থা নিলে নদী ভাঙ্গনরোধ সম্ভব হবে।
গুনাইগাছ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ খোকা জানান, শুকনো মৌসুমে নাগড়াকুড়া এলাকায় টি’বাঁধের নিকটবর্তি এলাকা থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টি’বাঁধটি হুমকির সম্মুখিন। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জানালেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর জন্য ইউনিয়ন প্রতি ১ টন করে চাল সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থার জন্য জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় টি’বাঁধ নির্মানের প্রস্তাব কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরন করেছেন।


আরো সংবাদ

১০ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নির্বাচনে সম্পৃক্ত করতে চান ড. কামাল আস্থা রাখুন, হিন্দু সম্প্রদায়কে ফখরুল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আগের চেয়ে বেশি দমনমূলক : অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আ’লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য হলেন ফারুক খান ও আব্দুর রাজ্জাক সহকর্মীর আঘাতে প্লাস্টিক ফ্যাক্টরির কর্মচারী নিহত শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলায় মেয়র মিরুর জামিন স্থগিত শিশুশ্রম নির্মূলের ল্যমাত্রা অর্জনে দেশ যথেষ্ট পিছিয়ে নির্বাচনী তফসিল পুনর্নির্ধারণ জাপা ইতিবাচকভাবেই দেখছে : জি এম কাদের ৩২ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে খেলাফত আন্দোলন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম চেয়ারম্যানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি

সকল