২২ জুলাই ২০১৮

সৈয়দপুরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন

-

যৌতুকের দাবিতে স্বামী, শ্বাশুড়ী ও দেবরের নির্যাতনের শিকার এক গৃহবধু গুরুত্বর আহতাবস্থায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৬ জুলাই সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মিস্ত্রিপাড়া এলাকায়।
হাসপাতালের বেডে শায়িতাবস্থায় শহরের পুরাতন বাবুপাড়ার মৃত. গোলাম মোহাম্মদের কন্যা আরজু (২২) জানায়, বিগত প্রায় ১৫ মাস আগে তার বিয়ে হয় শহরের মিস্ত্রিপাড়া বটগাছ এলাকার মোহাম্মদ গোলামের বড় ছেলে জাহিদ হোসেন মিন্টুর (৩২) সাথে। সে সময় আমার গরীব পিতা অনেক কষ্ট করে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে সংসারের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী কিনে দেন। কিন্তু তারপরও বিয়ের মাত্র ২ মাস পর থেকেই আরও যৌতুক আনার জন্য চাপ দিয়ে আসছে আমার স্বামী, শ্বাশুড়ী ও দেবর।
কিন্তু আমি তাতে রাজি না হওয়ায় আমার উপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে পরিবারের লোকজন। প্রায় প্রতিদিনই আমার স্বামী শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এর প্রতিবাদ করলেই শ্বাশুড়ী কাওসার পারভীন ও দেবর আবিদ হোসেনও আমার স্বামীর সাথে নির্যাতনে শামিল হয়। এমনকি আমাকে খেতে দিতে ও বাবার বাড়িতে বেড়াতে যেতেও বাধা দেয়। কোন ভাবে বাবার বাড়িতে গেলে ফিরে আসার পর কি নিয়ে এসেছি জানতে চায়। কোন কিছু না আনায় আবারও শুরু হয় নির্যাতন। তাছাড়া আমার বাবার দেয়া জিনিসপত্র আমার শ্বাশুড়ী তার ঘরে আটকে রেখে আমাকে ব্যবহার করতেও দেয়না। তিনি কখনো বাড়ির বাইরে গেলে তার ঘরে তালা দিয়ে যায়।
কখনো যদি তার বর্তমানে ওইসব সামগ্রীতে হাত দেই তাহলেও নির্যাতন করা হয়। এমনিভাবে প্রায় ১ বছর থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ জুলাই সকালেও আমাকে সবাই মিলে প্রচন্ড মারধর করে। এসময় তারা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলেও হুমকি দেয়। এতে আমি চরম ভীত হয়ে পড়ি এবং নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কোন রকমে তাদের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে প্রতিবেশী শহরের পপুলার মেডিকেল স্টোরের মালিক মো: এজাজ আহমেদের বাসায় গিয়ে উঠি। পরে তাদের সহযোগিতায় আমার ভাইদের খবর দিলে তারা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এখন আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন এ ঘটনায় কোন মামলা না দেয়ার জন্য বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরলে প্রশাসনের সহায়তা নিতে লিখিত অভিযোগ দেয়া হবে বলে জানান, গৃহবধু আরজু।
এ ব্যাপারে আরজুর স্বামী জাহিদ হোসেন মিন্টুর সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে সে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বরং অনেকটা অসৌজন্যমুলক আচরণই করেছে।


আরো সংবাদ