২২ জুন ২০১৮

অবৈধ-স্বৈরাচারি সরকারের ‘শেষ বাজেট’ : শামসুজ্জামান দুদু

ইফতার মাহফিলে শামসুজ্জামান দুদু। ছবি - নয়া দিগন্ত।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ভোটারবিহীন বর্তমান অবৈধ-স্বৈরাচারি সরকারের ‘শেষ বাজেট’ বলে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘আগামী দিনে আমরা যে বাজেটটি প্রত্যাশা করি সেই বাজেটে বর্তমান সরকারের আর কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলে আমার মনে হয় না। জনগণ তাদেরকে আর সেই সুযোগ সেই ক্ষমতা দেবে না। আগামীদিনের বাজেটে জনগণের স্বার্থের প্রতিফলন হবে। আর সেই বাজেট দেবে দেশনেত্রী বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।

শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মাইনুল ইসলাম এর আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে ও দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় এক দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সদ্য প্রস্তাবিত বাজেটের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী (মুহিত) একটা বাজেট দিয়েছেন। এই বাজেট প্রতারণার, এই বাজেটে বাংলাদেশের মানুষের সাথে নির্মম রসিকতা করা হয়েছে। মানুষকে তাক লাগানোর লক্ষ্যে এই প্রতারণার বাজেট দেয়া হয়েছে। আমরা জানি, এ বাজেট কার্যকর করার কোনও রকম সক্ষমতা বর্তমান অবৈধ সরকারের নেই। জনগণ জানে এবং বিশ্বাস করে, এই সরকারের বড় বাজেট মানেই বড় ধরনের দুর্নীতি এবং লুটপাট।

বাজেট প্রসঙ্গে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এই বাজেটে যেমন মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নেই তেমনি এই সরকারের প্রতিও জনগণ আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছে। এই বাজেট দেশের ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে সরকারি দলের লোকজনকে ব্যাপক দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে। যদিও এই প্রতারণার বাজেটটিই হবে বর্তমান অবৈধ সরকারের জন্য শেষ বাজেট।

সরকার কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকার যে আচরণ করছে তা সম্পূর্ণভাবে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার অভিপ্রায়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একজন বিরোধীদলীয় নেত্রী কারাগারে যে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন তার ছিঁটেফোঁটাও দেশনেত্রীকে দেয়া হচ্ছে না। আর তার কারণ একটিই- দেশেও এখন গণতন্ত্রের ছিঁটেফোঁটা নেই।

তিনি বলেন, ‘অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন বর্তমান সরকার আদালতকে প্রভাবিত করে তাঁকে (খালেদা) কারাগার থেকে বের হতে দিচ্ছে না। এটা সংবিধান পরিপন্থি একটি সিদ্ধান্ত। আমরা অবিলম্বে প্রত্যাশা করি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ন্যূনতম মৌলিক অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা সরকার করবে এবং আদালতে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। তা না হলে তাঁর (খালেদার) যদি ভালমন্দ কিছু হয় তার সম্পূর্ণ দায় সরকারকেই নিতে হবে।

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এদেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। মানবিক যে আচরণ তিনি বিরোধীদল এবং অন্যান্যদের সাথে করেছিলেন সেটি এখনও পর্যন্ত নজিরবিহীন। বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতার, মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বিচার ও কারাবন্দিত্ব গণতন্ত্রকেই হত্যার নামান্তর।

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে দেশে বিচারবর্হিভূত হত্যাযজ্ঞ চলছে অভিযোগ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে মাদকবিরোধী যে অভিযান চলছে এটার দিকে লক্ষ্য করলেই বোঝা যায় সরকার বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করে সংবিধান পরিপন্থি কাজ করছে। সংবিধানের কোনও জায়গায় মানুষ হত্যার লাইসেন্স আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেয়া হয়নি। দোষীদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করানোর দায়িত্ব হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। কিন্তু বর্তমানে কিছু আইশৃঙ্খলা বাহিনীর অসৎ কর্মকর্তা মাদক নির্মূলের নামে যে ক্রসফায়ার চালাচ্ছে সেটা একদিন বুমেরাং হয়ে যাবে। সুতরাং তাদের (আইশৃঙ্খলা বাহিনীর) মনে রাখা উচিৎ কোনও সরকারই শেষ সরকার নয়। আমরাও মাদক নির্মূলের পক্ষে কিন্তু নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে এটা সম্ভব তা বিশ্বাস করি না।

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বেগম জিয়ার মুক্তি এ জন্যই জরুরি তাঁর মুক্তির সঙ্গে দেশের গণতন্ত্রের মুক্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই দেশে একদিন শহীদ জিয়া এবং বেগম জিয়া গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একইভাবে আগামীদিনেও বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের নেত্বত্বে আবারও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এটাই আমি বিশ্বাস করি।

সরকার পতনে আগামী দিনে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলতে চাই- আপনি কঠোর আন্দোলন কি এখনও দেখেন নাই। সামনে ঈদুল ফিতরের পর যদি বেগম জিয়াকে আমরা মুক্ত অবস্থায় না পাই তাহলে সারা বাংলাদেশকে অচল করে দেয়া হবে। যত রক্ত লাগে এদেশের ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-মেহনতী মানুষ রাজপথে তা ঢেলে দেবে। বেগম জিয়া কারাগারে থাকবে আমরা তা মেনে নিবো- এটা হতে পারে না। নিহত বিএনপি নেতা মালেকের ছেলে নগদ সহায়তা গ্রহণ করছেন ।

এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দুদু আরও বলেন, ‘এখানে আজ যারা ইফতার মাহফিলে উপস্থিত হয়েছেন তাদের এই নিশ্চয়তটা দিতে পারি- আগামীর দিনগুলো গণতন্ত্রের স্বপক্ষের শক্তির মানুষের দিন। আগামীর দিনগুলো দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য যারা লড়াই করেছেন তাদের। আগামী দিনগুলো বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের সৈনিকদের। তাই এ কথা আপনাদের বলে দিয়ে যাই আগামী জানুয়ারি মাস হবে বেগম জিয়ার মাস এবং জানুয়ারিতেই নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে চতুর্থবারের মতো শপথ নিবেন ইনশাআল্লাহ্।

ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল হক ছানার সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে প্রধান বক্তা ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ সামছুল আলম তোফা। এসময় আরও বক্তব্য দেন-বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ আলী, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির উপদেষ্টা টাঙ্গাইল(৩) ঘাটাইলের সাবেক সংসদ সদস্য সাইদুর রহমান খান মোহন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আনিছুর রহমান, খন্দকার রাশেদুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিক, ইফতার মাহফিলের আয়োজক ও জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মাইনুল ইসলাম, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফ পাহেলী, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল, ছাত্রদল নেতা এয়ার মাহমুদ ও ঘাটাইল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক লোটন খন্দকার প্রমুখ।

ইফতারের আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত যুবদল নেতা মালেকের পরিবারকে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা (৫০ হাজার টাকা) দেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। এর আগে শনিবার (৯ জুন) বিকেলে টাঙ্গালের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নে সমাবেশস্থলে পৌঁছার আগে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মী শামসুজ্জামান দুদুকে সংবর্ধনা দেন।


আরো সংবাদ