১৮ নভেম্বর ২০১৮

গ্রানাডার মসজিদে উৎসবে রূপ নেয় ইফতার

দ্য গ্রান্ড মস্ক অব গ্রানাডা - সংগ্রহ

স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলের শহর গ্রানাডার একটি মসজিদ এই রমজানে ওই অঞ্চলের মুসলিমদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন মসজিদটিতে সমবেত হন স্থানীয় মুসলিমরা। ইফতার থেকে শুরু করে তারাবি পর্যন্ত এক সাথে আদায় করেন তারা।
মাসকুইটা মেয়র দি গ্রানাডা বা দ্য গ্রান্ড মস্ক অব গ্রানাডা নামের মসজিদটিতে ইফতার ও তারাবির আয়োজন রীতিমতো উৎসবে রূপ নেয়।

ইফতারের মূল আকর্ষণ থাকে আরবের খেজুর ও মরোক্কোর হারিরা স্যুপ। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া লোপেজ রিজন তুরস্কের আনাদোলু বার্তা সংস্থাকে বলেন, আমরা দুধ ও খেজুর দিয়ে সাধারণত ইফতার করি। আর তারাবির পর পরিবেশন করা হয় হারিরা স্যুপ।

জাকারিয়া আরো বলেন, ইফতার ও মাগরিবের নামাজের কিছুক্ষণ পর আমরা জামায়াতে তারাবির নামাজ আদায় করি। প্রতি রমজানে তারাবিতে দুইবার পবিত্র কোরআন খতম করা হয়।
জাকারিয়া জানান, স্থানীয় মুসলিমদের উদ্যোগে মসজিদটি নির্মাণ শুরু হয়েছে ৩০ বছর আগে। ওই সময় তার বাবা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, ‘মসজিদটি নির্মাণে আমরা অনেক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করেছি। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে অনেক সময় লেগেছে মসজিদটির নির্মাণ শেষ করতে। ২০০৩ সালে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়’।

জাকারিয়া আরো জানান, মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাদের সারা বিশ্বের মুসলিমদের কাছ থেকে অার্থিক সহযোগীতা প্রয়োজন। 

মসজিদটির একজন মুসুল্লী মুহাম্মাদ ইব্রাহিম পারভেজ (৬০) বলেন, গ্রানাডার মুসলিমদের এমন একটি স্থান রয়েছে যেটি স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘদিন স্পেন শাসন করেছেন মুসলিম শাসকেরা। সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ স্পেন জয় করার পর সেখানে প্রায় আট শ’ বছর ছিল মুসলিম শাসন। স্পেনের গ্রানাডা অঞ্চলটি ছিল সর্বশেষ মুসলিম শাসিত অঞ্চল। স্পেনের মুসলিম সভ্যতা বিশ্বে অনন্য উচ্চতায় উঠেছিল, যা মুসলিমদের এক গৌরবোজ্জল ইতিহাস। এখনো দেশটিতে মুসলিম শাসনের অনেক ঐতিহ্য টিকে আছে। ১৪৯২ সালের ‘স্পেন যুদ্ধে’ মুসলিমরা পরাজিত হলে অবসান হয় দীর্ঘদিনের শাসনের।

মুসলিম শাসনের অবসান হওয়ার পর দেশটির মুসলিমদের সহ্য করতে হয়েছে নানা প্রতিকূলতা। পারিপার্রিশ্বকতার চাপে অনেক মুসলিম স্পেন ছাড়তে কিংবা ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। এখনো দেশটিতে রয়েছে অল্প সংখ্যক মুসলিম নাগরিক।

আরো পড়ুন : যেসব কাজে রোজা ভেঙে যায়

 সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। আরবি দ্বিতীয় হিজরিতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন মুসলিমদের ওপর রোজ ফরজের বিধান নাজিল করেন। প্রতি বছর রমজান মাসে সারা বিশ্বের মুসলিমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সিয়াম পালন করেন। রোজ অবস্থায় কিছু কাজ করলে রোজা ভেঙে যায় এবং কাজা আদায় করা ওয়াজিব হয়। আবার কিছু কাজ আছে যেগুলোতে রোজা ভেঙে যায় এবং সেই রোজার জন্য কাজা আদায় এবং কাফফারা দুটোই করতে হয়।

যেসব কারণে রোজা ভেঙ্গে যায় এবং শুধু কাজা করা ওয়াজিব হয়

৮ কাজে রোজা ভেঙ্গে যায় এবং শুধু কাজা করা ওয়াজিব হয়; কাফফারা-

১. স্ত্রীকে চুম্বন বা স্পর্শ প্রভৃতির করার কারণে বীর্যপাত হলে।

২. স্বেচ্ছায় মুখ ভরে বমি করলে।

৩. পাথরের কণা, লোহার টুকরো বা ফলের বিচি গিলে ফেললে।

৪. ডুস গ্রহণ করলে।

৫. নাকে বা কানে ফোটায় ফোটায় ওষুধ নিলে।

৬. পেট বা মাথার ক্ষতস্থানে তরল ওষুধ ব্যবহারের পর তা পেটে বা মস্তিষ্কে পৌছে গেলে।

৭. গুহ্যদ্বার ও যোনীপথ ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে যৌনক্রিয়া করার ফলে বীর্য নির্গত হলে।

৮. স্ত্রীলোকের যোনীপথে ওষুধ ব্যবহার করলে।

 

যেসব কারণে রোজা ভেঙ্গে যায় এবং কাজা-কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হয়

৩টি কাজে রোজা ভেঙ্গে যায় এবং কাজার সাথে সাথে কাফফারাও ওয়াজিব হয়। সেগুলো হলো, রোজার নিয়ত করার পর-

১. স্বেচ্ছায় এমন বস্তু খাওয়া যা খাদ্য বা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২. স্বেচ্ছায় এমন বস্তু পান করা যা খাদ্য বা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৩. ইচ্ছাকৃতভাবে গুহ্যদ্বার কিংবা যোনীপথে সহবাস করা। সহবাসের ক্ষেত্রে বীর্যপাত ঘটা শর্ত নয়; বীর্যপাত না ঘটলেও কাজা ও কাফফারা উভয়ই আদায় করতে হবে।

মাসআলা : রোজা অবস্থায় কেউ কোনো বৈধ কাজ করলো। যেমন স্ত্রীকে চুম্বন দিল কিংবা মাথায় তেল দিল, তা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি রোজা নষ্ট হয়ে গেছে মনে করে এর পরে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার বা স্ত্রী সহবাস করলো, এমন ব্যক্তির উপর সে রোজার কাজা কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে।


আরো সংবাদ