২০ আগস্ট ২০১৮

রমজান মাসে রোজা না রাখার দু’টি কারণ

রমজান মাসে রোজা না রাখার দু’টি কারণ - সংগৃহীত

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের একান্ত সান্নিধ্য ও অপরিসীম পুরস্কার লাভের অনন্য ইবাদত সিয়াম সাধনার মাস রমজানুল মোবারকের আজ সপ্তম দিবস। সম প্রত্যেক নর-নারীর জন্য এ মাসের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রোজা রাখা ফরজ। যারা অম তাদের অবকাশ দেয়া হয়েছে রোজা না রাখার। তবে সমতা ফিরে আসার পর ছাড় যাওয়া রোজাগুলো আদায় করতে হবে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি এ মাস প্রত্য করবে, তাকে রোজা রাখতে হবে। আর যে ব্যক্তি অসুস্থ হয়, কিংবা সফরে থাকে সে অন্যান্য দিন থেকে এ সংখ্যা পূরণ করবে। (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৫)

রমজান মাসে রোজা না রাখার দু’টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে- অসুস্থতা ও সফর। অসুস্থ ব্যক্তির যদি রোজা রাখতে খুব কষ্ট হয়, কিংবা রোজা রাখার কারণে তার রোগের মাত্রা বেড়ে মারাত্মক পর্যায়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তার রোজা না রাখার অনুমতি আছে। কেননা মানুষের ওপর তাদের সাধ্যের বাইরে দায় চাপানো আল্লাহর নিয়মের খেলাপ। মানুষের সাধ্য অনুযায়ী তাদের ওপর কর্তব্য আরোপ করা হয়। কুরআন মাজিদের সূরা বাকারার ২৮৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- আল্লাহ কোনো প্রাণীর ওপর তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব আরোপ করেন না।

সুতরাং রুগ্ণ ব্যক্তির কষ্ট বা রোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার ক্ষেত্রে রমজান মাসে রোজা না রাখার অবকাশ রয়েছে। তবে এ অবকাশ সাময়িক- স্থায়ীভাবে দায়মুক্তি নয়। যখন সুস্থতা ফিরে আসবে বা আশঙ্কা কেটে যাবে, তখন বাদ যাওয়া দিনগুলোর রোজা অবশ্যই আদায় করতে হবে।
কিন্তু অসুস্থতা মারাত্মক কি না বা রোজা রাখার কারণে রোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে কি না তার মানদণ্ড কী? তা নির্ণয় করার দু’টি মানদণ্ড রয়েছে। প্রথমত, ব্যক্তির ভারসাম্যপূর্ণ বিবেক। আলসেমি, উদাসীনতা ও গুরুত্বহীনতা যার চরিত্রে নেই। মাহে রমজানে সিয়াম পালনের আবশ্যিকতা ও অপরিহার্যতা সম্পর্কে যার পূর্ণ সচেতনতা রয়েছে, পাশাপাশি অতি উৎসাহ ও অতিরঞ্জন যার মধ্যে নেই, এমন ব্যক্তি নিজেই উপলব্ধি করতে পারেন সিয়াম পালন তার জন্য কষ্টকর কি না। আবার রোজা না রাখা তার জন্য শিথিলতার পর্যায়ে পড়ে কি না। একজন মুমিনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য শৈথিল্য ও আতিশয্যের মাঝামাঝি অবস্থা বা ভারসাম্য।

আল্লাহতায়ালা যুগে যুগে আম্বিয়ায়ে কেরামকে পাঠিয়ে মানবজাতিকে ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা শিা দিয়েছেন। মধ্যপন্থা অবলম্বন করে জীবন নির্বাহ করা নবী ও রাসূলদের দীার অন্যতম নির্যাস। দাঁড়াতে যার কষ্ট হয়, তাকে বসে, আর বসেও যার কষ্ট হয়, তাকে শুয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এ েেত্রও কষ্ট ও সমতার মাত্রা নির্ণয় করবে একজন ভারসাম্যপূর্ণ মুমিনের বিবেক। এ জন্য প্রথম প্রয়োজন দ্বীনি ইলম। শরিয়তের বিধিনিষেধ যার কাছে পরিষ্কার, অবস্থা ও পরিবেশের ভিন্নতার কারণে আদেশ ও নির্দেশ পালনের রীতি ও পদ্ধতির ব্যাপকতা যিনি ভালোভাবে অবগত, তার পইে প্রয়োজনের সময়ে সঠিক বিষয় উপলব্ধি করা সম্ভব।
দ্বিতীয় প্রয়োজন নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের দীা। যোগ্য ওস্তাদের কাছে দীা গ্রহণের মাধ্যমেই গঠিত হয় সুন্দর চরিত্র। রাসূলে পাক সা: ইরশাদ করেছেন, আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। তাঁর দীক্ষায় ও লালনে গড়ে উঠেছিল সবচেয়ে নির্মল চরিত্রের একটি জনগোষ্ঠী, যারা সাহাবায়ে কেরাম হিসেবে পরিচিত। নিছক পুঁথিগত বিদ্যার দ্বারা শিষ্টতা ও সদাচার পূর্ণরূপে অর্জিত হয় না। এ জন্য প্রয়োজন অভ্যাস গড়ে তোলা। তাও হতে হয় গুরুজনের তত্ত্বাবধান ও তদারকিতে।

অসুস্থ ও অমতা নির্ণয়ের দ্বিতীয় মানদণ্ড চিকিৎসা ও শরীরবিদ্যাবিশারদের অভিমত। যিনি দীর্ঘ সময়ের পানাহার সংযমের শারীরিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সবিস্তার জ্ঞান রাখেন, দেহযন্ত্রের গতিপ্রকৃতি ও প্রক্রিয়া ভালোভাবে অবহিত, তার পরামর্শ ও অভিমতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কেননা ইসলাম বাস্তবতার অনুসারী। এ জন্য অভিজ্ঞতানির্ভর ও গবেষণালব্ধ জ্ঞানের মূল্য ইসলামে মোটেই কম নয়।

তবে আল্লাহর হুকুম মেনে চলার বাধ্যবাধকতা ও অপরিহার্যতা সম্পর্কে অবহিত থাকতে হবে চিকিৎসককে। তাহলেই তার অভিমতের গুরুত্ব থাকবে। এ জন্য ফিকাহর কিতাবগুলোতে ঈমানদার চিকিৎসকের অভিমত বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

অসুস্থ ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছে দুই শ্রেণীর নারী- গর্ভবতী ও দুধ দানকারিনী মা। রোজা রাখার কারণে মায়ের বা গর্ভের শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও যোগ্য ঈমানদার চিকিৎসকের অভিমত বিবেচনায় রাখতে হবে। তেমনি দীর্ঘ সময় পানপাহার বর্জনের কারণে দুগ্ধপোষ্য শিশুর খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা থাকলে এবং বিকল্প খাদ্যের ব্যবস্থা না থাকলে সেই মায়ের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। পরে এই ছাড় যাওয়া রোজাগুলো আদায় করতে হবে।

রোজা ফরজ হওয়ার জন্য ৬টি শর্ত
সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। আরবি দ্বিতীয় হিজরিতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন মুসলিমদের ওপর রোজ ফরজের বিধান নাজিল করেন। প্রতি বছর রমজান মাসে সারা বিশ্বের মুসলিমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সিয়াম পালন করেন। তবে সব মুসলিমদের ওপর রোজা ফরজ নয়। কোন ব্যক্তির ওপর রোজা ফরজ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। কারো উপর রোজা ফরজ হওয়ার জন্য ৬টি শর্ত-

১. মুসলিম হওয়া

২. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া

৩. বিবেকবান হওয়া

৪. মুকিম হওয়া(সফরে রয়েছে এমন ব্যক্তি নয়)

৫. রোজা রাখতে সক্ষম হওয়া

৬. নিষিদ্ধ বিষয়াবলী থেকে মুক্ত হওয়া।


আরো সংবাদ