১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

টর্চ আর লাঠি হাতে সীমান্ত পাহারায় গ্রামবাসী

প্রতিবেশী দেশ ভারতের আসামের নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদপড়া লোকজন রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারে- এমন শঙ্কা থেকে রাত জেগে বিজিবির সাথে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন রাজশাহীর চরখানপুর গ্রামের দুই শতাধিক বাসিন্দা। গত ২৮ নভেম্বর রাত থেকে পালাক্রমে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন তারা। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সীমান্ত পাহারায় থাকছেন গ্রামের এসব বাসিন্দা।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে ২৮ নভেম্বর চরখিদিরপুরে গ্রামবাসীর সাথে বৈঠকে বসেন রাজশাহী-১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের চরখানপুর সীমান্ত ফাঁড়ির সদস্যরা।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ওই বৈঠকে ফাঁড়ির নায়েক সুবেদার নজরুল ইসলাম সীমান্তে ভারতীয় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গ্রামবাসীর সহায়তা চান। বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এরশাদুল হক ও কোহিনুর বেগমসহ সীমান্তের তিন গ্রামের লোকজন অংশ নেন। বিজিবির আহ্বানে সাড়া দিয়ে গ্রামবাসী ওই দিন রাত থেকে নেমে পড়েছেন সীমান্ত পাহারায়। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একদল গ্রামবাসী সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। আরেক দল পাহারায় নামছেন রাত ১২টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত। গ্রামবাসীকে উৎসাহ দিতে খাবারের ব্যবস্থা করেছে বিজিবি।

রোববার রাতে পদ্মা নদী পার হয়ে চরখানপুরে দেখা যায়, টর্চলাইট ও লাঠি হাতে নিয়ে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন গ্রামের বাসিন্দারা। সীমান্তের ১৬৩-১ এস পিলারের পাশে দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য এরশাদুল হকসহ ১০ জন বাসিন্দা। তাদের সাথে বিজিবির সদস্যরাও ছিলেন।

গ্রামটির পশ্চিম পাশে বড় একটি মাঠের পুরো অংশই ভারতীয় সীমানার মধ্যে পড়েছে। মাঠের ধার দিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তরেখা। এ সীমান্তরেখা বরাবর দাঁড়িয়ে থেকে তারা অনবরত টর্চলাইট ঘোরাচ্ছিলেন। একবার ডান পাশ থেকে এক জোড়া টর্চের আলোয় মাঠ আলোকিত হয়ে উঠছিল আবার বাঁ পাশ থেকে আরেক দলের টর্চের আলো পড়ছিল।

ইউপি সদস্য এরশাদুল হক জানান, বিজিবির প্রস্তাব অনুযায়ী গ্রামের মানুষকে বুঝিয়ে এ দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। পালা করে গ্রামের সবাই এ দায়িত্ব পালন করছেন। ওই সীমান্ত পিলারের কাছে পাহারায় আবদুস সাত্তার নামে একজন বয়স্ক বাসিন্দাকেও দেখা যায়। তিনিও একটি লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন সবার সাথে।

পাহারায় থাকা গ্রামের কৃষক মো: জুয়েল জানান, দিনের বেলায় মাঠের কাজ শেষে রাতে সীমান্ত পাহারা দিতে এসেছেন। স্থানীয় পাঠশালার দশম শ্রেণী পড়ুয়া মিন্টু শেখের (১৬) পাহারা দেয়ার পালা পড়েছিল সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। মিন্টু জানায়, রাতের প্রথমার্ধ্বে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে এসে পাহারায় দাঁড়ায় সে। দেশের ভালোর জন্য গ্রামের লোকেরা বিজিবিকে সহায়তা করছে। এ কাজ করে তারও ভালো লাগছে।

এ ব্যাপারে বিজিবির চরখানপুর সীমান্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ নায়েক সুবেদার নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৭ নভেম্বর তারা জানতে পারেন ভারত থেকে ওই সীমান্তপথে অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে। এ নিয়ে পরদিনই তিনি গ্রামের ইউপি সদস্য এরশাদুল হক ও কোহিনুর বেগমকে ডেকে গ্রামবাসীর সাথে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে বিজিবির সাথে সীমান্ত পাহারায় থাকতে সম্মত হন গ্রামের বাসিন্দারা। আর ওই রাত থেকেই অব্যাহত রয়েছে সীমান্ত পাহারা।

জানতে চাইলে সোমবার রাতে রাজশাহী বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লে: কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ নয়া দিগন্তকে বলেন, এ ব্যাপারে মঙ্গলবার বিএসএফকে চিঠি দেয়া হবে। আর বিজিবির পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সীমান্ত পাহারায় অংশ নিয়েছেন। তবে আপাতত কোনো উত্তেজনা নেই এবং এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনো ঘটনাও ঘটেনি।


আরো সংবাদ

দৃশ্যমান হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের (২১৫৬৩)মাংস রান্নার গন্ধ পেয়ে বাঘের হানা, জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে জ্যান্ত খেল নারীকে (১৯৯০৭)ব্রিটেনের প্রথম হিজাব পরিহিতা এমপি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আপসানা (১৫০৪৮)ব্রিটেনে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের যারা নির্বাচিত হলেন (১৩৩৬১)চিকিৎসার নামে নারীর গোপনাঙ্গে হাত দিতেন ভারতীয় এই চিকিৎসক (১২১৫০)বিক্ষোভের আগুন আসামে এতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়াবে, ভাবেননি অমিত শাহেরা (১০৪৮৬)৪ বোনের জন্ম-বিয়ে একই দিনে! (১০৪৬৩)নির্দেশনার অপেক্ষায় বিএনপির তৃণমূল (৯৭২৬)দৈনিক সংগ্রাম কার্যালয়ে হামলা, সম্পাদক পুলিশ হেফাজতে (৯৫১৮)কোন রীতিতে বিয়ে করলেন সৃজিত-মিথিলা? (৮৬৯৫)



hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik