২৬ জুন ২০১৯

বগুড়া-৬ উপনির্বাচন : বিএনপি মাঠে থাকলে সরে দাঁড়াতে পারেন অনেক প্রার্থী

-

আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য বগুড়া-৬ (সদর ) আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ১১ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনেরই ভোটারদের কাছে তেমন পরিচিতি নেই। তারা মূলত বিএনপি নির্বাচনে না থাকার সুযোগ নিতে প্রার্থী হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাই বিএনপির মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ে বৈধ হলে অনেক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হতে পারে। এই ৫ প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ কংগ্রেস বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক ডক্টর মনসুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম, তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী শহরের সূত্রাপুরের বাসিন্দা আবুল হাসান, সদর উপজেলার সাবগ্রামের বাসিন্দা স্বর্ণ ব্যবসায়ী জাফর আলী ও মোঃ মিনহাজ মণ্ডল। এসব প্রার্থীর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তাদের আশংকা ছিল বিএনপি নির্বাচন বয়কট করবে। আর যদি বিএনপি মনোনয়নপত্র দাখিল করে তাদের প্রার্থীতা বিভিন্ন কারণে বাতিল হবে। তবে বিএনপি চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দিতায় গেলে স্বতন্ত্র সহ এসব প্রার্থীরা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে পারেন। তারা মূলতঃ বিএনপির অনুপস্থিতির সুফল পেতে প্রার্থী হয়েছেন। কারণ বিএনপি প্রার্থী দেয়ায় মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেও জমা দেননি এ আসনের সাবেক এমপি সাইফুর রহমান রাজ ভান্ডারী। তিনি ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছিলেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কবির আহমেদ মিঠু আগেই ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি প্রার্থী থাকবেন না।
বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলকারী অন্য ৬ প্রার্থী হলেন-জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক এমপি গোলাম মোঃ সিরাজ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, সাবেক জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক টি জামান নিকেতা, জাতীয় পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি নূরুল ইসলাম ওমর, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটর শ্রমিক নেতা সৈয়দ কবির আহমেদ মিঠু । এ ৬ জনেরই দলীয়, ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত পরিচিতি রয়েছে।
বগুড়া সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বগুড়া -৬ (সদর) আসন। নির্বাচনী তফসিল মোতাবেক আগামী ২৭ মে মনোনয়নপত্র বাছাই, ৩ জুন প্রত্যাহার, ৪ঠা জুন প্রতিক বরাদ্দ এবং ২৪ জুন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ইভিএম এ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৮ জন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ জানান, সম্পূর্ণ ভোট গ্রহণ হবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্ততি নেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসম্বের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৫ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির নূরুল ইসলাম ওমর পান ৪০ হাজার ভোট। কিন্তু নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ না নেয়ায় ২৯ এপ্রিল রাতে স্পিকার ড. শিরীর শারমিন চৌধুরী সংসদ অধিবেশনে আসনটি শূন্য হওয়ার সিদ্ধান্ত সংসদকে অবহিত করেন। এরপর নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।
বিএনপির ঘাঁটি এ আসনটি বিএনপি চেয়ারপারসনের আসন হিসেবে পরিচিত। তিনি কয়েকবার এ আসন থেকে বিপুলভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু গত ৩০ ডিসম্বেবরের নির্বাচনে তিনি আইনী বাধ্যবাধকথার কারণে প্রার্থী হতে পারেনি। তার বদলে প্রার্থী করা হয় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।

 


আরো সংবাদ