১৮ আগস্ট ২০১৯

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা, পরে ওসির মধ্যস্ততায় বিয়ে!

প্রতীকী ছবি - সংগৃহীত

দেড় বছরের প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিকার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন প্রেমিক। একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে নানা তালবাহানা শুরু করে প্রেমিক। প্রেমিকের বাড়ি থেকে তার বিয়েও ঠিক করে ফেলে অন্য মেয়ের সাথে। প্রেমিকের বিয়ে ঠিক হলে কি হবে, প্রেমিকা তো নাছোড়বান্দা!

প্রেমিককে নিজের করে পেতে আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিয়ে সোজা গিয়ে ওঠেন প্রেমিকের বাড়িতে। টানা ১০ দিন সেখানে অবস্থানের পর অবশেষে স্থানীয় থানার ওসির মধ্যস্ততায় আলোচিত প্রেমিক ও প্রেমিকার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার পারভবানীপুর গ্রামে।

জানা যায়, উপজেলার খামারকান্দী ইউনিয়নের পারভবানীপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে সরকারি আজিজুল হক কলেজর অনার্সের ছাত্র শাকিল আহমেদ একই গ্রামের পাশের বাড়ির দরিদ্র রফিকুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে গত দেড় বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় দৈহিক সম্পর্ক হয় তাদের। বেশকিছুদিন ধরে শাকিলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে প্রেমিকা।

একপর্যায়ে বিয়ের বিষয়ে নানা তালবাহানা করতে থাকে প্রেমিক শাকিল। শাকিলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ছেলে সাথে ওই মেয়েকে বিয়ে করাতে রাজি না হয়ে দুপচাচিয়া উপজেলায় তার বিয়ে ঠিক করেন।

এদিকে ওই যুবতী বিয়ের কথা জানতে পেরে গ্যাস ট্যাবলেট হাতে নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক শাকিলের ঘরে ওঠে। প্রেমিকাকে নিজের ঘরে ওঠার খবর শুনে শাকিল আত্মগোপনে চলে যায়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়।

পরে শেরপুর থানার ওসি মোঃ হুমায়ুন কবির জানতে পেরে ছেলের অভিভাবক দিয়ে ছেলে ও মেয়েকে শেরপুর থানায় নিয়ে আসেন। এসময় তিনি দুপক্ষের অভিভাবকদের বুঝিয়ে রাজী করানোর পাশাপাশি ছেলে ও মেয়েকে বিয়েতে রাজী করান। এরপর গত রোববার রাতে কাজী ডেকে এনে বিয়ে পড়িয়ে দেন।

এরই ধারাবাহিতকায় ছেলে ও মেয়ের অভিভাবকরা সোমবার তাদের গ্রামের বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে রেজিষ্ট্রিসহ সকল কার্য সম্পাদন করেন। যেহেতু মেয়ের পরিবার অত্যন্ত গরীব আর ছেলের পরিবার প্রভাবশালী তাই এই বিয়ে সম্পন্ন করায় এলাকাবাসী ওসির প্রসংশায় পঞ্চমুখ।

এলাকাবাসী বলছেন, শেরপুর থানার ওসি মোঃ হুমায়ুন কবির যদি আন্তরিক না হতেন তাহলে এই অসহায় মেয়েটির কপালে চরম দুর্দিন নেমে আসত।

আরো পড়নি : বিয়ের দাবিতে পুলিশ কনস্টেবলের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন
গোয়াইনঘাট (সিলেট) সংবাদদাতা, (১৪ জানুয়ারি ২০১৯)

গোয়াইনঘাটে বিয়ের দাবিতে পুলিশ কনস্টেবলের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে এক কলেজ ছাত্রী। অভিযুক্ত কনস্টেবলের নাম সোলাইমান মিয়া। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কনস্টেবলের সাথে দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করে গত ৯ই জানুয়ারী থেকে তিনি সেখানে অবস্থান নেন।

মেয়েটি জৈন্তাপুর ইমরান আহমেদ মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। অন্যদিকে প্রেমিক পুলিশ কনস্টেবল হবিগঞ্জ জেলা পুলিশে কর্মরত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকার নয়াগাঙ্গেরপাড় গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে সোলাইমান মিয়ার সাথে দীর্ঘ ৩ বছর ধরে একই গ্রামের কলেজ পড়ুয়া মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। মেয়েটির দাবি, সোলাইমান তাকে বিয়ের কথা বলে একাধিকবার শারিরীক সম্পর্কও স্থাপন করেছে। কিন্তু কয়েকদিন ধরেই পুলিশ কনস্টেবল সোলাইমানের অন্যত্র বিয়ের কথা চলছিল। এই পরিস্থিতিতে তিনি নিরুপায় হয়ে গত ৯ই জানুয়ারী থেকে বিয়ের দাবি নিয়ে তার প্রেমিক সোলায়মানের বাড়িতে অবস্থান নেন।

এদিকে মেয়েটি ওই বাড়িতে অবস্থানের একদিন পরই সোলাইমান পাশের গ্রামের স্কুল পড়ুয়া ১৭ বছরের এক কিশোরীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু নাছোড়বান্দা কলেজছাত্রী এখনও সেখানেই অবস্থান করছেন। অনশনরত মেয়েটির দাবি সোলাইমান তাকে বিয়ে না করা পর্যন্ত সেখান থেকে তিনি নড়বেন না।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি আবদুল জলিল জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ




bedava internet