১৩ নভেম্বর ২০১৯

রাবিতে ছাত্রলীগ : সিটভাড়া ২০০০, ২৫০০, ৩০০০ টাকা!

এভাবেই ডাটা সংগ্রহ করা হয়, যাতে সিট বাণিজ্য করতে সুবিধে হয়। - ছবি: নয়া দিগন্ত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সিট পেতে হলে ছাত্রলীগের বিকল্প কোনা পথ নেই শিক্ষার্থীদের। অভিযোগ কোনো শিক্ষার্থী ছাত্র জীবন শেষ করে তার পরিচিত কাউকে সিটে উঠিয়ে দিয়ে যায়, তাহলে তাকে সেই রুম থেকে বের করে দিয়ে অন্য কাউকে টাকার বিনিময়ে সিট দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

অভিযুক্তরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতা সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান শাকিল, সহ-সভাপতি এস এম রুহুল আমিন রুহুল আমিন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হলের ফোর সিটের বেডে সিট পেতে হলে ২ হাজার টাকা, ডাবল সিটের বেডে ২৫০০ টাকা এবং সিঙ্গেল রুমের সিট পেতে হলে শিক্ষার্থীকে ৩ হাজার করে টাকা গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তবে মাঝে মাঝে এই টাকার বেশি দিয়েও সিটে উঠতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আর ছাত্রলীগের বাইরে যেহেতু সিট পাওয়া দায় তাই হলে সিট পেতে হলে এই টাকা দিতেই হবে শাখা ছাত্রলীগর ওই নেতা-কর্মীকে।

টাকা দিয়ে হলে সিট পাওয়া এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ফোর বেডের রুমে উঠেছি ৩ হাজার টাকা দিয়ে। ভাই কি করবো বলেন, টাকা না দিলে তো হলে সিট পাবো না’।

হলে সিট বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান শাকিল বলেন, ‘এটা তোমাকে কে বলেছে? এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তো চলতে দেওয়া যায় না। এটা ভিত্তিহীন অভিযোগ’।

এ বিষয়ে এস এম রুহুল আমিন বলেন, ‘পলিটিক্স করতে গেলে বিরোধী পক্ষ দমিয়ে দিতে এমন অভিযোগ দিতে পারে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ পুরাই বানোয়াট, ভিত্তিহীন’।

হলে সিট বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন,‘ এ বিষয়টি জানা নাই। ছাত্রলীগ অনেক বড় সংগঠন এর মধ্যে দুই একটা খারাপ থাকতেই পারে। তবে প্রমানসহ যদি সিট বাণিজ্যের বিষয়টি জানাতে পারেন তাহেলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘সিট বাণিজ্য করছে গোপনে। আমরা সেটা ধরতে পারি না। যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সিটে উঠাচ্ছে তারা যদি আমাদের কাছে নাম সহ অভিযোগ দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি’।

এদিকে সিট বাণিজ্যের সুবিধার্থে হলের কোন রুমে কোন বর্ষের শিক্ষার্থী রয়েছে। কবে সিট ছেড়ে দেওয়া হবে, এবং কার রেফারেন্সে হলে উঠা হয়েছে তার ডাটা কালেক্ট করে রাখছে তারা।

তবে ডাটা কালেক্ট করতে আসা ছাত্রলীগ কর্মীরা এক এক জনের কাছে এক এক রকম কথা বলে তথ্য নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। কেউ বলছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে এই ডাটা কালেক্ট করা হচ্ছে আবার কেউ বলছে হল প্রাধ্যক্ষের নির্দেশেই এই তাথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগরে সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, কোনো সাধারণ ছাত্রদের ডাটা নেওয়া হয় নি। ছাত্রলীগের কে কোন রুমে আছে সেটার একটা হিসাব রাখার জন্য এই ডাটা কাল্কেট করা হয়েছে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ ড. এম রবিউল ইসলাম বলেন,‘আমি কেনো ছাত্রলীগকে হল কাউন্সেলিং করার দায়িত্ব দিবো। যদি তেমন প্রয়োজন হয় তাহলে হলের স্টাফদের মাধ্যমে সেটা করবো’।

রাবিতে পথচারীদের মারধর করলো কোটা বহাল আন্দোলনকারীরা

সরকারি চাকরিতে কোটা বহাল রাখার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের মারধরের শিকার হয়েছেন পথচারীরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে কয়েকজন পথচারীকে মারধর করা হয়।

জানা যায়, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সররকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে সন্ধ্যায় ঢাকা-রাজশাহী মহসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডোসহ বহিরাগত ২০ থেকে ২৫ জন। তারা আন্দোলন শুরু করলে পুলিশ রাস্তার উভয়দিকে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোন যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হয়নি।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীরা সড়কের পুরো অংশ জুড়ে অবস্থান নেন। এসময় ৪ জন পথচারী সাইকেল নিয়ে আন্দোলনস্থলের পাশ দিয়ে প্রধান ফটকের সামনে থেকে বিনোদপুরের দিকে যেতে চাইলে তাদের পথরোধ করা হয়। তবুও পথচারীরা সাইকেল নিয়ে যেতে চাইলে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় পুলিশের সামনেই ৪ জন পথচারীকে তারা মারধর করে।

আন্দোলনকারীদের মারধরের শিকার শাহ আলম নামের এক পথচারী বলেন, ‘আমি ফুটপাত দিয়ে আন্দোলনস্থলে পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সেখানে কয়েকজন আমার পথরোধ করে সাইকেল ঘুরিয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে যেতে বলেন। অন্য রাস্তা দীর্ঘ হওয়ায় আমি সেখান দিয়ে যেতে চাইলে তাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় ৩ জন আন্দোলনকারী আমাকে গালিগালাজ করে মারধর করে।’

ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক সাংবাদিক মারধরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সাংবাদিক ফরিদ আহমেদ জানান, আন্দোলনস্থলের পাশ দিয়ে সাইকেল নিয়ে যেতে চাইলে ৪ জন পথচারীকে মারধর করা হয়।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে রাবি শাখা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি তারিক হাসান বলেন, 'পথচারীদের মারধর করা হয়নি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি।'

দেখুন:

আরো সংবাদ