২১ এপ্রিল ২০১৯

সেই গৃহবধূ আজ সব হারিয়ে নিঃস্ব

-

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের পাটাগ্রাম গ্রামের বৃদ্ধা বুলবুলি বেগমের দীর্ঘশ্বাস আর বোঁবা কান্না যেন আর থামে না। যমুনাকে দেখিয়ে তিনি অশ্রসিক্ত চোখে বলেন, ‘ওই আমারে সর্বনাশ করেছে। বসতঘর, ফসলি জমি সব কিছু গ্রাস করেছে।’ তিনি গত ২ সেপ্টেম্বর হারিয়েছেন তার ঘর-বাড়ি। সহায়-সম্বল হারিয়ে তিনি আজ নিঃস্ব। অথচ এক সময় তিনি গেরস্ত ঘরের বৌ ছিলেন। যমুনার করাল গ্রাসে সব হারিয়ে ওই বৃদ্ধা এখন আশ্রয় নিয়েছেন পাশ্বের এক বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে। এমনই গৃহহারা হাজারও মানুষ। তবে বর্তমান সরকার ভাঙন রোধে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

যমুনার সর্বগ্রাসী থাবায় মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে কাজিপুর সদর, মাইজবাড়ী, গান্ধাইল ও শুভগাছা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। এ ছাড়া খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ ও মনসুর নগর ইউনিয়নের অনেক গ্রাম তীব্র ভাঙনের শিকার। ১৯৫৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কাজিপুরে ভাঙন প্রতিরোধে ছোট-বড় অনেক পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১১টি সলিড স্পার অনেক বছর টিকে ছিল। কিন্তু ছয়-সাত বছর আগে তীব্র ভাঙনের মুখে সেগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। আগে ও পরবর্তী সরকারগুলোর দেওয়া কোটি কোটি টাকার একটি বড় অংশই ঠিকাদার, পাউবো কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদরা লুটে পুটে খেয়েছেন। কাজ হয়েছে শুধু লোক দেখানে।

বর্তমানে ছয়টি স্পটে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। যমুনার এমন তাগুবে নদীশিকস্তি মানুষেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাপ-দাদার বসতভিটা আর সহায়-সম্পদ হারিয়ে তারা এখন বড় অসহায়। নদীর পূর্বপাড়ে ভাঙন ক্রমেই ধেয়ে আসায় আশপাশের লোকালয়ে আতস্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্ব-পশ্চিমের তীব্র বাতাসের কারণে নদীর ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বর্ষার পানি।

গত কয়েকদিনে পাটাগ্রাম, বাঐখোলা, ফুলজোড়, শুভগাছা, মাজনাবাড়ী, খাসরাজবাড়ী, চরগিরিশ এলাকার আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদ যমুনা গ্রাস করে নিয়েছে। একটি মসজিদ, কয়েকশ’ বসতঘর, ফসলি জমি, গাছগাছালির বাগান বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাটা গ্রাম সডিল স্পার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ও গুচ্ছুগ্রাম।

গান্দাইল ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম জানান, এবারের ভাঙ্গনে পাটাগ্রাম গ্রামের অবশিষ্ট অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। শুভগাছা ইউপি চেয়ারম্যান এস, এম হাবিবুর রহমান জানান, ভাঙনের তাড়া খেয়ে এ পর্যন্ত তারা ৩-৪ বার বাড়ী পিছিয়েছেন।

কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক বকুল সরকার জানান, নদীভাঙনে তার পরিবার ৫-৬ বার জায়গা বলদ করেছে। এখন বাধ্য হয়েই তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্গম মধ্যেই আছেন। ৩৬৮.৬৩ বর্গকিলোমিটারের জনপদ কাজিপুরের তিনভাগই যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে এখন অবশিষ্ট আছে মাত্র তিনটি। আবার যমুনার পূর্বপাড়ে বেশ কয়েকটি চর জেগে উঠলেও চরের মালিকানা নিয়ে ভূমিহীন-জোতদারের মধ্যে চলছে বিরোধ। নদীশিকস্তি পরিবারগুলো সেখানে আশ্রয় নিতে গিয়ে নানা বাধার মুখে পড়ছে।

এদিকে শুভগাছা, গান্ধাইল ও কাজিপুর সদর ইউনিয়নের প্রায় প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই-তিন মাসে ভাঙনে এসব এলাকার প্রায় তিনশ’ বসতঘর, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, একটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে স্পার। এসব এলাকার মধ্যে বেশি ভাঙছে চর এলাকার। ভাঙন এলাকার স্থান যেন বৃদ্ধি না হয় সে জন্য মনিটরিং অব্যাহত আছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ভাঙ্গন এলাকায় ইউএনও শফিকুল ইসলাম ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ পরিদর্শন করেছেন।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle gebze evden eve nakliyat