২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বুলবুলের পথসভায় ককটেল বিস্ফোরণ : বিএনপি নেতা মন্টু গ্রেফতার

বিএনপি
মতিউর রহমান মন্টু - ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পথসভার কাছে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার গভীর রাতে রাজশাহী শহরের রামচন্দ্রপুরের বাড়ি থেকে মন্টুকে পুলিশ গ্রেফতার করা হয়।

বোয়ালিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি প্রার্থীর কর্মসূচিতে ককটেল হামলার ঘটনায় পুলিশ যে মামলা করেছিল, সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে জেলা ছাত্রদল গত ১৭ জুলাই নগরীর সাগরপাড়া মোড়ে ওই পথসভার আয়োজন করে। কর্মসূচির মধ্যেই মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন যুবক পথসভার পাশে পরপর তিনটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।

ফলে পথসভা পণ্ড হয়ে যায়, বিস্ফোরণে আহত হন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবসহ অন্তত তিনজন।

বিএনপি ওই ঘটনার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মীদের দায়ী করলে আওয়ামী লীগ ‍উল্টো বিএনপিকেই এ ব্যাপারে দোষারোপ করে।

ওই ঘটনার পরদিন বোয়ালিয়া থানার এসআই শামীম হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় আটজনের নামে বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।

ওই মামলায় মিন্টুকে গ্রেফতার করা হলো।

এদিকে রাজশাহী মহানগর বিএনপির দফতর সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন বলেছেন, মিন্টু জামিনে আছেন। তার নামে নতুন কোনো মামলা নেই। কোনো কারণ ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরো পড়ুন :
রাজশাহীতে ককটেল হামলা অশনিসঙ্কেত : বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৮ জুলাই ২০১৮
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধানের শীষের গণসংযোগ কর্মসূচি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে অশনি সঙ্কেত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বিএনপি। এ ঘটনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার সন্ত্রাসী ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে বরাবরই দেখা গেছে-অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ক্ষমতাসীনরা সর্বদায় অনিচ্ছুক ও অনমনীয়। এরা সন্ত্রাসবাদের উপাসক। নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আওয়ামী লীগের অভিধানে নেই। সেজন্য ভোটারদের ভয় পাইয়ে দিতেই বেআইনী বোমা-গুলির ব্যবহারকে নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত করেছে তারা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়ায় ধানের শীষের পক্ষে জেলা ছাত্রদলের গণসংযোগ কর্মসূচি উদ্বোধনের জন্য বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সেখানে উপস্থিত হলে আওয়ামী ক্যাডাররা অনুষ্ঠানস্থলে উপুর্যপুরি কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

ককটেলের স্প্রিন্টারে গুরুতর আহত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, বাংলাভিশনের ব্যুরো প্রধান পরিতোষ চৌধুরী আদিত্য ও বিএনপি কর্মী স্বপন কর্মকারসহ বেশ কয়েকজন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সন্ত্রাসী ঘটনা এক অশনি সংকেত। এই ঘটনা ৩০ জুলাই’র অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে জনমনে গভীর সংশয়ের সৃষ্টি করলো। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ভোটারদের কাছে দেয়া হলো এক অশুভ বার্তা। এই ঘটনায় মনে হয়-আগামী ৩০ জুলাই নৌকা মার্কার পক্ষে সন্ত্রাসীরা ইচ্ছামতো ভোটসন্ত্রাস করার অধিকার পেয়েছে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ককটেল হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। অবিলম্বে ককটেল হামলায় জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। আহতদের সুস্থতা কামনা করছি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভয়ঙ্কর অনিয়ম ও অবিশ্বাস্য ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুল্ক-গোয়েন্দা অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত ২০১৭’র জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ভল্ট পরিদর্শন কার্যক্রমে ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য পাওয়া গভীর আশঙ্কাজনক। ৯৬৩ কেজি সোনা যাচাই করে যে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে তা রাষ্ট্রের ক্রমাগত এখন চরম দশায় উপণীত হয়েছে। সোনার চাকতি যদি হয়ে যায় মিশ্র ধাতু, যদি ২২ ক্যারেট সোনা হয়ে যায় ১৮ ক্যারেট, এভাবে ব্যাংকে গ্রাহকের সঞ্চিত বিশুদ্ধ সোনার ক্যারেট যদি অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, তাহলে বুঝতে হবে আমানত গ্রহণকারীরা দুষ্কর্মের সাথে জড়িত।

তিনি বলেন, ভল্টে রাখার পরই এগুলো কারসাজি করে পাল্টে ফেলা হয়েছে। ভল্টে থাকা সোনার আংটি ও চাকতি কিভাবে অন্য ধাতুর মিশ্রণে তৈরী হলো? দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকেই যদি এই ধরনের মহা অনিয়ম ও জালিয়াতি এভাবে একের পর এক সংঘটিত হতে থাকে, তবে বাংলাদেশের অন্যসব ব্যাংকগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা ভেঙ্গে পড়বে। বর্তমান সরকার দুর্নীতিপরায়ণতার কলুষ থেকে মুক্ত নয় বলেই বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম আর অনাচারের মহাযজ্ঞ চলছে। এই ঘটনায় আমানতকারিরা দিশেহারা হয়ে পড়বে। রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি লুট হওয়াকে অর্থমন্ত্রীর আশকারা দেয়ার কারণেই দেশের আর্থিক খাত এখন ধংসোন্মুখ। বর্তমান সরকার দেশকে এক খারাপ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

হামলার নিন্দা জামায়াতের
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ১৮ জুলাই ২০১৮
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সমাবেশে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান
গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গতকাল জনসংযোগ শেষে সাগরপাড়া মোড়ে তার উদ্যোগে সমাবেশ শুরুর সময় তিনটি মোটরসাইকেলে এসে মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের হামলায় একজন সাংবাদিকসহ পাঁচজন আহত হওয়ার ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রকাশ্য দিবালোকে ২০ দলীয় জোটের মনোনীত মেয়রপ্রার্থীকে লক্ষ্য করে ককটেল হামলার ঘটনার দ্বারাই প্রমাণিত হচ্ছে, দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। বিএনপির গণসংযোগ অভিযানে ককটেল হামলাকারী দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি।


আরো সংবাদ