১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

আতঙ্কে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা

আতঙ্কে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা - সংগৃহীত

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন ঘিরে গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। একই সাথে গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এরই মধ্যে এই দু’টি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের বেশ কিছু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নির্বাচন কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে বিএনপির তরফ থেকে নির্বাচন কার্যালয়ে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। 

এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির দফতর সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন নয়া দিগন্তকে বলেন, রাসিক নির্বাচন ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন। পুলিশি হয়রানির কারণে তারা নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে পারছেন না। তিনি আরো বলেন, বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরাও এর বাইরে নন। বিএনপি সমর্থিত বেশির ভাগ কাউন্সিলর প্রার্থী গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডের সবগুলোতেই বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। 

বিএনপি নেতা ডিকেন বলেন, রাসিক নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশি ও প্রশাসনিক অপতৎপরতা, গণগ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করার দাবিতে গত সোমবার মহানগর বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল রাজশাহী জেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবর একটি অভিযোগপত্র প্রদান করেছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, কোনো প্রকার মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে পুলিশ ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হক, ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম, ২নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আমিনুল হক, বিএনপি কর্মী রায়হান ইসলাম ও হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে। এ ছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, পুলিশি হয়রানি, মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন উপায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশনা ও নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত নির্দেশনার বিরুদ্ধে বলেও তারা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন। 
তিনি বলেন, অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, এরূপ আচরণ চলমান থাকলে নির্বাচনে লেবেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি হবে না এবং সার্বিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হবে। মহানগর বিএনপি নির্বাচনের আগে এই ধরনের আচরণ ও কর্মকাণ্ডে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে বিষয়টি আমলে নিয়ে গণগ্রেফতার, পুলিশি হয়রানি-তল্লাশি ও আটক বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তারা রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাবি জানান। 

এ দিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর জামায়াতের এক নেতা নয়া দিগন্তকে বলেন, রাসিক নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে জামায়াত সমর্থিত ১৬ জন প্রার্থীর সবাই গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন। ফলে তারা নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারছেন না। এরই মধ্যে জামায়াত সমর্থিত তিনজন কাউন্সিলর প্রার্থী কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন- নগরীর ২নং ওয়ার্ডে মুখলেসুর রহমান, ১৪নং ওয়ার্ডে আমিনুল ইসলাম ও ১৭নং ওয়ার্ডে আইয়ুব আলী।

জামায়াতের একটি সূত্র জানায়, শুধু ১৪টি সাধারণ ওয়ার্ড ও দু’টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে প্রার্থী রয়েছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিতরা। নির্বাচনে এসব কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচনী বিধি মেনে প্রচারণা চালাতে চান। কিন্তু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তাদেরকে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে- যা একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পথে অন্তরায়।
এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকেই গ্রেফতার করছে না পুলিশ। আর নির্বাচনের সাথে গ্রেফতারের কোনো সম্পর্ক নেই। ইফতেখায়ের আলম বলেন, রাসিক নির্বাচন ঘিরে নগরীতে গণগ্রেফতার বা হয়রানির অভিযোগ সঠিক নয়। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ গ্রেফতার করছে।


আরো সংবাদ