২২ জুলাই ২০১৮

যমুনার অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে কাজিপুরের বিস্তীর্ণ জনপদ

কাজিপুর
কাজিপুরে অব্যাহত রয়েছে যমুনা নদীর ভাঙ্গন - ছবি: নয়া দিগন্ত

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরবাসীর জন্য বড় দুঃখ যমুনা নদীর ভাঙ্গন। জেলার উত্তরে প্রবাহিত প্রমত্তা যমুনা এককালে কাজিপুরকে উর্বর ভূমিতে পরিণত করলেও এর করালগ্রাসে কত এলাকা যে বিলীন হয়েছে তার কোন পরিসংখ্যান নেই। পূর্ব কাজিপুরের বিস্তর্ণ এলাকা ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এককালের নদী বন্দর কাজিপুরের ভাগ্যেও একই পরিণতি হয়েছে। কাজিপুর ঘাটের উভয় পাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চিরতরে হারিয়ে গেছে।

যমুনার ভাঙ্গন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয়রা জানান, এক সময় নাটুয়ারপাড়া ও রতনকান্দি বাজার ছিলো এ অঞ্চলের প্রসিদ্ধ ব্যবসা কেন্দ্র। বাজারটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। যেকোন সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এদিকে উপজেলা শহরও ভাঙ্গন কবলিত।

কাজিপুর থানা ও নাটুয়ারপাড়া পুলিশ ফাঁড়িটি কয়েক বছর আগে নদীগর্ভে চলে যায়। আর এখন থানা ভবন ভাঙ্গনের মুখে। একাধিকবার স্থানান্তর করা সত্ত্বেও পরিস্থতির তেমন কোন উন্নতি হয়নি। এখন যেখানে নাটুয়ারপাড়া বাজার, এক সময় এটি সেখানে ছিল না। এটি ছিল নদীর পাড়ে। কিন্তু নাটুয়ারপাড়া বাজারের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটেছে গত কয়েক বছরে।

কালের বিবর্তনে এক সময় বাজারটি বিলীন হয়ে যায়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, ৩৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাজিপুর উপজেলা ভৌগোলিকভাবে দুইটি নদী দ্বারা বেষ্টিত। যমুনার ভাঙ্গন পশ্চিমের জনপদ বিলীন হয়ে গেছে। কাজিপুর সদর, মাইজবাড়ী, শুভগাছা ও গান্ধাইল ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি নদী ভাঙ্গন কবলিত। এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়েছে।
বর্ষাকালে নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করে। আর নদী ভাঙ্গনের কারনে এসব এলাকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া ছাড়াও শিক্ষা-দীক্ষায় বেশ পিছিয়ে পড়ছে। কাজিপুর উপজেলায় শিক্ষিতের হার ৩৭ দশমিক ৫ ভাগ।

অন্যকে কাজিপুর উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের ভাঙ্গন কবলিত এলাকার সমস্যা আরো প্রকট। সেখানে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে। জানা গেছে, ১০/১২ কিলোমিটার নদী শাসন করলেই এই সমস্যা থেকে নিস্কৃতি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এই বিষয়ে কোন সরকারই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ফলে নদীর তীর ভেঙ্গেই চলেছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন কিংবা কোন সরকারেরই মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদীটির তীর শাসন করতে পারলেই এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কাজিপুর উপজেলার নদী ভাঙ্গন কবলিত অধিবাসীরা এই দুর্দশা থেকে মুক্তি চান।


আরো সংবাদ