২০ অক্টোবর ২০১৮

বগুড়ায় ঋণ খেলাপি মামলায় গ্রেফতার শিল্পপতির স্ত্রী : অতঃপর জামিন

-

বগুড়ায় আদালতের পরওয়ানা জারির ছয় বছর পর গ্রেফতার হয়ে ছয় ঘন্টার মধ্যেই জামিন পেয়েছেন বগুড়ার আলোচিত ঋণ খেলাপি ও শিল্পপতির স্ত্রী শিরিন আখতার ঝুনু।
জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে ২০১২ সালে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে বগুড়ার একটি আদালত। এরপর প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। এমন কি পরওয়ানার কাগজপত্রও গায়েব ছিলো দীর্ঘদিন। অবশেষে গত সোমবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু মাত্র ছয় ঘন্টাতেই জামিন পেয়ে যান তিনি। বগুড়ার আলোচিত ঋণ খেলাপি শিরিন আখতার ঝুনুই শুধু নন তার স্বামী মোমিনও রাঘব বোয়াল। কৌশলে তিনি তার নামে প্রায় ৫-৬টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স করেন।
নিয়ম অনুযায়ী ওই সব প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১৫৮ কোটি টাকা লোন নিয়েছেন তিনি। মোমিন তার স্ত্রীর নামেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। তার পর সেই সব প্রতিষ্ঠানের নামেও স্ত্রীকে দিয়ে লোন তোলেন। শিরিনও ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৩১৬ টাকা ঋণ খেলাপি হয়। ইসলামী ব্যাংক বগুড়া শাখা তার কাছে এই টাকা পাবে। ব্যাংক দীর্ঘদিন চেস্টা করেও সেই টাকা তুলতে না পেরে মামলা করেন। সেই মামলায় ২০১২ সালে শিরিনের বিরুদ্ধ গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করে আদালত।
কিন্তু দীর্ঘদিন পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করায় ওই মামলায় নতুন করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেন। সেই অনুয়ায়ী ওই দিন রাতে শিরিনকে পুলিশ গ্রেফতার করে । পরের দিন আদালতে হাজির করলে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার বাদী এবং বিবাদী পক্ষের আইনবীজীদের বক্তব্য শুনেন। আদেশ পরে দেয়া হবে বলে এজলাস শেষ করেন। পরে রাতে তাকে জামিন আদেশ দেয়া হয়।
ব্যাংকের পক্ষের আইনজীবী কামাল উদ্দিন জানান, শিরিন যে মামলার আসামী তাতে জামিন যোগ্য নয়। কিভাবে তিনি জামিন পেলেন বিষয়টি তার বোধগম্য নয়। ওই আইনজীবী আরো বলেন, একজন আসামী গ্রেফতারি পরওয়ানা নিয়ে ছয় বছর ঘুরে বেড়িয়েছেন। ওই আসামী আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এতো দিন চলেছে।
এবিষয়ে ইসলামী ব্যাংক বগুড়া শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা প্রধান আশরাফুল আলম জানান, শিরিনকে গ্রেফতার করার পর কিছুটা আশার আলো দেখছিলো ব্যাংক। কিন্তু মাত্র ছয় ঘন্টা পরেই তিনি জামিনে বের হয়ে যাবেন এমনটা তিনিও ভাবেননি। তিনি শংকিত টাকাগুলো ফেরত পাওয়া নিয়ে। ব্যাংকের প্রায় সব টাকাই জনগনের আমানত। তারা সেই আমানতের টাকাগুলো তুলতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, জহুরুল হক মোমমিন এবং তার স্ত্রী শিরিন আখতার ঝুনুর কাজই হচ্ছে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ফেরত না দেয়া। এভাবে তারা স্বামী স্ত্রী দুই জনের নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১৬২ কোটি টাকা লোন নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। শেষ পর্যন্ত শিরিনের নামে ২০০৯ সালের ২ আগস্ট বগুড়া জেলা অর্থঋণ আদালতে একটি মামলা করে ব্যাংক। তৎকালীন ব্যাংকের বগুড়া শাখার সিনিয়র অফিসার রেজাউল করিম মামলার বাদী হন। ওই মামলায় আদালাত ২০১২ সালের ১৬ জুলাই ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৩১৬ টাকা পরিশোধ এবং তাকে গ্রেফতারের আদেশ দেন। এর আগে মোমিন আরেকটি মামলায় সাড়ে চার বছর কারাভোগ করেছে।


আরো সংবাদ