২৩ অক্টোবর ২০১৮
নওগাঁর ঈদবাজার

'ডালি গাউন' কিনে দেউলিয়া

ডালি গাউন
ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘ভজ গোবিন্দ’ নাটকের চরিত্র ডালি চৌধুরী। ওই চরিত্রের নামে দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে ডালি গাউন ও ডালি স্কার্ট - নয়া দিগন্ত

নওগাঁয় এবার তুলনামূলক আগেভাগেই জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ফুটপাত থেকে শুরু করে বহুতল শপিং কমপ্লেক্স সব জায়গাতেই শিশু ও নারী-পুরুষের পদচারণায় সরগম হয়ে উঠেছে। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঈদবাজার উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা বিপণি বিতানগুলো আলোকসজ্জা করেছেন। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ক্রেতার ভীড়ও তত বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিক্রি বেশি। রোজার শুরু থেকেই এবার মার্কেটে কেনাকাটা জমে উঠলেও দিন যত যাচ্ছে ক্রেতাদের ভীড় তত বাড়ছে। বিক্রয় কর্মীদের এখন দম ফেলানোর সময় নেই। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে শুক্রবারেও খোলা থাকছে শহরের বিপণি বিতানগুলো। এখন পর্যন্ত বেচাকেনা নিয়ে সন্তুষ্ট বিক্রেতারা। তবে দোকানদাররা জিনিসপত্রের দাম বেশি চাচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

সরেজমিনে গত সোমবার ও মঙ্গলবার শহরের দেওয়ান বাজার, আনন্দবাজার শপিং কমপ্লেক্স, জহির প্লাজা, মক্কা মার্কেট, শুভ প্লাজা, ইসলাম মার্কেট, সৌদিয়া সুপার প্লাজা, মাজেদা সুপার মার্কেট ইত্যাদি অভিজাত মার্কেটে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। বিকেলে এবং সন্ধ্যার পর এসব মার্কেটে ভীড় দেখা গেছে। কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভীড় সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। তার মধ্যে আয়োজনের ভিন্নতার কারণে আসমান বিগবাজার, শিলামনি, শিপলু বুটিকস, বাঁকুড়া বস্ত্রালয়, কুমাখালী বস্ত্রালয়, পালকী বুটিকস, প্রিয়া ফ্যাশন সহ বেশ কিছু দোকানে ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি ভীড় জমাচ্ছেন। বিপণি বিতানগুলোতে নারী ও শিশুদের ভীড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় সব বয়সী মেয়েদের জন্য বিভিন্ন ধরণের থ্রি পিস, টপস, জিপসি, ফ্লোর টাচ নামের পোশাক রয়েছে বিপণি বিতানগুলোতে। এসব পোশাক এক হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তরুণীদের হাল ফ্যাশনের বিভিন্ন ধরণের গাউন, ফ্রগ ও লেহেঙ্গা চাহিদাও রয়েছে প্রচুর।

ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘ভজ গোবিন্দ’ নাটকের চরিত্র ডালি চৌধুরী। ওই চরিত্রের নামে দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে ডালি গাউন ও ডালি স্কার্ট। এই গাউন ও স্কার্ট বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়। এছাড়া পদ্মাবত সিনেমার চরিত্র রাণী পদ্মাবতীর নামে বাজারে আসা ‘পদ্মাবতী লেহেঙ্গা’ তরুণীদের মাঝে বেশ সাঁড়া ফেলেছে। এই লেহেঙ্গা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে আট হাজার টাকায়। ছেলেদের সুতি পাজামা-পাঞ্জাবী এক হাজার থেকে সাত হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

আনন্দবাজার শপিং কমপ্লেক্সের পোশাকের দোকান শিলামনির বিক্রয়কর্মী রনি তালুকদার বলেন, ‘ভজ গোবিন্দ নাটকের নায়িকা ডালি চৌধুরী যে সব গাউন ও স্কার্ট পড়েছে মেয়েরা ওই পোশাকগুলো বেশি কিনছে। এইবার ডালি গাউন ও স্কার্ট হিট। শুধু বড়রা না ছোটদের জন্যও এই পোশাক আছে। এছাড়া পদ্মাবতী লেহেঙ্গাও ভালো বিক্রি হচ্ছে।’

দেওয়ান বাজার মার্কেটের আসমান বিগবাজার দোকানের সত্ত্বাধিকারী ওহিদুর রহমান বলেন, ‘দশ রমজানের পর থেকেই এবার ঈদের কেনাকেটা পুরো দমে জমে উঠেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসা ভালই হবে বলে মনে হচ্ছে। আমাদের দোকানে সব ধরণের কালেকশন রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের হাল ফ্যাশনের কথা মাথায় রেখে দোকানে বিভিন্ন ধরণ ও দামের পোশাকের সমাহার রেখেছি। এর মধ্যে তরুণীদের বেশি পছন্দ দেখা যাচ্ছে ডালি গাউন-এর প্রতি।’

ঈদের কেনাকাটা করতে মহাদেবপুর উপজেলা থেকে তিন মেয়েকে সাথে করে নওগাঁ শহরের দেওয়ানবাজার মার্কেটে এসেছেন নারগিস বেগম। বলেন, ঈদ উপলক্ষে বড় ও মেঝ মেয়ে বায়না ধরেছে ডালি গাউন কিনে দিতে হবে। আর ছোট মেয়েটার পছন্দ ডালি স্কার্ট। তিনটা জামা কিনতে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হলো। মেয়েদের আবদার পূরণ করতে দেউলিয়া হয়ে গেলাম।’

নওগাঁ পোশাক মালিক সমিতির সভাপতি সাজাহান আলী বলেন, ‘নওগাঁয় বেশ কিছু ভাল মানের তৈরি পোশাক বিক্রির দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানগুলোতে ক্রেতাদের রুচি এবং ফ্যাশনের কথা মাথায় রেখে বিক্রেতারা পণ্যের সমাহার রাখছেন। আর ছিট কাপড়ের জন্য আগে থেকেই নওগাঁর একটা সুনাম রয়েছে। ফলে নওগাঁর লোকজনকে কেনাকাটার জন্য বাইরের শহরে যেতে হয় না।’

 

আরো পড়ুন : চান্দিনায় প্রতিদিন বিক্রি প্রায় ৬ কোটি টাকা

চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

জমে উঠেছে ঈদ বাজার। রাজধানী বা জেলা শহরের শপিং মলের পোশাক ও কসমেটিক মার্কেট থেকে বিকিকিনিতে কোন অংশে পিছিয়ে নেই নেই উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের দোকানগুলোতে। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন অন্তত ৬ কোটি টাকা। যা গত যে কোন বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

দৈনিক অন্তত ৬ কোটি টাকা বিক্রির আওতায় রয়েছে উপজেলার চান্দিনা বাজার, মাধাইয়া বাজার ও নবাবপুর বাজার। এর মধ্যে শুধুমাত্র চান্দিনা বাজারেই প্রতিদিন অন্তত ৫ কোটি টাকারও বেশি কাপড়-চোপড়, জুতা ও প্রসাধনী বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে চান্দিনা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতা আকর্ষনের জন্য প্রতিটি কাপড়, জুতা ও প্রসাধনীর দোকানে বাড়তি আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। প্রতিদিনের বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে বাজারের কাপড়িয়া পট্টির গলি গুলোর উপরে ত্রিপাল দেওয়া হয়েছে। যাতে করে কাপড় পট্টির ভিতরে এ মার্কেট থেকে ওই মার্কেটে ক্রেতাদের যাতায়াতে বিঘœ না ঘটে। 
চান্দিনা বাজারে অন্তত পাঁচ শতাধিক লেডিস, জেন্টস ও চিলড্রেনদের কাপড় দোকান রয়েছে। ওই সব দোকানগুলোতে সর্ব নি¤œ ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রায় ৭০টি জুতা দোকানে গড়ে বিক্রি হচ্ছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। ৬০টি প্রসাধনী দোকানেও প্রতিদিন অর্ধকোটি বিক্রি হচ্ছে।

চান্দিনা কাপড় বাজারের ব্যবসায়ী সুমন দেবনাথ জানান, কাপড় পট্টিতে যে পরিমান বেচাবিক্রি হচ্ছে এর মধ্যে লেডিস ও চিলড্রেনদের আইটেমই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তুলনা মূলক জেন্টস আইটেম বিক্রি কম। তবে কাপড় পট্টির বাহিরে জেন্টস আইটেম ভাল বিক্রি হচ্ছে। 
তবে চান্দিনা কাপড়িয়া পট্টির চেয়ে হাই স্কুল মার্কেটে রয়েছে তরুন ও যুবকদের পছন্দের পোশাকের সমাহার। যারফলে তরুন ও যুবকরা ওই সব দোকানগুলোতেই বেশি ভীড় জমাচ্ছে।

বাজারের সাজ্জাত সুজ এর মালিক সাজ্জাত হোসেন জানান, রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে ক্রেতারা কাপড়-চোপড় কেনাকাটায় বেশি ব্যস্ত থাকে। জুতার চাহিদা সব সময় পড়ে। এখন কেনাকাটা প্রায় শেষের দিকে। যারফলে নিজের পছন্দের পোশাকের সাথে মানিয়ে জুতা কিনতে ভীড় করছে। গত ৪-৫দিন যাবৎ জুতা বিক্রি বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিটি জুতা দোকানে গড়ে ৫০-৬০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের সব চেয়ে বড় প্রসাধনী দোকান টিপু কসমেটিক্স এর মালিক টিপু আহমেদ জানান, বাজারে অন্তত ৬০টিও বেশি প্রসাধনী দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকানে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আশা করি বৃহস্পতি ও শুক্রবার আশাকরি বিক্রি আরও বাড়বে। এখন প্রতিটি নারী-ই তার পছন্দের পোশাকের সাথে মিল রেখে তার প্রসাধনী কিনতে ভীড় জমাচ্ছে।

চান্দিনা বনিক সমিতির সভাপতি এরশাদুল হক ভ‚ইয়া জানান, গত যে কোন বছরের তুলনায় এবছর ঈদের মার্কেট বেশি জমজমাট। তবে বৃষ্টির ধারাবাহিক হানা না থাকলে হয়তো আরও বেশি বৃদ্ধি পেতো।


আরো সংবাদ