২২ জুন ২০১৮

১৬২ কোটি টাকা ব্যাংকঋণের দায়ে শিল্পপতির স্ত্রী গ্রেফতার

শিরিন আখতার ঝুনু। -

বগুড়ায় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১৬২ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নি ব্যবসায়ী জহুরুল হক মোমিন এবং তার স্ত্রী শিরিন আখতার ঝুনু। ইতোমধ্যেই মোমিন ব্যাংকের মামলায় সাড়ে ৪বছর জেল খেটেছেন। অপর দিকে, ২০১২ সাল থেকে গ্রেফতারি পরওয়ানা নিয়ে প্রকাশ্যে ছিলেন মোমিনের স্ত্রী শিরিন আখতার। অবশেষে সোমবার রাতে বগুড়ার জলেশ্বরীতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, শিরিন আখতার ঝুনু ও তার স্বামী মোমিন তাদের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান শিরিন ট্রেডিং অ্যান্ড কোম্পানির নামে ইসলামী ব্যাংক বগুড়া শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেননি। ব্যাংক বিভিন্ন ভাবে তাদের সাথে কথা বলেও টাকা আদায় করতে না পেরে ২০০৯ সালের ২ আগস্ট বগুড়া জেলা অর্থঋণ আদালতে একটি মামলা করে । তৎকালীন ব্যাংকের বগুড়া শাখার সিনিয়র অফিসার রেজাউল করিম মামলার বাদী। ওই মালায় আদালত ২০১২ সালের ১৬ জুলাই ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৩১৬ টাকা পরিশোধের আদেশ এবং শিরিনকে গ্রেফতারের আদেশ দেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই ওয়ারেন্ট জারি হওয়ার পরেও শিরিনকে পুলিশ গ্রেফতার করেনি। প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ছিল। শিরিন ২০১২ সাল থেকে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরওয়ানা মাথায় নিয়ে দাপটের সাথে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলার বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে সোমবার দিবাগত রাতে শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকা থেকে ঈদের কেনাকাটার সময় পুলিশ শিরিনকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। শিরিনের পক্ষে জামিন আবেদন করলে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার বাদী এবং বিবাদী পক্ষের আইনবীজীদের বক্তব্য শুনে আদেশ পরে দেয়া হবে বলে এজলাস ত্যাগ করেন।

অপরদিকে, শিরিনের স্বামাী জহুরুল হক মোমিন ইসলামী ব্যাংক বগুড়া শাখা, প্রাইম ব্যাংক, এসআইবিএল ব্যাংকসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেননি। এর মধ্যে কিছু ব্যাংক তাদের মর্গেজের সম্পত্তি দখল করেছে। ইসলামী ব্যাংক বগুড়া শাখা মোমিনের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে। সেই মামলায় মোমিন ইতোমধ্যেই সাড়ে ৪ বছর জেলে খেটেছেন। বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই দম্পতির সাথে কোনভাবেই পেরে উঠতে পারছে না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সাধারণ মানুষের আমানতের টাকা তারা ঋণ নিয়ে নিজেদের অঢেল সম্পত্তি করেছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের সহজ কিস্তির সুযোগ করে দেয়ার প্রস্তাব দিলেও তারা শোনেননি।

এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক বগুড়া শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা প্রধান আশরাফুল আলম জানান, মোমিন এবং শিরিনকে ব্যাংক থেকে বহুবার ঋণ পরিশোধের জন্য বলা হলেও তারা কোনভাবেই টাকা ফেরত দেয়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংক মামলা করতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরো জানান, ব্যাংকের মামলায় আদালত ২০১২ সালে শিরিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করেছিলো। তারপরেও শিরিন গ্রেফতার হননি। আবারো নতুন করে পুলিশের সহযোগিতা চাইলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

বগুড়া সদর ওসি বদিউজ্জান জানান, শিরিন ট্রেডিং অ্যান্ড কোমম্পানির সত্ত্বাধিকারী শিরিন আখতার ঝুনুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরওয়ানা ছিলো। পুলিশ তাকে অনেক দিন থেকে খুঁজছিলো। সোমবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিক্তিতে পুলিশ জানতে পারে শিরিন জলেশ্বরীতলায় ঈদের কেনাকাটা করছেন। দ্রুত পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


আরো সংবাদ