১৬ আগস্ট ২০১৮

জবি ছাত্রী মিমের পড়াশুনার দায়িত্ব নিলো স্থানীয় প্রশাসন

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুশফিকুর রহমানে সাথে মিম ও তার বাবা-মা। ছবি - নয়া দিগন্ত।

অর্থের অভাবে গত এক মাস ধরে বাড়িতে বসে বসেই অলস সময় কাটাচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের প্রথম সেমিষ্টারের মেধাবী ছাত্রী শারমিন আকতার মিম। এ বিষয়ে খবর কয়েকদিন আগে ‘দৈনিক নয়া দিগন্ত’সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হলে তা মূর্হুতে ভাইরাল হয়ে যায়। দেশ-বিদেশ থেকে ফোন আসতে থাকে।

এক পর্যায়ে সাংবাদিকরা মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুশফিকুর রহমানকে বিষয়টি অবগত করেন। এতে তিনি অনুপ্রাণিত হয়ে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে স্ব-শরীরে মিমের বাড়িতে উপস্থিত হন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা খন্দকার মুশফিকুর রহমান তার পিতা-মাতার সাথে মিমের লেখাপড়ার বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং মিমকে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি মিমকে বলেন, তুমি কোন চিন্তা কর না, তোমার পড়াশোনার যাবতীয় খরচ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে। উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রাখবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা তারেক এলাহী, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মামুনুর রশিদ, সাংবাদিকবৃন্দ, সমাজসেবী আবদুল হাই বাদশা প্রমূখ।

 

আরো দেখুন : অর্থের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লো মেধাবী ছাত্রী মিম

অর্থের অভাবে বাড়িতে বসে অলস সময় কাটছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্রী শারমিন আকতার মিমের। পড়াশোনার খরচ জোগাতে না পারায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে পরিবারের সঙ্গেই গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। গত প্রায় ৫ মাসে তার ৫০হাজারের বেশি টাকা খরচ হয়ে গেছে। বর্তমানে রিকশা চালক পিতার পক্ষে তার পড়াশোনার খরচ যোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় একটি সম্ভাবনাময় স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনাশ হতে চলেছে।

শারমিন আকতার মিম জানায়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ৩৯৬ নম্বরে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ভর্তি হন তিনি। গত ১০ জানুয়ারি থেকে প্রথম সেমিস্টারের ক্লাসও নিয়মিত শুরু করেন। তবে আবাসিক হল না পাওয়ায় মেসে থেকে পড়াশোনা চালাতে থাকেন তিনি। কিন্তু তার জন্য প্রতি মাসে থাকা-খাওয়া বাবদ প্রায় ৭ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। যেটা তার দরিদ্র রিকশাচালক পিতার পক্ষে জোগান দেয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই গত এক মাস ধরে বাড়িতেই বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন তিনি। তার প্রশ্ন এ সমাজে এমন কি কেউ নেই যে, তার পড়াশোনার খরচ যোগাতে সহায়তা করবেন? যাতে তার ভবিষ্যত অনাগত স্বপ্ন সত্যি হতে পারে!

শারমিন আক্তার মিম নওগাঁর মান্দা উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়নের ঘাটকৈর গ্রামের রিকশাচালক জামাল হোসেন ও গৃহিণী মা মোরশেদা খাতুনের বড় মেয়ে। ছোট বোন শাহারা আফরিন মান্দা এসসি পাইলট স্কুল ও কলেজে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

জানা যায়, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া মাত্র চার শতাংশ জমির মালিক মিমের পিতা জামাল হোসেন। সেখানেই টিন ও বুনের বেড়া দিয়ে তৈরি একটি ঝুপড়ি ঘরে ঠাসাঠাসি করে পরিবারের চারজন সদস্যের একত্রে বসবাস। শারমিন আক্তার মিম ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। অভাব ও দরিদ্র তাকে দমাতে পারেনি কখনো।

মান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালের ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় ৫১০ নম্বর পেয়ে বৃত্তিলাভ করেন। মান্দা এসসি পাইলট স্কুল ও কলেজ থেকে ২০১২ সালে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে বৃত্তি পান। পরে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৫ সালে মাধ্যমিকে আবার জিপিএ-৫ এবং ২০১৭ সালের নওগাঁ সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ- ৪.২৫ অর্জন করেন।

হতদরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা মিম এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এতদিন পড়াশোনা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এখন উচ্চশিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও টাকার অভাবে এখন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না তার পক্ষে।

শারমিনের মা মোরশেদা খাতুন অশ্রসিক্ত নয়নে সাংবাদিকদের জানান , শত কষ্টের মাঝেও মেয়ে দু’টিকে শিক্ষিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছি। আমাদের পক্ষে কিছুতেই প্রতিমাসে এত টাকা যোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য মাঝপথে টাকার অভাবে মেয়ে মিমের স্বপ্ন এখন স্বপ্নই রয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে সে প্রথম সেমিষ্টারে ভর্তি হয়ে অধ্যয়ন করছে। কিন্তু ঢাকা শহরে রেখে আমাদের মতো অসহায় ও হত-দরিদ্র পরিবারে পক্ষে মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তিনি দেশ বিদেশে অবস্থারত সমাজের উচ্চ বিত্তদের কাছে মেয়ে মিমের উচ্চ শিক্ষার জন্য অর্থ সাহায্য কামনা করেছেন।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানাঃ মোছাঃ শারমিন আক্তার মিম, পিতাঃ জামাল হোসেন, গ্রামঃ দোসতি, উপজেলাঃ মান্দা, জেলাঃ নওগাঁ। পিতার মুঠোফোন নম্বরঃ ০১৭৭৫৬১১৯৮১, ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, মান্দা শাখা, হিসাব নম্বর এসএমএসঃ ২০৫০৩৮৯৬৭০০০১৫৪১০।

 


আরো সংবাদ