১৮ নভেম্বর ২০১৯

ফেসবুকের নতুন লোগো!

-

ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য অ্যাপ থেকে মূল প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করতে নতুন লোগো উন্মোচন করেছে ফেসবুক।
নতুন এই লোগোটি মূল ফেসবুকের মোবাইল অ্যাপ থেকেও প্রতিষ্ঠানকে আলাদা রাখবে। তবে সামাজিক মাধ্যমের লোগো থাকছে
অনেকটা আগের মতোই। লিখেছেন আহমেদ ইফতেখার
ফেসবুকের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা অ্যান্টোনিও লুসিও বলেন, স্বচ্ছতার জন্যই নতুন ব্র্যান্ডিংয়ের নকশা করা হয়েছে এবং কাস্টম টাইপোগ্রাফি ও বড় হাতের অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে যাতে প্রতিষ্ঠান এবং অ্যাপকে সহজেই আমাদের গ্রাহকরা আলাদা করতে পারে।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নিজেদের পণ্য এবং প্রচারণার উপাদানে নতুন ব্র্যান্ডিংয়ের ব্যবহার শুরু করবে ফেসবুক। নতুন একটি প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটও চালু করা হবে নতুন লোগো দিয়ে। ফেসবুক অ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, অকুলাস, ওয়ার্কপ্লেইস, পোর্টাল এবং ক্যালিব্রার মতো বেশ কিছু সেবা রয়েছে মূল প্রতিষ্ঠানের আওতায়।
ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়, নতুন লোগোতে কাস্টম টাইপোগ্রাফি ব্যবহার করা হয়েছে এবং স্পষ্টতার জন্য নকশা করা হয়েছে যাতে প্রতিষ্ঠান এবং অ্যাপকে চোখের দেখায় আলাদা করা যায়। ফেসবুকের মালিকানা কাঠামোর মাধ্যমে গ্রাহক সেবা ব্যবহার করে শেয়ার, কমিউনিটি তৈরি ও দর্শক বাড়ানোর কাজ করে তাদের সঙ্গে যাতে আরো ভালোভাবে যোগাযোগ করা যায় তার জন্যই এই পরিবর্তন।
লোগো ছাড়াও ফেসবুকে সঠিক ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে নতুন ফিচার চালু হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে পরিচয় শনাক্ত করতে ব্যবহারকারীর চেহারা স্ক্যান করবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনে ওই ফিচারটিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি ফেসবুক অ্যাপের ডেভেলপার ও গবেষক জেন ম্যানচুন ওং দাবি করেন, ফেসবুক আইডেনটিটি ভেরিফিকেশন হিসেবে যে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, এতে ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন দিক থেকে সেলফি ধারণ করতে বলবে। একটি বৃত্তের মধ্যে ব্যবহারকারীকে তা চেহারার বিভিন্ন দিকের ছবি জমা দিলে তারপর ফেসবুক সে অ্যাকাউন্টটি প্রকৃত অ্যাকাউন্ট বলে নিশ্চিত করবে।
সম্প্রতি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়ে নতুন করে গাফিলতির চিত্র সামনে এসেছে। ফেসবুক জানিয়েছে, শতাধিক অ্যাপ ডেভেলপার ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যে অবৈধ ও যথাযথ উপায়ে প্রবেশাধিকার পেয়েছিল। তৃতীয় পক্ষীয় এসব ডেভেলপারের কাছে ৬০ দিন পর্যন্ত এ তথ্যভাণ্ডার উন্মুক্ত ছিল। তবে এ থেকে বড় কোনো অঘটনের প্রমাণ মেলেনি। বিষয়টি নজরে আসার পর ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদার করেছে ফেসবুক।
ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির পর ব্যবহারকারীদের তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তা নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করে ফেসবুক। ওই সময় তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ডেভেলপাররা সরাসরি ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারত। এসব ডেভেলপারের কাছ থেকেই তথ্য পেয়েছিল ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা।
পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা জোরদারে এ নীতিতে পরিবর্তন আনে ফেসবুক। বন্ধ হয়ে যায় ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রবেশাধিকারের সুযোগ। তবে কিছু অ্যাপ ডেভেলপার বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে গ্রুপ সদস্যদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। তাদের কাছে ব্যবহারকারীদের আইডি, প্রোফাইল পিকচার, আইডি লিংক ও গ্রুপ অ্যাক্টিভিটির তথ্য উন্মুক্ত ছিল। এসব ঘটনাকেই অযথা উপায়ে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফেসবুক। একাধিক ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে শতাধিক অ্যাপ ডেভেলপারের কাছে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত ছিল। অ্যাপ ডেভেলপাররা জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত এসব তথ্যে প্রবেশাধিকার পেয়েছে।
কতজন ব্যবহারকারীর কিংবা গ্রুপ সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষীয় অ্যাপ ডেভেলপারের হাতে গেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ফেসবুক। সিএনএনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

 

 


আরো সংবাদ