১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শিক্ষক খোঁজার মার্কেটপ্লেস ইয়োডা

-

অনলাইনে দুনিয়ায় এখন সুঁই-সুতা থেকে শুরু করে বাস-ট্রাক পর্যন্ত বিকিকিনি হচ্ছে। এর পাশাপাশি আছে গাড়ি, বাড়ি ও অফিস খোঁজার মতো প্লাটফর্ম। কিন্তু এটা কি জানেন, আপনার সন্তানের জন্য পছন্দের গৃহশিক্ষকের সন্ধান এখন অনলাইনেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব। ঘরে বসেই অনলাইনে শিক্ষক খোঁজার মার্কেটপ্লেস তৈরি করেছেন উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সালমান। ইয়োডা নামক এই মার্কেটপ্লেসের
আদ্যপান্ত নিয়ে লিখেছেন সুমনা শারমিন
অনলাইনে ইয়োডায় নিবন্ধন করলেই পাবেন পছন্দের গৃহশিক্ষক। আর ইয়োডায় শিক্ষকরা নিবন্ধিত হলে পাচ্ছেন নিজের চাহিদামতো শিক্ষার্থী। ইয়োডার মাধ্যমে আপনার আদরের সন্তানের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক পছন্দের পাশাপাশি ঠিক করতে পারবেন বেতন কত হবে, কখন বা কোথায় পড়াবে।

যাত্রা শুরুর গল্প
ইয়োডার জন্ম বা প্রতিষ্ঠা কিন্তু এতটা সহজে হয়নি। এর পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ সালমানের তিন বছরের শ্রম। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ছোট দুটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ শুরু করেন সালমান। এর পাশাপাশি ইউনিলিভার ও ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকোর মতো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এই উদ্যোক্তা। দীর্ঘ দিন চাকরির পর স্বাধীনভাবে কিছু করার তাগিদ থেকে ভালো বেতনের চাকরি ছেড়ে পুরোদমে উদ্যোক্তা হতে প্রথমে বনানীতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ট্রি হাউজ রেস্টুরেন্ট’। এই রেস্টুরেন্ট সফল হওয়ার পর তিনি আর একটি নতুন রেস্টুুরেন্ট না দিয়ে জমানো টাকা দিয়ে শুরু করেছেন অনলাইনভিত্তিক শিক্ষক খোঁজার মার্কেটপ্লেস ‘ইয়োডা’। নিজের পরিচিত অসংখ্য মানুষ ইয়োডার মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে এই তুষ্টি থেকেই পুরোদমে সময় দিচ্ছেন ইয়োডাতে।

কেন ইয়োডা
এই প্রশ্নটি মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে আমাদের সবারই জানা, শিক্ষাই শক্তি, শিক্ষাতেই মুক্তি। যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। অবুঝ শিশু অবুঝ প্রাণীর মতো অরক্ষিত, নির্ভরশীল। তাদের চলমান পরিস্থিতির সাথে অভিযোজন করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হচ্ছে শিক্ষা ও উপযুক্ত শিক্ষক। সাধারণত আমরা যখন বাসায় শিক্ষক ঠিক করি তখন তার মুখের কথায় সব কিছু বিশ্বাস করি। এটাই চিরাচরিত নিয়ম হয়ে গেছে। তবে এ ক্ষেত্রে ইয়োডা শিক্ষকের সব তথ্য আপনার সামনে উপস্থাপন করছে। এরপর আপনি তথ্য দেখে শিক্ষক পছন্দ করতে পারছেন সহজেই এবং এখানে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা একদম নেই।
ধরুন, আপনার বাসায় বুয়েটে পড়াশোনা করে এমন একজন শিক্ষক হিসেবে আপনার সন্তানকে পড়াতে আসেন। হঠাৎ করেই আপনি জানতে পারলেন তিনি আসলে বুয়েটে পড়াশোনা করেন না এবং পড়ানোর মানও ভালো নয়! তখন আবার নতুন করে সন্তানের জন্য শিক্ষক খুঁজতে হবে আপনাকে। এ ক্ষেত্রে আপনাকে শুধু কষ্ট করে ইয়োডার ওয়েবসাইটে (যঃঃঢ়ং://ুড়ফধনফ.পড়স) গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। অ্যাকাউন্ট তৈরি করে আপনি সহজেই আপনার সন্তানের জন্য পছন্দের শিক্ষক খুঁজে পাবেন।
ইয়োডার শিক্ষক নিবন্ধ প্রক্রিয়ায় অনেকগুলো ধাপ পার করতে হয়। প্রথম শিক্ষক নিজে সব তথ্য-প্রমাণ দিয়ে নিবন্ধন করবেন এর পর ইয়োডা কর্তৃপক্ষ সব তথ্য প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে যাচাই-বাছাই করে ইয়োডা প্লাটফর্মে অভিভাবকদের জন্য উন্মুক্ত করবে। এর ফলে অভিভাবকদের কোনোভাবে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ইয়োডা টিম
সব মিলিয়ে বর্তমানে ১৭ জনের একটি টিম কাজ করছে ইয়োডাকে আরো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। সালমান নিজে বিজনেস ফ্যাকাল্টির মানুষ হওয়ায় শুরুতে তিনি একটু ঝামেলায় পড়েছিলেন ইয়োডার প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে। কাজটিকে সহজ করেছেন ইয়োডার সিটিও রিফাত বিন রেজা। যার তত্ত্বাবধানে ইয়োডাতে শিক্ষক খোঁজার পাশাপাশি একটি হোয়াইট বোর্ড ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অডিও ভিজ্যুয়াল ইভেক্টসহ পুরো সেশন রেকর্ড করে রাখা যাবে। এটি মূলত দেশের ইলার্নিংয়ে নতুন সংযোজন। অর্থাৎ, কোনো শিক্ষক সরাসরি শিক্ষার্থীকে পড়াতে বাসায় না আসতে পারলেও এই ফিচারের মাধ্যমে অনায়াসে পড়াতে পারবেন।
ইয়োডা টিমের হেড অব অপারেশন মহীউদ্দিন কাজী স্মরণ বলেন, আমাদের হোয়াইট বোর্ড ফিচার চিরায়ত শিক্ষাব্যবস্থাকে অনেক সহজ করবে। আপনার হয়তো ঢাকার যানজট পেরিয়ে ফ্রেঞ্চ শিখতে যাওয়ার সময় নেই। তবে একটি নির্দিষ্ট সময় আপনি ঘরে বসে শিখতে পারেন। তাহলে আপনার সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচবে। হোয়াইট বোর্ড ফিচারটির মাধ্যমে আগামী দিনে দেশের রিমোর্ট প্লেসের শিক্ষার্থীদের নিয়েও কাজ করতে চায় ইয়োডা।

সেবার আওতা
আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর এখনো এক বছর পূর্ণ হয়নি ইয়োডার। শুরুতে ঠিক করা হয়েছিল শুধু ঢাকায় কাজ করবে ইয়োডা। তবে আগামী দিনে সমগ্র বাংলাদেশে শিক্ষা বিস্তারে ইয়োডার পরিকল্পনা রয়েছে।


আরো সংবাদ