১৮ নভেম্বর ২০১৯

দৃষ্টিপাত : প্রধানমন্ত্রীর কাছে মানবিক আবেদন

-

আমি ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে সালাম নেবেন। আমি হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার একজন বাসিন্দা। আওয়ামী লীগের একজন নিঃস্বার্থ ও একনিষ্ঠ কর্মী এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক।
আমি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। সন্তানদের সাধ্যমতো লেখাপড়া করিয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, শত চেষ্টার পরও সন্তানদের কারো একটা সরকারি চাকরি হয়নি। অবশেষে কোনো রকমে ছোট ছেলেটি ছাড়া সবার বিয়ে দিয়েছি। অন্য দিকে, আমি এবং আমার স্ত্রী শারীরিকভাবে হৃদরোগ, কিডনি, শ্বাসকষ্ট, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। বলতে লজ্জা নেই, চাইলেও পারি না ভালো চিকিৎসা নিতে। চালচলনে কাউকে বুঝতে দেইনি অভাব-অনটন। ছোট ছেলেটি বেশ কয়েকটা ভাইভা দিয়ে তারও কোনো চাকরি হয়নি। এই হতাশায় সে একবার আত্মহত্যা করতে চাইলেও কোনো রকমে বেঁচে যায়। কারণ, এই বৃদ্ধ বয়সে আজো একা আমাকেই পরিবারের ভরণ পোষণ করতে হচ্ছে। দিন-রাত এমন হতাশায় সে আবারো আত্মহত্যা করে কি না, বা কোনো আইনবিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়ে কি না তা নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। অন্য দিকে, বহু কষ্টে ছোট একটা ব্যবসা করতে গিয়ে একটা কোম্পানি আমাকে ঠকিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমি এবং আমার স্ত্রী রীতিমতো দিশেহারা। বয়স না থাকায় সে এখন আর চাকরিতে আবেদনও করতে পারছে না। তা ছাড়া চাকরি না থাকায় তাকে এখন পর্যন্ত বিয়েও দিতে পারছি না। কারণ বিয়ের ক্ষেত্রে চাকরিটা এলাকায় অনেক বড় বিষয়। এ অবস্থায় কখন কে মারা যাই আল্লাহ জানেন। আমাদের আকাশছোঁয়া স্বপ্ন ছিল অন্তত যোগ্যতা অনুযায়ী তার একটা সরকারি চাকরি হবে। বাধ্য হয়েই আজ আপনার শরণাপন্ন হলাম। আপনিই আমার শেষ ভরসা ও শেষ আশ্রয়স্থল।
তাই মৃত্যুর আগে আপনার মতো মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীর কাছে একজন বৃদ্ধ, হতভাগ্য বাবার করজোড় বিনীত অনুরোধ, কোনো টাকা-পয়সা নয়, বরং যোগ্যতা অনুযায়ী আমার সন্তানটির জন্য ভালো কিছু করবেন। ফলে সে একটা স্বাভাবিক জীবন পাবে, কয়েকজন নির্ভরশীল মানুষ হাঁপ ছেড়ে বাঁচবে এবং আমরাও শান্তিতে মরতে পারব।
মো: আজগর আলী
৭ নং ভাদেশ্বর ইউনিয়ন, বাহুবল, হবিগঞ্জ
[email protected]


আরো সংবাদ