১৮ অক্টোবর ২০১৯

আরব লিগ এবং ওআইসি : আস্থার সঙ্কট

-

মুসলমানদের সমস্যা উত্তরণের জন্য কোনো ইসলামিক ফ্রন্ট নেই, এমন দাবি যদি কেউ করেন সেটি অতিরঞ্জন হবে না। ২০০৮ সালের কথা, দামেস্কে আরব লিগের সম্মেলনে লিবিয়ার তদানীন্তন নেতা কর্নেল মোয়াম্মার গাদ্দাফি আরব নেতাদের সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের পর আরবলিগের অন্য নেতারাও তেমন ভাগ্য বরণ করবেন। তিনি বলেছিলেন, সাদ্দাম আমেরিকার পক্ষে যুদ্ধ করেছেন ইরানের খোমেনির বিরুদ্ধে, তারপর যুক্তরাষ্ট্র তাকে ছোবল মেরেছে। এটা এমন এক ভবিষ্যদ্বাণী, যা পরে গাদ্দাফির নিজের জীবনেও করুণভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল। তার গাড়িবহরে ফ্রান্সের বোমা হামলার পর সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করে নগ্ন অবস্থায় তার লাশ ফেলে রাখে। এ দিকে, ইরাকের পর পুরো লিবিয়া এখন প্রজ্বলিত। এভাবে মুসলিম বিশ্ব এক বিপর্যয় থেকে অন্য বিপর্যয়ের গহ্বরে পতিত হচ্ছে, তথাপি তাদের উদ্ধারের জন্য কোনো শক্তি নেই। এটাই মুসলিম বিশ্বের চরম ট্র্যাজেডি। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সমস্যা সমাধানসহ মুসলমানদের হারানো শৌর্য বীর্য ফিরিয়ে আনার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ওআইসি, আরব লিগ ও জিসিসি। সংস্থাগুলোর চার্টার দেখে এটাই আমরা ধরে নিয়েছি। কিন্তু মুসলিম বিশ্বে যেসব ঘটনা ঘটে চলেছে সেগুলো বিশ্লেষণ করলে এসব সংস্থার কার্যহীনতা ও অক্ষমতাই ফুটে ওঠে।
প্রথমেই সিরিয়া নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক। ২০১৬ সালের নভেম্বর। তখন মিসরের সুয়েজ খালের মোহনায় অবস্থিত কয়েকটি দর্শনীয় স্থানের ডকুমেন্টারির কাজ করছিলাম। এর মধ্যে ছিল জীবন্ত সামুদ্রিক মাছের বড় বড় অ্যাকুরিয়ামের জাদুঘর এবং কেল্লা কায়েদ বায়েত। আসরের নামাজ পড়ার জন্য একটি মসজিদের দিকে রওনা দিলাম। অনেক আগে জামাত শেষ হয়েছে। প্রকাণ্ড মসজিদ, বড় ফুলের বাগান রাস্তার দু’পাশে। নামাজের পর যেন সবাই হাওয়া হয়ে গেছেন। আমরা চারজন নামাজ শেষ করলাম। দোতলা থেকে প্রশস্ত সিঁড়ি সরাসরি রাস্তায় নেমেছে। সিঁড়ির গোড়ায় বোরকা পরিহিত এক মহিলা। আমরা নেমে যাচ্ছিলাম। মহিলাটি কাতরভাবে আমাদের দিকে তাকিয়েছিল। একটু এগিয়ে গেলে মহিলা বললেন, ‘সুরি’। আমরা কিছুই বুঝতে না পারায় সে আবারো বলল, সুরি, সুরিয়া। বলে উঠলাম, ‘সিরিয়া!’ তিনি মাথা নাড়লেন। সিরিয়া থেকে পালিয়ে মিসরে এসেছেন। আমরা কিছু অর্থ সাহায্য দিয়ে চলে এলাম। তাকে দেখে সম্ভ্রান্ত পরিবারের মনে হয়েছিল, সে মহিলা এখন অসহায় ভিক্ষুক! একটি সোনার দেশ পুড়ে ছারখার হয়ে গেল। সিরিয়ায় সরকারি বাহিনী, ডজনখানেক বিদ্রোহী বাহিনী, রাশিয়া, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, তুরস্ক, ফ্রান্স, কুর্দি বিভিন্ন ‘ইন্টারেস্ট’ নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেই।
আরব লিগ কিছুতেই এ সমস্যা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারে না। দুর্দশাগ্রস্ত সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক ও ইয়ামেনের আরব, যারা অন্যত্র অভিবাসী হতে চান, তাদের জন্য কোনো পলিসি কিংবা ঐকমত্যের চিন্তাভাবনা আছে কি-না তা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিরিয়া ও ইরাকের জন্য তাদের কোনো পরিকল্পনা আদৌ আছে কি না, তা মুসলিম উম্মাহ জানে না।
চমকে ওঠার মতো ব্যাপার হলো, অনেক আরব রাষ্ট্র বিভ্রান্তিকর সেকুলারিজমের দিকে ঝুঁকছে। ধর্মীয় কাজকর্মের ডাক দেয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেকুলারিজম যেন তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। কথিত ধর্মনিরপেক্ষ বা সেকুলার ধারণার কারণে, ইসলামী মূল্যবোধ আর তেমন কাজ করছে না। ফলে আরব জাতীয়তাবাদ, জেরুসালেম, ফিলিস্তিন, কাশ্মিরের মুসলমান, জিনজিয়াংয়ের মুসলমান, রোহিঙ্গাদের কান্নাÑ এসব অনেকের কাছে আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। ‘পশ্চিমা প্রভু’রা যা দিচ্ছে তা নিয়ে নিজেদের চাওয়া-পাওয়া ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সাজানো হচ্ছে। বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের কথা না হয় না বললাম, আরব হিসাবে আরব বিশ্বের জন্য আরব রাষ্ট্রগুলোর ভাবনাচিন্তাও বোধগম্য হচ্ছে না। সিরিয়া থেকে অনেক আরবকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে সিরিয়া কিভাবে বাঁচবে, এ নিয়ে আরব বিশ্বের কোনো ভাবনাচিন্তা বা কর্মসূচি রয়েছে কি না বিশ্ববাসী বা আরব সন্তানেরা জানেন না। সম্পদশালী কয়েকটি আরব রাষ্ট্র থাকা সত্ত্বেও সিরিয়া, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেনের আরবরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে অভুক্ত অবস্থায় রাস্তায় মারা যাচ্ছে, দু’ একজন নয়, শত শত। দেশ ছেড়ে প্রতি বছর পালাচ্ছে হাজার হাজার। এর পরও কোনো যৌথ কর্মসূচি আরবদের নেই। কিছু আরব রাষ্ট্রের অর্থে, বিশেষ করে সৌদি আরব ও আমিরাতের অস্ত্র কেনার চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রে সৃষ্টি হয়েছে হাজার হাজার চাকরির পদ। অথচ আরবরা বেকারত্বের অভিশাপে ধুঁকছে।
এর মধ্যে ৭০ লাখ সিরিয়ার নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, মুসলমানদের ছেড়ে অমুসলমানদের কাছে। যৎসামান্য মুসলমানদের দেশগুলোতে। সিরিয়ার ভেতর উদ্বাস্তু আরো ৬৫ লাখ। আরব লিগের ক’টি সভায় বা জিসিসির সভায় বিষয়টি আলোচিত হয়েছে? কিছু আরব নেতার দেশের দায়িত্বভার নেয়ার কোনো অধিকার আছে বলে মনে হয় না। যা হোক, কেন আরব লিগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল? সংস্থাটি আরবদের কী সেবা দিতে পেরেছে? আরবরা কোন আরব দেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে কতজন কোথায় আশ্রয় নিয়েছে? সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া ও ইরাকের অসহায় মানুষ কোথায় পাড়ি দিয়েছে, তার হিসাব প্রকাশ করা আবশ্যক। এটি আরব লিগ আর ওআইসির কাজ। কোন কোন দেশের গাফিলতির জন্য আরবরা কষ্ট পাচ্ছে তা কি কখনো এজেন্ডা তালিকাভুক্ত হয়েছে? তুরস্ক আজ অনেক আরবকে আশ্রয় দিচ্ছে। তাই এই দেশটির বেশি কথা বলার অধিকার রয়েছে।
লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে মুসলিম দেশগুলো অন্যদের স্বার্থে জড়িয়ে পড়া, সুদানের অচলাবস্থা, আলজেরিয়ার রাজনৈতিক সমস্যা প্রভৃতি ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের ভূমিকাহীনতা এবং আরব লিগ ও ওআইসির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে। এবার কাশ্মিরি মুসলমানদের বিশেষ রাজনৈতিক মর্যাদা লুণ্ঠিত হওয়ায় অনেকে মনে করছেন, মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় আরো জোরালো ভূমিকা রাখার জন্য শক্তিশালী একটি সংস্থা থাকা জরুরি। রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অহিংস রাজনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সব পক্ষ এগিয়ে না আসায় রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন এখনো সম্ভব হয়নি। জিনজিয়াং-এ অসহায় মুসলমানদের দুর্দশাও চীনের কথিত অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হয়ে যাওয়ায় কোনো দেশ এগিয়ে আসছে না।
সাদ্দাম হোসেন ২০০৩ সালে আক্রান্ত হওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘ইরাককে ধ্বংস করার জন্য কিছু পড়শি ও মুসলিম দেশ স্বার্থপরের মতো আচরণ করছে।’ বিবিসির ডকুমেন্টারিতে দেখা গেছে ইরাক ধ্বংস ও সাদ্দামের পতনের জন্য ব্রিটিশ গোয়েন্দারা কিভাবে ‘ইন্টেলিজেন্স’ সরবরাহ করেছিল।
আলজাজিরার ডকুমেন্টারিতে দেখানো হয়েছে, কিভাবে পাকিস্তান নিরপরাধ কয়েক শ’ উইঘুর মুসলিমদের ‘সন্ত্রাসীদের সাথে সহযোগিতা’র অভিযোগে গুয়ান্তানামো বে-তে পাঠিয়েছে। এখন কাশ্মিরের মুসলমানদের সমস্যা নিয়ে তাই ‘মুসলিম কার্ড’ তেমন কার্যকর হচ্ছ না। এভাবে ইরান ও বিভিন্ন আরব দেশের ‘মুসলিম কার্ড’ উঁচু করে ধরার নৈতিক শক্তি কমে গেছে।
এ দিকে, রোহিঙ্গা সমস্যা জটিলতর হচ্ছে। পাকিস্তান এ জন্য মিয়ানমারকে দোষারোপ করছে। পাকিস্তানের প্রখ্যাত অভিনেতা ও সোশ্যাল মিডিয়াস্টার হামজা আলী আব্বাসী বলেছেন, ‘পাকিস্তানের উচিত মিয়ানমারকে দোষারোপ করার আগে ১৯৭১ সালে যে হাজার হাজার রোহিঙ্গা করাচি এসেছিল, তাদের মৌলিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা।’ কাশ্মির সমস্যা নিয়ে দেশটির মিডিয়ায় বেশুমার রিপোর্ট প্রকাশ হচ্ছে। তবে আরব ও মুসলিম বিশ্ব তেমন সোচ্চার নয়। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, মুসলিম বিশ্ব চুপচাপ। প্রশ্ন তুলেছেন, আরব লিগ ও ওআইসির কাজ কী? ‘ডন’ পত্রিকায় বলা হয়েছে, “কাশ্মির প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলছেন, ভারতে মুসলিমদের ওপর অত্যাচার চলছে। অথচ এমন পরিস্থিতিতেই মোদির হাতে আরব আমিরাত ‘অর্ডার অব জায়েদ’ পদক তুলে দিয়েছে। মুসলিম দেশগুলো স্বার্থপরতার কারণে এ ইস্যুটি এড়িয়ে যাচ্ছে।” কাশ্মির র্যালিতে অংশ নেয়ায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানে তাদের দূতকে তলব করে নিয়ে যায়। তারা কাশ্মির প্রশ্নে জাতিসঙ্ঘে কখনো পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়নি। অপর দিকে, পাকিস্তানের টিভিঅ্যাংকর আহমদ কোরেশী বলেছেন, পাকিস্তানের উচিত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া!
সাদ্দাম ও গাদ্দাফি কেউ ফেরেশতা ছিলেন না সত্যি, কিন্তু তারা আরব জাতীয়তাবাদের ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কিছুটা হলেও চেষ্টা করেছিলেন। সে জন্য তাদের অসময়ে চিরবিদায় নিতে হয়েছে। লিবিয়া, ইয়েমেন ও ইরাক এক মুসলমান দেশ অন্য মুসলিম দেশ ও দলের সাথে মারাত্মক যুদ্ধের চোরাবালিতে ডুবে আছে।
আরব বিশ্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ইরান, হরমুজ প্রণালী, ইয়েমেনের যুদ্ধ, সকোত্রা দ্বীপ দখল, সিনাই উপদ্বীপে পানীয় জলের প্লান্ট তৈরি করে গাজা বা ইসরাইলে নেয়া, এসব নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে আমিরাত। কাশ্মির প্রশ্নে আমিরাত বলেছে, ‘কাশ্মির সমস্যা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’ আরো বলেছে, ‘এতে বরং জম্মু ও কাশ্মিরের মর্যাদা বাড়বে।’
৭০ বছর ধরে জম্মু ও কাশ্মিরে মুসলমানেরা যে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে এসেছেন, সেটি কেড়ে নেয়া হলেও আরব রাষ্ট্রগুলো চুপচাপ। এখন অকাশ্মিরিরা সেখানে বসত করতে পারবেন, জমি কিনতে পারবেন এবং ব্যবসাবাণিজ্য করতে পারবেন। কাশ্মিরিদের স্বায়ত্তশাসন উবে গেল। কুমি নাইডো, অ্যামনেস্টির সেক্রেটারি জেনারেল, জাতিসঙ্ঘকে হস্তক্ষেপ করতে বলেছেন এ ব্যাপারে। কাশ্মির ইউনিভার্সিটির প্রফেসর হামিদা নাইম বলেছেন, ‘এটা কাশ্মিরি মুসলমানদের নিষ্পেষণ ও হিন্দুত্ববাদের বিস্তার এবং মুসলমানদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করার প্রচেষ্টা।’ ফিলিস্তিনিদের তাড়িয়ে দিয়ে যেভাবে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, অনেকটা সেই পলিসি চালু করা হয়েছে। পাবলিক সেফটি অ্যাক্টে প্রায় চার হাজার গ্রেফতার হয়েছে, যাদের বেশির ভাগেরই দু’বছরের আগে মুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ। পাকিস্তান, তুরস্ক ও ইরানের কয়েকজন শীর্ষ ইমাম, বাংলাদেশের কিছু ইসলামী দল কাশ্মিরিদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। অনেক দেশ বলেছে, বিষয়টি ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ’ ব্যাপার। আরব দেশগুলো কাশ্মির ইস্যুতে সেখানকার জনগণকে কোনো সমর্থন জানায়নি। গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের সদস্য আরব দেশগুলো প্রকাশ্যেই ভারতকে সমর্থন দিয়েছে। এ দিকে, সৌদি আরামকো ১৫ মিলিয়ন ডলার মুম্বাইতে রিলায়েন্সে বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে। কাশ্মিরের জনসংখ্যার ৬৮.৩১ শতাংশ মুসলিম। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমিয়ে ৫০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা মোদির অপারেশনের লক্ষ্য। ওআইসি অনেক আগেই একজন দূতকে কাশ্মির ইস্যুতে নিয়োগ দিয়েছে। কাশ্মিরে মুসলমানদের মর্যাদা রক্ষা এবং কোনো প্রকার নির্যাতন না চালানোর জন্য ভারতকে ওআইসি আহ্বান জানিয়েছে। তবে ভারত সব সময় ওআইসিকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ভারত বোঝে ওআইসির সীমাবদ্ধতা। ওআইসির অনেক সদস্যরাষ্ট্র ভারতের ৮২ শতাংশ পেট্রল ও পেট্রল সামগ্রীর প্রয়োজন মেটায় আর ভারত থেকে এসব দেশ খাবার ও ইলেকট্রনিক পণ্য এবং দক্ষ জনশক্তি নেয়। ওআইসির দেশগুলোর সাথে ভারতে ‘ট্রেড ভলিউম’ ২৬২ বিলিয়ন ডলার।
পাকিস্তানের সাবেক সিনেট চেয়ারম্যান মিয়া রাজা রাব্বানি বলেছেন, ‘ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) থেকে পাকিস্তান সরে আসার এটাই সর্বাধিক উপযুক্ত সময়। এ সংস্থা জাতিসঙ্ঘের চেয়েও খারাপ।’ পাকিস্তান বলেছে, ‘মুসলিম উম্মাহর বেলুন ফুটো হয়ে গেছে। তাই নতুন করে ভাবতে হবে।’ কাশ্মিরি মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান প্রয়োজনে এককভাবে যুদ্ধের পণ করেছে। অপর দিকে, ফিলিস্তিনিদের জন্য আরবরা দু’বার ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ করে হেরে যাওয়ার পর নতজানু হয়েছে। জানা গেছে, বাহরাইন ইসরাইলের যুদ্ধকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে। অর্থাৎ ফিলিস্তিনিদের জন্য কার্যত কেউ নেই। হ
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum
portugal golden visa