২২ আগস্ট ২০১৯

স্ম র ণ : কমল দাশগুপ্ত

-

কমল দাশগুপ্তের আজ মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক। ১৯১২ সালের ২৮ জুলাই নড়াইলে তার জন্ম। ১৯৫৭ সালে ইসলাম ধর্ম এবং কামাল উদ্দীন আহমদ নাম গ্রহণ করে কমল দাশগুপ্ত প্রখ্যাত নজরুলসঙ্গীত শিল্পী ফিরোজা বেগমের সাথে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনিই প্রথম বাঙালি, যিনি উর্দু কাওয়ালি গেয়েছেন। কমল দাশগুপ্তের শিক্ষাজীবন শুরু কলকাতায়। ১৯২৮ সালে তিনি ক্যালকাটা অ্যাকাডেমি থেকে ম্যাট্রিক এবং পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে বিকম পাস করেন। উত্তর ভারতের মীরার ভজনে সুরের প্রয়োগ বিষয়ে গবেষণা করে তিনি ১৯৪৩ সালে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট অব মিউজিক ডিগ্রি লাভ করেন। খেয়াল, গজল, নাত, হামদ, আধুনিকসহ সব ধরনের সঙ্গীতে ছিলেন দক্ষতার অধিকারী।
কমল দাশগুপ্তের সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয় অগ্রজ অধ্যাপক বিমল দাশগুপ্তের কাছে। পরে দিলীপ কুমার রায়, কৃষ্ণচন্দ্র দে, ওস্তাদ জমিরউদ্দিন খাঁ প্রমুখের কাছে তিনি সঙ্গীত শিক্ষা করেন। তিনি বহু আধুনিক বাংলা, উর্দু, হিন্দি, ঠুমরি এবং ছায়াছবির সঙ্গীতে কণ্ঠদান ও সুরারোপ করেছেন। সুরের রাজ্যে কমল দাশগুপ্ত ছিলেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তার সুরের ভিত্তি ছিল রাগ। এর সাথে বাংলা গানের নানা ধারাকে ভেঙে একত্রে মিশিয়ে দিয়েছেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের সুরকার হিসেবেও কমল দাশগুপ্ত প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন। তার সুর দেয়া ও গাওয়া ‘তুফান মেল’, ‘শ্যামলের প্রেম’, ‘এই কি গো শেষ দান’ চলচ্চিত্রের গানগুলো এককালে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। অনেক হিন্দি ছায়াছবিতেও তিনি সঙ্গীত পরিচালনা করেন। তিনি প্রায় ৮০টি ছায়াছবিতে সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আমেরিকার ‘ওয়ার প্রপাগান্ডা’ ছবির নেপথ্য সঙ্গীতেও তিনি কাজ করেন। সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তার শেষ ছবি ‘বধূবরণ’। হায়দরাবাদের নিযামের সুবর্ণজয়ন্তীর বিশেষ গান তিনি রেকর্ড করেছিলেন। কমল দাশগুপ্ত নজরুলের ঘনিষ্ঠ সাহচর্য লাভ করেন এবং প্রায় ৪০০ নজরুলসঙ্গীতে সুরারোপ তার শিল্পীজীবনের বিরাট কৃতিত্ব। তার সুরারোপিত গানের সংখ্যা প্রায় আট হাজার। সঙ্গীতের ক্ষেত্রে তার মৌলিক অবদান স্বরলিপির শর্টহ্যান্ড পদ্ধতির উদ্ভাবন এবং স্টাফ নোটেশন পদ্ধতির স্বরলিপি স্থাপন। উল্লেখ্য, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রতিষ্ঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজের ‘মার্চিং সং’-এর সুর তারই দেয়া। হ

 


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet