২২ জুলাই ২০১৯

দৃষ্টিপাত : মাদক সেবন প্রতিরোধে যা প্রয়োজন

-

তরুণসমাজ দেশ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। দেশ যখনই ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করেছে, এগিয়ে এসেছে তরুণসমাজ। অক্ষুণœ রেখেছে প্রিয় মাতৃভূমির সম্মান। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধসহ সব আন্দোলনে আলোকবর্তিকা হয়ে জাতিকে পথ দেখিয়েছে তরুণসমাজ। কোনো দেশকে উন্নতির স্বর্ণশিখরে আরোহণ করাতে হলে অবশ্যই তারুণ্যের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। তরুণসমাজের মেধা ও মনন ধ্বংস করার জন্য আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে মাদক। এটা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক সমস্যা। মাদকের প্রভাবে নৈতিকতার বিপর্যয় এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। এর কারণে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ছে অপরাধ প্রবণতা। প্রতিদিনের সংবাদপত্র খুলতেই যেসব খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, রাহাজানির খবর পাওয়া যায়। এর অধিকাংশের সাথে জড়িত মাদকাসক্তরা। এই মাদকের কারণে প্রতি বছর দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। একজন মাদকসেবীই পুরো একটি সমাজের জন্য অস্থিরতা ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অবস্থায় যারা এর সাথে সম্পৃক্ত হয় তাদের ক্ষেত্রে পরিবেশ অনেকাংশে দায়ী। অসৎ সঙ্গের কারণে অনেকে এর সাথে জড়িয়ে যায়। নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যালসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যেভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, এটা দেশের ভবিষ্যতের জন্য বিরাট হুমকির ইঙ্গিত। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিশেষজ্ঞরা বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১৫ বছর পর দেশে মাদকমুক্ত তরুণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। আইন প্রয়োগ করে মাদক ব্যবসায়ের লাগাম কিছুটা টেনে ধরা গেলেও এর মাধ্যমে মাদক সেবনের লাগাম টানা প্রায় অসম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন সচেতন সমাজ ও সচেতন পরিবার। তাদের খেয়াল রাখতে হবে এদের কোনো সদস্য মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে কি না। মাদকসেবীদের চেনার বিভিন্ন উপায় আছে। যেমনÑ অস্বাভাবিকভাবে শরীরের ওজন কমে যাওয়া, চোখ লাল হয়ে থাকা, খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, পছন্দের কাজ বা খেলাধুলা থেকে বিরত থাকা, ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখা, কলেজ-ভার্সিটি বন্ধ হলেও বাড়িতে না আসা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, অযথা ঝগড়া বাধানো ইত্যাদি মাদক সেবনকারীদের কিছু আলামত। এই আলামতগুলো কারো মধ্যে পাওয়া গেলে তার দিকে ভালোভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। পরিবার যদি বুঝতে পারে যে, তাদের সন্তান মাদকাসক্ত তাহলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্ভব হলে বুঝিয়ে বিরত রাখতে হবে কিংবা রিহ্যাবে দিতে হবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। মাদক বিদ্যমান থাকলে সুস্থ সমাজ গঠন করা সম্ভব নয়। আর সমাজ সুস্থ না হলে সুস্থ জাতীয় জীবনও আশা করা যায় না। ফলে অনাচার, অবিচার, ব্যভিচার, দ্বন্দ্ব, সঙ্ঘাত লেগেই থাকবে।
রিফাত মাহদী
শিক্ষার্থী, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi