২৬ এপ্রিল ২০১৯

বেগম জিয়ার জরুরি চিকিৎসা চাই

-

বাংলাদেশের জনগণের অতি প্রিয় মানুষ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার বাম হাত ও বাম পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে। চোখেও প্রচণ্ড ব্যথা। পরিবারের সদস্য ও চারজন সিনিয়র আইনজীবী কারাগারে পৃথকভাবে তাকে দেখে এসে এ খবর জানিয়েছেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর কারাগারে বসানো আদালতে হুইল চেয়ারে করে তাকে উপস্থিত করানো হলে খালেদা জিয়া নিজেই বলেন, ‘আমি ভীষণ অসুস্থ। আপনারা মেডিক্যাল রিপোর্টগুলো দেখেন। এভাবে বসে থাকলে আমার পা ফুলে যায়। আমি বারবার আদালতে আসতে পারব না। এখানে ন্যায়বিচার নেই। যা ইচ্ছা সাজা দিতে পারেন।’
খুবই উদ্বেগজনক খবর। খালেদা জিয়ার এই শারীরিক পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মী ও দেশের মানুষ চিন্তিত এবং একই সাথে বিস্মিত। নির্মম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি আজ কারাগারে। তার প্রতি করা হচ্ছে চরম অন্যায়-অবিচার। ৭৩ বছর বয়সের জীবনে এসে দেশের এই প্রবীণ ও শীর্ষ রাজনীতিবিদ ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে একমাত্র বন্দী হিসেবে সহ্য করছেন এ অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন। জনমানবহীন কারাগারের ভুতুড়ে পরিবেশের মধ্যে একটি স্যাঁতসেঁতে ভবনে তাকে রাখা হয়েছে।
আজ ১১ সেপ্টেম্বর। ২০০৭ সালের এই দিনটিতে বেগম খালেদা জিয়া এক-এগারোর জরুরি সরকারের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু আজকের এই দিনটিতে তিনি আর মুক্ত নন। ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে সাত মাস ধরেই তিনি নিষ্ঠুর বন্দী জীবন অতিবাহিত করছেন। এমন অমানবিক আচরণ নেই, যা তার সাথে করা হচ্ছে না। অসুস্থতায় চিকিৎসার সুযোগ থেকে তিনি বঞ্চিত। ঈদের দিনে পরিবার থেকে পাঠানো খাবারটুকুও পর্যন্ত তার ভাগ্যে জোটেনি। একজন সাধারণ বন্দী যে সুবিধা পায়, সেটাও পাচ্ছেন না বেগম খালেদা জিয়া।
যে মামলায় বেগম খালেদা জিয়া আজ কারাগারে বন্দী, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সংক্রান্ত মামলা দু’টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই দুদক করেছিল। এক-এগারোর জরুরি সরকার দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শেখ হাসিনার সব মামলা প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার মামলাগুলো রেখে দেয়া হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা প্রায় ১০ বছর স্থগিত ছিল। কিন্তু দুই বছর আগে হঠাৎ মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ সরকার সচল করে এবং দ্রুততার সাথে এগিয়ে নেয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে বলেন, যেখানে লেনদেনই হয়নি, সেখানে কী করে দুর্নীতি হয়? খালেদা জিয়াও আদালতে বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন, এর তহবিল সংগ্রহ, ট্রাস্ট পরিচালনা এবং কোনো লেনদেনের সাথে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি কখনো পদের প্রভাব খাটাননি। রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই অনুমাননির্ভর, কল্পিত অভিযোগে তাকে জড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে কুয়েতের আমিরের ব্যক্তিগত অনুদান হিসেবে প্রায় চার কোটি ৬৭ লাখ টাকা আসে এতিম তহবিলের জন্য। তৎকালীন বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান এ টাকা আনার ব্যবস্থা করেছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে এতিম তহবিলের জন্য এ টাকা দিয়েছিলেন কুয়েতের আমির। ওই টাকার অর্ধেক একটি চেকের মাধ্যমে বাগেরহাটে মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিষ্ঠিত জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্টে দেয়া হয়। বাকি অর্ধেক টাকা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের জন্য দেয়া হয়। দু’টি প্রতিষ্ঠানে এ টাকা দেয়ার ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার কোনো ভূমিকা ছিল না। অথচ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাকেই এ মামলায় জড়ানো হয়।
বেগম জিয়ার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খানসহ আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি প্রমাণ পেশ করে বলেন, ‘এই মামলায় দুদকের পক্ষে এতিম তহবিলের যে নথিপত্র জমা দেয়া হয়েছে তা হাতে লেখা, ঘষামাজা করা এবং স্বাক্ষরবিহীন। কোনো মূল নথি পাওয়া যায়নি। আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করেই ছায়ানথি সৃজন করা হয়েছে। মামলার ৩২ জন সাক্ষীর কেউই বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বলেননি। বানোয়াট তথ্যের ভিত্তিতে করা এটি একটি সাজানো মামলা। তা ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে দেয়া টাকা থেকে একটি পয়সাও তছরূপ হয়নি। বরং সোনালী ব্যাংকে এফডিআর করে রাখা সেই টাকা এখন সুদাসলে প্রায় ছয় কোটি হয়েছে। তা ছাড়া দু’টি প্রতিষ্ঠানকে সমানভাবে ভাগ করে দু’টি চেকে টাকা দেয়া হলেও মামলা হয়েছে একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে। এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। জাল নথিপত্র তৈরি করে মামলাটি করা হয়েছে। জাল নথিপত্র তৈরি করা অপরাধ। জাল নথিপত্র তৈরি ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার অভিযোগে তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ছয়জন সাক্ষীর বরং শাস্তি হওয়া উচিত।’
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গ্রেফতার হয়েই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হয়। উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করা হলে জেলে যাওয়ার ২৫ দিনের মাথায় জামিন হলেও তার মুক্তি মেলেনি। একের পর এক আইনি জটিলতা সৃষ্টি করে আটকে দেয়া হয় তার মুক্তি। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ৩৬টি মামলা সচল করে তাকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়। আইনজীবীরা এসব মামলা নিয়ে সাত মাস ধরে একের পর এক আদালতের শরণাপন্ন হন। একটি মামলায় জামিন হলে অন্য মামলায় তার মুক্তি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আইনি পথে খালেদা জিয়া শিগগিরই মুক্তি পাবেন কি না আইনজীবীরা এখনো নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারছেন না। তারা বলছেন, যে মামলায় বেগম খালেদা জিয়া কারাভোগ করছেন অর্থাৎ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, সেই মামলায় তিনি সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। এ মামলায় জামিন পাওয়ার অর্থই হচ্ছে তিনি মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসবেন। অথচ সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপে কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলার জটিলতায় ফেলে তার মুক্তি আটকে দেয়া হচ্ছে। তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি কারামুক্ত হতে পারছেন না। ৩৬টি মামলার মধ্যে ৩৪টিতে তিনি জামিন পেয়েছেন। বাকি দু’টি মামলার আদালতে জামিন শুনানি অপেক্ষায় রয়েছে। কী হয় আইনজীবীরা তারই প্রতীক্ষা করছেন। এরই মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটির শুনানি সম্পন্ন করে রায় দেয়ার জন্য তোড়জোড় চালানো হয়েছে। সরকার কতটা প্রতিহিংসাপরায়ণ তার উদাহরণ হচ্ছে গত ৪ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয় নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারকে আদালত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করে এর প্রতিবাদ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটা চরম অন্যায়। সংবিধানের লঙ্ঘন। এটা বিচার নয়, ক্যামেরা ট্রায়াল। এটা বিচারের নামে প্রহসন।’ কিন্তু প্রতিহিংসাপরায়ণ সরকার ৫ সেপ্টেম্বর কারাগারের ভেতরই আদালত বসায়। এই শুনানিতে বেগম জিয়াকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে উপস্থিত করানো হয়। এর প্রতিবাদে আদালতে তার আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন না। বেগম জিয়া আদালতের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসেননি জানলে আমিও আসতাম না। আমাকে জোর করে আনা হয়েছে। এখানে ন্যায়বিচার নেই। যত ইচ্ছে সাজা দিতে পারেন। আমি অসুস্থ। আমার মেডিক্যাল রিপোর্টগুলো এখানে জমা আছে। আপনারা দেখেন রিপোর্টে কী আছে, আমার অবস্থাটা কী রকম? বারবার আদালতে আসতে পারব না। এভাবে বসে থাকলে আমার পা ফুলে যায়।’ নিষ্ঠুরতা কোন পর্যায়ে গেছে তার এ বক্তব্যই প্রমাণ করে। কারাগারের ভেতর আদালত বসানোর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তার আইনজীবীরা। ইতোমধ্যে এ নিয়ে আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং ৭ সেপ্টেম্বর চারজন সিনিয়র আইনজীবী কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। তারা বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার যে চিত্র তুলে ধরেন তা খুবই মর্মান্তিক। এ খবর দলের নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, সরকার কারাগারে বিনা চিকিৎসায় খালেদা জিয়াকে হত্যার হীন চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, অবিলম্বে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সব দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। সাক্ষাৎকারী আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, আগে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, পরে বিচার। তিনি তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী। চিকিৎসা ও বিচার পাওয়ার তার অধিকার রয়েছে।
৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ জেলে যাওয়ার আগের দিন গুলশান কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি, কোনো দুর্নীতি করেনি।’ বাংলাদেশের মানুষ দেশনেত্রীর এ কথা ১০০ ভাগ বিশ্বাস করে। তারা বিশ্বাস করে খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেননি, দেশের জন্য যে নেত্রী চরম ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তিনি অন্যায় করতে পারেন না। তিনি জুলুমের শিকার হয়েছেন। বড় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আবারো একটি নির্বাচনী প্রহসন করে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার নীলনকশা হিসেবেই অবৈধ ক্ষমতাসীনেরা খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী করে রেখেছে। কারণ খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে তাদের পক্ষে এবার এ নীলনকশা বাস্তবায়ন তথা একতরফা নির্বাচনী প্রহসন করা সম্ভব হবে না।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি কেন এ অমানবিকতা, কেন এই জুলুম? তিনি তো কোনো অপরাধ করেননি, কোনো অন্যায় করেননি। দেশকে তিনি প্রচণ্ড ভালোবাসেন, দেশের জনগণ তাকে প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসে। এটাই কী তার অপরাধ? স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি বন্দিশিবিরে ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে তার রয়েছে অবদান। তার স্বামী শহীদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, জেড ফোর্সের অধিনায়ক ও সেক্টর কমান্ডার হিসেবে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশ গঠনে অতুলনীয় ভূমিকা রেখেছেন। এটাই কি তার অপরাধ? বেগম জিয়া গণতন্ত্রের জন্য তার পুরো রাজনৈতিক জীবন ধরেই সংগ্রাম করছেন, এরশাদ স্বৈরাচারকে হটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন, দেশের দায়িত্বে এসে উন্নয়নে নিরলস ভূমিকা রেখেছেন এবং বর্তমানেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছেন। এই কি তার অপরাধ? আজ তার মতো একজন দেশপ্রেমিক নেত্রীকে এভাবে জেলে বন্দী করে তার প্রতি চরম জুলুম করার পাশাপাশি গণতন্ত্রকেও আজ বন্দী করা হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের এক অনন্য প্রতিষ্ঠানের নাম। আগেই বলেছি, তার আপসহীন আন্দোলনের কারণেই নব্বইয়ের স্বৈরশাসনের অবসান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়। সংসদে বিল এনে তিনিই সংসদীয় গণতন্ত্র ও সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনেন। যমুনা সেতুর মতো বড় বড় উন্নয়ন কাজের বেশির ভাগই হয়েছে তার হাতে। তিনিই দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তিনি তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দুই বার সার্কের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে যে বিপ্লব ঘটেছে সেটা তারই অবদান। তিনি দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। বাংলাদেশের সামাজিক খাতের উন্নয়ন, সামাজিক সূচকগুলোর ভালো রেকর্ডের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অতুলনীয়। খালেদা জিয়ার দৃঢ় মনোভাবের কারণেই এক-এগারোর মইন-ফখরুদ্দীনের জরুরি সরকার জরুরি আইন তুলে নিয়ে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছিল। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রের ব্যাপারে জনগণের প্রধান আশ্রয়স্থল খালেদা জিয়া। আজ তাকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দিয়ে, নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার ষড়যন্ত্র করে, ৩৮টি মামলায় হয়রানি করে এবং জেলে বন্দী রেখে ক্ষমতাসীনেরা আবার নির্বাচন হাইজ্যাক করার ষড়যন্ত্র করলে তার পরিণাম শুভ হবে না, সেটা বুমেরাং হতে বাধ্য। জেলে যাওয়ার আগে এবং জেলের ভেতর থেকে সাক্ষাৎকারী নেতারা ও আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য, দেশকে বাঁচানোর জন্য, দেশের স্বার্থে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করছেন। বেগম জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য দেশবাসী ও নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতেও তিনি আহ্বান জানান। সেই ঐক্য হতে যাচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে জনতার ঢল নেমেছিল। গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়াকে জনগণ আর জেলে দেখতে চায় না। তাকে মুক্ত করে অবিলম্বে তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ বৃথা যাবে না। সুফল নিয়েই তিনি জেল থেকে মুক্ত হবেন। সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার হবে দেশের গণতন্ত্র। হ
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক,
সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাতীয় প্রেস ক্লাব

 


আরো সংবাদ

বিজিএমইএর ব্যাখ্যাই টিআইবি প্রতিবেদনের যথার্থতা প্রমাণ করে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার প্রস্তাব সংসদে নাকচ ঢাকায় সবজি আনতে কিছু পয়েন্টে চাঁদাবাজি হয় : সংসদে কৃষিমন্ত্রী বসার জায়গা না পেয়ে ফিরে গেলেন আ’লীগের দুই নেতা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডিফেন্স কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা আজ জুমার খুতবায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বয়ান করতে খতিবদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান কাল এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনে বাধা নেই জিপিএ ৫ পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী সুপ্রভাত বাসের চালক মালিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পান্না গ্রুপ এশীয় দেশের ঘুড়ি প্রদর্শনী শুরু পল্লবীতে বাসচাপায় পথচারীর মৃত্যুর ৬ মাস পর চালক গ্রেফতার

সকল




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat