১৮ আগস্ট ২০১৯

স্ম র ণ : শামছুল হক

-

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠালগ্নে নাম ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ। শামছুল হক ছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, প্রথম ম্যানিফেস্টো রচয়িতা এবং দলের নামও তিনিই দেন। প্রতিভাদীপ্ত শামছুল হক ১৯১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের এলাসিনে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ গ্রামের নাম মাইঠাইন। মুসলিম লীগের জিন্নাহ, শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিম, মওলানা ভাসানীর মতো প্রবীণ ও সিনিয়র নেতাদের সাথে যে তরুণ নেতৃত্ব সর্বতোভাবে সক্রিয় ছিল, তাদের পুরোভাগে ছিলেন শামছুল হক। যুগপৎ বাংলা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলন, গণতান্ত্রিক শাসনতান্ত্রিক আন্দোলনে এক দশকেরও বেশি সময় অগ্রণী ছিলেন শামছুল হক। ১৯৫৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি যখন ভগ্ন স্বাস্থ্য, ভগ্ন হৃদয় নিয়ে কারাগার থেকে বের হন, তখন আগের সেই শামছুল হক আর নেই। কায়েমি স্বার্থবাদীরা তার মানসিক ভারসাম্য ধ্বংস করে দেয় এবং স্ত্রীর নিরুপায়তার সুযোগে সরকারি বৃত্তি দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
শামছুল হক ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। ১৯৪০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপ্রতিনিধি হিসেবে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের সম্মেলনে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে ঝঃধঃবং-এর পক্ষে মত প্রকাশ করে পূর্ববঙ্গের স্বাধীনতার বীজ বপন করেন, যা ১৯৭১ সালে পূর্ণতা পায়। ভাষা আন্দোলনে বারবার নির্যাতিত এবং ১৯৫২ সালে ১৯ মার্চ গ্রেফতার হন। জেলের ভেতরে তার ওপর অত্যাচার চরমে পৌঁছে। শোনা যায়, তাকে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। জেলে তার মস্তিষ্ক বিকৃতি দেখা যায়। স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে। সরকার অবস্থা বেগতিক দেখে মুক্তি দেন; কিন্তু শামছুল হক স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেননি। রাজনৈতিক ও পারিবারিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে উদভ্রান্তের মতো পূর্ব পাকিস্তানের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়ান। ১৯৬৪ সালের দিকে সর্বশেষ বাড়িতে আসেন, এরপর কেউ তাকে দেখেনি। বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যান তিনি। নিখোঁজ হওয়ার ৪২ বছর পর টাঙ্গাইল থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে যমুনা সেতুর পাশে কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের জোগারচর গ্রামে মৌলভী মহিউদ্দিন আনসারীর পারিবারিক কবরস্থানে তার কবরের সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি ১৯৬৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন।
আমাদের জাতীয় ইতিহাসের নিঃস্বার্থ ত্যাগী নেতা শামছুল হক হারিয়ে গেছেন নীরবে লোক চক্ষুর অন্তরালে। তিনি আবার সুধী মহলে আলোচিত হচ্ছেনÑ এটি শুভ লক্ষণ।
হ ডা: সাইফুল ইসলাম স্বপন


আরো সংবাদ




bedava internet