১৫ নভেম্বর ২০১৮

দৃষ্টিপাত : ঈদে ওদের কথাও ভাবুন

-

সামনেই ঈদ। শিশুদের জন্য আমরা কতটুকু করেছি? রাস্তায় বের হলেই দেখা যায়, অনেক শিশুর পরনে জরাজীর্ণ পোশাক। কেউ বা রাস্তায় মায়ের সাথে ভিক্ষা করে, মা রাস্তার পাশে বসিয়ে দেন ভিক্ষা করার জন্য। কেউ বা ফুল ও পানি বিক্রি করে। শিশুদের অনেকেই টোকাই। কেউ কেউ রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চ টার্মিনাল বা পথেঘাটে জীবন কাটায়। শিশুরা আমাদের সমাজের অংশ। অনেকের পরিবার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত। হয়তো দেখা যাবেÑ পরিবারকে বাবা ফেলে রেখে চলে গেছেন অন্য কোথাও। সেখানে ভিন্ন সংসার পেতেছেন অথবা বাবা মারা গেছেন। কারো মা নেই। এরাই ছিন্নমূল বা সুবিধাবঞ্চিত শিশু। ওদের আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই দেখার। কবি আ শ ম বাবর আলী রাস্তায় একটি ছেলে পেয়েছিলেন, যার কিছুই নেই। তার স্ত্রী ছেলেটিকে স্কুলে ভর্তি করে দেন। অনেক আগে বাবর সাহেবের বাসায় ওকে দেখেছিলাম। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর বিক্রম একটি মেয়ে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন, তার নাম কুশি। তার আপন মেয়ের মতো সে লেখাপড়া করছে অনেক দিন।
এ রকম হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত শিশু আছে এ দেশে। আমরা কয়জনের খোঁজ রাখি? শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। একদিন ওরাই দেশ পরিচালনা করবে। ইউনিসেফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ দেশে ছয় লাখ ৭৯ হাজার ৭২৮টি শিশু রাস্তায় বসবাস করে (দৈনিক ইত্তেফাক, ০১-০১-১৮)। প্রতি ঈদে কিছু লোক ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ঈদের ব্যয়বহুল কেনাকাটা করতে যান। দৃশ্যত বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে; মধ্য আয়ের দেশ হয়েছে; কিন্তু এসব শিশু কোথায় যাবে, কী তাদের ভবিষ্যৎ? তাদের প্রতি সমাজ ও সরকারের দায়িত্ব পালিত হচ্ছে কি? এসব বিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে। প্রতি বছর জাকাত-ফিতরার মাধ্যমে সরকারের পাশাপাশি আমাদেরও সাহায্য করতে হবে ওদের। তা না হলে ওরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তখন হয়তো সামাল দেয়া কঠিন হবে। এর মাশুল দিতে হবে দেশ ও জাতিকে। আন্তর্জাতিক শিশু দিবস উপলক্ষে কথাগুলো বলছি বিশেষভাবে।
আমজাদ হোসেন আলতাফ
বেগুনটাল, থানা ও জেলা : টাঙ্গাইল


আরো সংবাদ